চুয়াডাঙ্গায় নির্বাচনি জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী হিমালয় পর্বতের সামনেও মাথা নত করেনা। মাথানতো করে শুধু মহান আল্লাহ তালার সামনে। সুতরাং আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়ে কোনো লাভ নেই। মনে রাখবেন, আমাদের জীবনের চাইতে আমাদের মা-বোনদের ইজ্জতের দাম আমাদের কাছে অনেক বেশি। বেয়াদবি করলে আগুনের ফুলকি দেখতে পাবেন। যদি কেউ ফ্যাসিবাদী চেহারা নিয়ে আমাদের সামনে আসে, ২৪ এর ফ্যাসিবাদকে দেশের সম্মিলিত জনগণ যেভাবে লাল কার্ড দেখিয়েছে, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনেও সেভাবেই লাল কার্ড দেখানো হবে।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠে ১১ জোটের নির্বাচনি জন সভায় জামায়াতের আমির প্রধান অতিথির বক্তব্য এ সব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেছেন, প্রিয় চুয়াডাঙ্গাবাসী, একদিনে দুটি ভোট হবে। একটি হচ্ছে সংস্কারের পক্ষে হ্যাঁ ভোট। আরেকটি হচ্ছে পরিবর্তনের বাংলাদেশের পক্ষের ভোট। হ্যাঁ মানে আজাদী, না মানে গোলামী। আজাদী না গোলামী?... আজাদী। গোলামী না আজাদী?....আজাদী। দুই ভাবেই দিয়ে দেখলাম জনগণ সচেতন মাশাল্লাহ। জনগণ আওয়াজ দিতে উল্টা পাল্টা করে নাই। তার মানে ভোটের বুথে ঢুকে প্রথম ভোটটি শক্ত করে মারতে হবে হ্যাঁ ভোটের ওপর।
তিনি আরো বলেন, শহীদ ওসমান হাদী জুলাই আন্দোলনের আরেক নায়ক। আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বজ্রকণ্ঠ। কখনো আপোস করে কথা বলে নাই, তাকে সহ্য করতে না পেরে দুনিয়া থেকে তাকে উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যারা জনগণের সম্পদ চুরি করেছে, লুটপাট করেছে, বিদেশে বেগম পাড়া তৈরি করেছে, নিজেদের জন্য সিঙ্গাপুর এবং কানাডা বানিয়েছে আর বাংলাদেশকে সমুদ্রের তলে ডুবিয়ে দিয়েছে। আমরা ওই সমুদ্রের তলদেশ থেকে বাংলাদেশকে উপরে উঠাতে চাই। জামায়াত ইসলামী ক্ষমতায় গেলে কোনো নেতাকর্মীর সম্পদ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে না। এ জনপ্রতিনিধিরা প্রতিবছর জনগণের সামনে তাদের ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব দিতে বাধ্য থাকিবে।
জেলা জামায়াতের আমীর ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামী নির্বাহী পরিষদের সদস্য যশোর -কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোহাম্মদ মোবারক হোসাইন বলেন, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আগামীতে বাংলার জনগণ জামায়াতকে ক্ষমতা দেখতে চাই। ১১ দলীয় জোট দল বিজয় হলে ডা: শফিকুর রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী এ্যাড. আসাদুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সেক্রেটারী সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ইসলামী ছাত্র শিবির কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার সম্পাদক মোঃ আমিরুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অ্যাডঃ মাসুদ পারভেজ রাসেল, এ.বি পার্টির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক অ্যাডঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, এন,সি,পির যুগ্ম সদস্য সচীব মোল্লা মো:মোহাম্মদ ফারুক এহসান
চুয়াডাঙ্গা জেলা সভাপতি আলমগীর হোসেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চুয়াডাঙ্গার আহ্বায়ক তানভীর রহমান অনিক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা জুবায়ের খান, এনসিপির চুয়াডাঙ্গা জেলা সেক্রেটারি( প্রস্তাবিত) সোহেল পারভেজ, চুয়াডাঙ্গার ওয়ারিয়র্স অব জুলাইয়ের আহ্বায়ক মাহফুজ হোসেন।
এর আগে বেলা ৩টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। শুরুতেই উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা আজিজুর রহমান। এছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক জেলা আমীর আনোয়ারুল হক মালিক, ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি সাগর আহমেদসহ উপজেলা আমির ও জেলা কর্ম পরিষদ সদস্যরা।
এর আগে বেলা ২ টার দিকে জামায়াতের আমীর হেলিকপ্টার যোগে চুয়াডাঙ্গা চাঁদমারি মাঠে এসে পৌঁছানো। সেখানে স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানান। এদিকে জামায়াতের আমীরের আগমন উপলক্ষে বেলা ৩ টা থেকে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে চুয়াডাঙ্গার ঐতিহাসিক টাউন ফুটবল মাঠে জড়ো হতে থাকেন। ডা. শফিকুর রহমান টাউন মাঠে পৌঁছানোর পূর্বেই মাঠ মানুষের পদভারে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
নির্বাচনি সভা শেষে জনসভায় আগত নেতা কর্মীদের উপস্থিততে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের প্রার্থী এ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের প্রার্থী রুহুল আমিনের দাঁড়িপাল্লা প্রর্তীক তুলে দেন জামায়াতের আমীর। এ সময় তিনি আগামী ১২ফ্রেব্রুয়ারী সংসদ নির্বাচনে ইনসাফের প্রর্তীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

