আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

শাসনতান্ত্রিক সংস্কার ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে ইশতেহারে যা বলছে জামায়াত

স্টাফ রিপোর্টার

শাসনতান্ত্রিক সংস্কার ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে ইশতেহারে যা বলছে জামায়াত

ইশতেহারে আট ভাগে ৪১ দফা প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। এরমধ্যে প্রথমভাগে জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষায় একটি বৈষম্যহীন, শক্তিশালীও মানবিক বাংলাদেশ অঙ্গীকার করা হয়েছে। এতে ১. শাসনব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার; ২. রাজনৈতিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন; ৩. কার্যকর জাতীয় সংসদ; ৪. নির্বাচনি ব্যবস্থার সংস্কার; ৫. সুশাসন নিশ্চিতে জবাবদিহিতামূলক জনপ্রশাসন; ৬. স্থানীয় সরকারব্যবস্থা; ৭. দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ; ৮ স্বরাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলার মৌলিক উন্নয়ন; ৯. আইন ও বিচারব্যবস্থা; ১০. তথ্য ও গণমাধ্যম।

জামায়াতের ভিশনে সুশাসন নিশ্চিতকরণও শাসনব্যবস্থার মৌলিক সংস্কারের অঙ্গীকারে বলা হয়, জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ও জুলাই সনদের আলোকে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে শাসনব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কাঠামোতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন নিয়ে আসা হবে। একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে যেসব আইন ও নীতিমালায় বৈষম্য বিদ্যমান, সেগুলো দ্রুত সংস্কার বা বাতিল করা হবে। সৎ, দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে সরকার পরিচালিত হবে। সকল তাবে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করা হবে। তরুণদের দেশ পরিচালনায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। জামায়াত সরকার গঠন করলে মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে যোগ্য ও প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ-তরুণীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। শাসনক্ষমতাকে জনগণের পক্ষ থেকে একটি আমানত হিসেবে বিবেচনা করা হবে, যা একজন নাগরিক নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধিদের ওপর অর্পণ করেন। ৬৪ জেলা শহর এবং ৫০০ উপজেলা ও ছোট শহরকে পরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে তোলা হবে। রাজধানী ঢাকাকে একটি স্মার্ট রাজধানী এবং কমার্শিয়াল সেন্টার চট্টগ্রামকে যুগোপযোগী ও সুপরিকল্পিত নগর নগর হিসেবে গডে গড়ে তোলার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়মতান্ত্রিক জবাবদিহিতার পাশাপাশি দলের পক্ষ থেকে একটি স্বাধীন জবাবদিহিমূলক কাউন্সিল গঠন করা হবে, যেখানে প্রতি মাসে সংশ্লিষ্টরা তাদের কাজের অগ্রগতির প্রতিবেদন ও সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেবেন। উন্নয়ন পরিকল্পনা হবে সারাদেশব্যাপী, সকলের অংশগ্রহণমূলক, টেকসই, পরিবেশবান্ধব এবং জনগণের মৌলিক প্রয়োজন এবং ভবিষ্যতের লক্ষ্যভিত্তিক। নারীদের মধ্য থেকে মন্ত্রিসভায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ১০ অন্যান্য ধর্মাবলম্বী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব থাকবে মন্ত্রিসভায়।

বিজ্ঞাপন

দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ভিশনে বলা হয়- দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। যেকোনো স্তরে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পদ্ধতিগত সংস্কার বাস্তবায়ন; প্রশাসনের সকল স্তরে সেবাসমূহ ডিজিটালাইজ করে সরাসরি যোগাযোগ ও তদবির বন্ধ করা; শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক শিক্ষা, নৈতিক নেতৃত্ব এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা সংবলিত পাঠ্যক্রম যুক্ত করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সৎ ও মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা; সরকারি দপ্তরের সর্বত্র সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে, যাতে সকল কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা; দুর্নীতির জন্য শাস্তি নিশ্চিতে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে শাস্তি কার্যকর করা; দুর্নীতিবাজদের অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবো; দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও সিভিল সোসাইটি সমূহের ভূমিকা আরও সক্রিয় করতে আইনি ও নীতিগত সহায়তা প্রদান করা; মন্ত্রী ও এমপিসহ সকল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বার্ষিক সম্পদ বিবরণী জনসাধারণের সামনে পেশ করতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এবং দুর্নীতিরোধে সকল পর্যায়ের কাঠামোগত পর্যালোচনা করে দুর্নীতি সুযোগগুলোকে প্রতিরোধ করা হবে। বড় বড় দুর্নীতির উৎসসমূহ পর্যালোচনা করে প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...