রাজধানীর শাহবাগ থানার ভেতরে ছাত্রদলের হামলায় আহত ডাকসু নেতাদের শারীরিক খোঁজ-খবর নিতে হাসপাতালে ছুঁটে যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি।
শুক্রবার বিকেলে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারে যান এবং আহত ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জোবায়ের, মাস্টারদা' সূর্য সেন হল সংসদের সদস্য মো. সাইয়েদুজ্জামান নূর আলভী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪/২৫ বর্ষের শিক্ষার্থী তানজিমুল ইসলামের শারীরিক খোঁজ-খবর নেন এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম, মহানগরী দক্ষিণের সহকারী মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমন, ইসলামী ছাত্র শিবিরের ঢাকা মহানগরী পূর্ব সেক্রেটারি ও ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, পল্টন থানা আমির অ্যাডভোকেট মারুফুল ইসলাম, শাহবাগ পশ্চিম থানা আমির অ্যাডভোকেট শাহ মাহফুজুল হকসহ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা।
হাসপাতালের বাহিরে অবস্থানরত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, সন্ত্রাসীদের পরিচয় যাই হোক তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই, থাকতে পারে না। যদি সরকার এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার না করে তবে প্রমাণ হয় সরকার সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দাতা।
শাহবাগ থানা পুলিশ সন্ত্রাসীদের সহযোগী হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে উল্লেখ করে সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল, শাহবাগ থানার ওসিসহ ঘটনার সময় থানায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের বিচারের দাবি জানান। তিনি বলেন, এ ঘটনা কোনো ছোটখাটো ঘটনা নয়। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত প্রত্যেকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
তিনি প্রশ্ন রাখেন, কারা ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের খবর দিয়ে থানায় এনে ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে?- তিনি বলেন, একটি ফেইক নিউজকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী ছাত্রকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সেই হুমকির প্রেক্ষিতে ঐ ছাত্র তার দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে শাহবাগ থানায় জিডি করতে গিয়েছিল। কিন্তু পুলিশ তার জিডি গ্রহণ না করে তাদেরকে থানার ভেতরে দেড় ঘণ্টা বসিয়ে রাখে। এবং পরবর্তীতে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা থানায় এসে পুলিশের উপস্থিতিতে ডাকসু নেতাদের ওপর হামলা চালায়।
এ ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ঘটনার সময় সাংবাদিকেরা সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের ওপরও হামলা চালিয়ে ১২ জন সাংবাদিককে আহত করে। যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত করার শামিল। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনতে সরকারের প্রতি দাবি জানান।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

