আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ক্ষতি ১৭৩ কোটি টাকা

নওগাঁয় কালবৈশাখী ঝড়ে ৭৩১ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট

জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁ

নওগাঁয় কালবৈশাখী ঝড়ে ৭৩১ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট

নওগাঁয় আগাম কালবৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে কলা, ভুট্টা, গম, আলু ও শাকসবজিসহ ৭৩১ দশমিক ৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কলা বাগানের।

রোববার (১৫ মার্চ) রাতে জেলার ১১টি উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রায় ৩০ মিনিটের ঝড়বৃষ্টিতে ফসলগুলো আক্রান্ত হয়। ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠার পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে চাষিদের পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।

বিজ্ঞাপন

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ২২৫ হেক্টর জমির কলা, ২১৬ হেক্টর জমির ভুট্টা, ২১৬ হেক্টর জমির গম, ২৫ হেক্টর জমির আলু এবং ৪৯ দশমিক ৫ হেক্টর জমির বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির ক্ষতি হয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ১৬৭ কোটি টাকার কলা এবং ৫ কোটি ৮৩ লাখ ২০ হাজার টাকার ভুট্টা পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে।

ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলার বিভিন্ন মাঠ ও বাগান ঘুরে দেখা গেছে, কালবৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে কলা, পেঁপে, ভুট্টা, গম, আলু ও শাকসবজিসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের গাছ মাটিতে পড়ে রয়েছে। কলা বাগানগুলোর অধিকাংশ গাছের মাথা বাতাসে ভেঙে পড়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ কলাই পরিপক্ব হতে শুরু করেছিলো। যা আর এক সপ্তাহ থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই কৃষকের ঘরে উঠার কথা ছিলো। পেঁপে গাছের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। অনেক জমির গমের শীষ ভেঙে হেলে পড়েছে। হেলে পড়েছে ভুট্টার গাছগুলোও। আলু ও শাকসবজির ক্ষেতগুলোতে বৃষ্টির কারণে জমেছে পানি।

বদলগাছী উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের কুশারমুড়ি গ্রামের কলা চাষি জুয়েল রানা বলেন, গত বছর ভালো দাম পাওয়ায় এবার প্রায় ৬ বিঘা জমিতে কলার বাগান করেছি। এক রাতের কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে আমার বাগানের অর্ধেকেরও বেশি গাছ ভেঙে পড়েছে। বেশিরভাগ কলা বাজারে তোলার উপযোগী হয়ে উঠছিলো। আর এক-দুই সপ্তাহের মধ্যেই বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিলো। কিন্তু ঝড়ে সব শেষ হয়ে গেলো। এক রাতের ঝড়ে আমার আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হলো।

নওগাঁ সদর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের চুনিয়াগাড়ী গ্রামের কৃষক আহসান হাবীব বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে আমার ২ বিঘা জমির গম হেলে পড়েছে। এসব গমের শীষ মাত্র পরিপক্ব হওয়ার পথে। এই সময়ে প্রাকৃতির এই দুর্যোগ সব লণ্ডভণ্ড করে দিলো।

সোমবার বিকেলে কৃষি-সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নওগাঁর উপ-পরিচালক হোমায়রা মন্ডল বলেন, রোববার রাতের ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে যেসমস্ত জমির কলা, ভুট্টা এবং পেঁপে আক্রান্ত হয়েছে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া আর সম্ভব নয়। জেলার সকল উপজেলা থেকে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করতে আমাদের কিছুটা সময় লেগেছে।

তিনি আরো বলেন, বৈরী আবহাওয়া শুরু হওয়ায় কৃষকদের পরিপক্ক হওয়া ফল ও ফসল দ্রুত উত্তোলনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বোরো ধান রক্ষায় চাষিদের বেশি সতর্ক হতে বলা হচ্ছে। কারণ এই ধরনের আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে বর্তমানে মাঠে থাকা বোরো ধানে ব্লাস্টের আক্রমণ দেখা দিতে পারে। তাই ধানের শীষ গজানো শুরু করলেই ব্লাস্টের প্রথম স্প্রে দিতে হবে এবং এক সপ্তাহ পর দ্বিতীয় স্প্রে দিতে হবে। এ ব্যাপারে যেনো কৃষকরা কোনভাবেই অবহেলা না করেন সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের উচ্চ পর্যবেক্ষক মাহবুবুল বলেন, রোববার রাত ১০টা থেকে প্রায় ৩০ মিনিটের ঝড়ে নওগাঁয় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হয়। একই সময়ে রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মোট ২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...