নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানা ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ মুজাহিদুল ইসলাম বুলবুল হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার বাদ জুমা রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত এ বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। কুখ্যাত সন্ত্রাসী সিফাত বাহিনীর হামলায় বুলবুল নিহত হয়েছে বলে সমাবেশে জানানো হয়।
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, মুজাহিদুল ইসলাম বুলবুল হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত নৃশংস ও উদ্বেগজনক। চাঁদাবাজির ও মাদক চোরাচালানের প্রতিবাদ করায় একজন সক্রিয় যুবনেতাকে এভাবে হত্যা করে কোনো অপরাধী পার পেতে পারে না। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, নিহত যুবনেতা মুজাহিদুল ইসলাম বুলবুল গত ২০ আগস্ট দায়ের করা একটি বৈষম্যবিরোধী মামলার (মামলা নং-১৪) প্রধান বাদী ছিলেন। ওই মামলায় অভিযুক্ত শেখ সিফাত ৬ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি। জুলাই অভ্যুত্থানের একজন রাজস্বাক্ষীকে হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে জুলাই যোদ্ধারা আবারও রাজপথে নামবে।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার সন্ত্রাস দমন করতে সমর্থ হয়নি। চাঁদাবাজ, ধর্ষক ও মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য আরো বেড়েছে। দেশে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। খুন, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। কোনো অপরাধীর রাজনৈতিক বা অন্য কোনো পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন, মুজাহিদুল ইসলাম বুলবুল ছিলেন ইসলামী যুব আন্দোলনের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ও দায়িত্বশীল যুবনেতা। তাঁর নির্মম হত্যাকাণ্ডে আমরা গভীরভাবে শোকাহত এবং ক্ষুব্ধ। একটি সম্ভাবনাময় জীবনকে এভাবে কেড়ে নেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি বলেন, আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই—বুলবুল হত্যার বিচার নিয়ে কোনো ধরনের টালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধীরা যতই প্রভাবশালী হোক, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের সহকারী মহাসচিব শেখ ফজলুল করীম মারুফ, যুব আন্দোলনের সেক্রেটারি জোনারেল মুফতী মানসুর আহমদ সাকী, মাওলানা ইলিয়াস হাসান, মুফতি আব্দুজ্জাহের আরেফী প্রমুখ। সমাবেশ শেষে মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


