নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন

ডিগ্রি আছে, চাকরি নেই: ভারতে তরুণদের সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

ডিগ্রি আছে, চাকরি নেই: ভারতে তরুণদের সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
ছবি: নিউ ইয়র্ক টাইমস

ভারতে বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দ্রুত বিস্তার হওয়ায় তরুণদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ বেড়েছে। তবে এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শিক্ষাঋণ, বেকারত্ব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ।

নয়াদিল্লির কাছে গ্রেটার নয়ডার ‘নলেজ পার্ক’ এলাকায় পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট এবং প্রযুক্তি ও গবেষণা কেন্দ্র।

বিজ্ঞাপন

‘নলেজ পার্ক’ এলাকায় প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। অনেক পরিবার সঞ্চয় ভেঙে কিংবা ব্যাংকঋণ নিয়ে সন্তানদের এখানকার বেসরকারি কলেজে ভর্তি করাচ্ছে।

গত এক দশকে ভারতে বেসরকারি কলেজের সংখ্যা প্রায় তিন গুণ হয়েছে। ২০২৪ সালে দেশটির উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৪ কোটি ৫০ লাখ—এক দশকে বেড়েছে ৪১ শতাংশ। এর দুই-তৃতীয়াংশের বেশি শিক্ষার্থী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়ছেন।

কিন্তু শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও সে তুলনায় তৈরি হচ্ছে না ভালো বেতনের চাকরি। আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা অনুযায়ী, দেশটির ২৫ বছরের কম বয়সি প্রায় ৪০ শতাংশ স্নাতক বেকার। বছরে ৫০০ ডলারের বেশি বেতনের নতুন চাকরি তৈরি হয় মাত্র প্রায় আড়াই লাখ।

অন্যদিকে, দেশের শীর্ষ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। এসব প্রতিষ্ঠানে পড়ার খরচ তুলনামূলকভাবে কম এবং স্নাতকদের চাকরির সম্ভাবনাও অনেক বেশি। ফলে বাকি শিক্ষার্থীদের বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করে বেসরকারি কলেজে পড়তে হচ্ছে, অথচ সেই বিনিয়োগের বিপরীতে কাঙ্ক্ষিত আয় নিশ্চিত নয়।

শিক্ষা খাতের উদ্যোক্তা অক্ষয় সাক্সেনার মতে, তরুণদের কাছে একটি ভুল ধারণা বিক্রি করা হয়েছে—ডিগ্রি মানেই চাকরি। তার হিসাবে, প্রতি বছর প্রায় ৪ লাখ শিক্ষার্থী ২০ হাজার ডলারের বেশি খরচ করে বেসরকারি প্রকৌশল কলেজে ভর্তি হন, অথচ স্নাতকদের মধ্যম বার্ষিক বেতন প্রায় ৩ হাজার ডলার।

প্রকৌশল ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও পরিস্থিতি বদলেছে। একসময় ইনফোসিস ও টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেসের মতো প্রতিষ্ঠান বিপুলসংখ্যক প্রযুক্তিকর্মীর কর্মসংস্থান করলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতিতে এসব চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

গ্রেটার নয়ডার শিক্ষার্থীদের অনেকেই তাই ঋণের বোঝা ও পরিবারের আর্থিক চাপ নিয়ে উদ্বিগ্ন। কেউ কেউ পড়াশোনার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্স কাজ করে খরচ চালাচ্ছেন। তাদের প্রত্যাশা এখন বড় চাকরি নয়—শুধু এমন একটি আয়, যাতে শিক্ষাঋণ পরিশোধ করে পরিবারের ওপর চাপ কমানো যায়।

এই পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের তরুণদের মধ্যে ক্ষোভও বাড়ছে। সাম্প্রতিক ছাত্রবিক্ষোভে পরীক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের দাবির পাশাপাশি চাকরি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষার বিস্তার যদি কর্মসংস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে উচ্চশিক্ষা তরুণদের জন্য সামাজিক উন্নতির সিঁড়ির বদলে ঋণ ও হতাশার ফাঁদে পরিণত হতে পারে।

আরএ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন