বাংলাদেশ ইসলামী মহিলা মজলিসের উদ্যোগে ’আদর্শ সমাজ গঠনে মহানবী স. এর জীবনাদর্শ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তুলতে নারীদের ভূমিকা পুরুষের চেয়ে কোন অংশে কম নয়।
তারা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর যুগে মুসলিম নারীরা ইসলামী সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তারা জ্ঞানচর্চা, হিজরত, যুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং নৈতিকতা প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ছিলেন।
শুক্রবার সকাল ১০টায় রাজধানীর তোপখানা রোডের ডিসিসি হলে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভানেত্রী নাসরিন কাদেরের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদিকা রায়হানা মালিক লোপার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির আলোচনা করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ উম্মে মাহদী।
আলোচনা সভায় নেতারা আরো বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) দেড় হাজার বছর পূর্বে মদিনায় ইনসাফ, মানবাধিকার, সুশাসন, শিক্ষা ও নৈতিক উৎকর্ষতার যে সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তুলেছিলেন তা বিশ্ববাসীর জন্য আজও সবচেয়ে বেশি অনুকরণীয়। সেখানে বর্ণ, গোত্র বা সামাজিক পদমর্যাদার ঊর্ধ্বে উঠে তিনি সমাজে সব মানুষের সমান অধিকার ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা কায়েম করেন। শাসক বা প্রশাসকদের জন্য জনকল্যাণ, নম্রতা ও ইনসাফকে বাধ্যতামূলক করেন। ঐতিহাসিক মদিনা সনদ প্রণয়নের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন গোত্র ও ধর্মের মানুষের মধ্যে নাগরিক অধিকার, স্বাধীনতা ও পারস্পরিক সহাবস্থান নিশ্চিত করেন।
তারা বলেন, একটি আদর্শ ও সুখী পরিবার গঠনে নারীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মা হিসেবে একজন নারী হলেন সন্তানের প্রথম শিক্ষক, নৈতিকতার আধার এবং একটি সুস্থ পরিবারের মূল ভিত্তি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, স্ত্রী তার স্বামীর পরিজনবর্গ এবং সন্তানদের তত্ত্বাবধানকারিণী। তিনি আরো ঘোষণা দিয়েছেন, মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত। একটি আদর্শিক পরিবার গড়ে তুলতে নারীকে একজন আদর্শ স্ত্রী, আদর্শ মা এবং আদর্শ গৃহব্যবস্থাপক হওয়ার জন্য ইসলাম সবচেয়ে বেশি উৎসাহিত করেছে। পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রয়োজনে পর্দা ও শালীনতার সাথে যখাযথ ভূমিকা পালনেরও সুযোগ দিয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


