ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বুধবার ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু বিচ্ছন্ন ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনাকে পুঁজি করে ইসলামপ্রিয় মুসলিমদের বিপরীতে খড়গহস্ত হয়েছেন দেশটির প্রশাসন ।
কর্ণাটকের কারওয়ার জেলার আঙ্কোলা শহরে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলেক্ষ আয়োজিত একটি মিছিলে ফিলিস্তিনি পতাকা ওড়ানো অভিযোগ আনা হয়েছে । কৃষ্ণাপুরের ভিঠালঘাটের বাসিন্দা মোহাম্মদ রাজা আকবর আলী নামের এক ব্যক্তি মিছিলে পতাকাটি নিয়ে এসে ওড়ান। পুলিশ পতাকা ওড়ানোয় তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।
ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ গিরিশ জানান যে আকবর আলীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যেও একই ধরনের ঘটনা সামনে এসেছে। যেখানে ইসলামপুর জেলায় একটি মিছিলে ফিলিস্তিনি পতাকা ওড়ানো হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক্স-এ একটি পোস্টের মাধ্যমে ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন, যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে ঈদ উদযাপনের সময় রাজ্য জুড়ে পুলিশ দুটি বিদেশি পতাকা জব্দ করেছে। পুলিশ দোষীদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে।
এছাড়া, ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন উপলক্ষে উত্তর প্রদেশের বাদাউনে, শিশুসহ মুসলমানদের মিছিল চলাকালে গান গাওয়া এবং অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে। মিছিলের ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু মুসলিম পুরুষ ও একটি মুসলিম শিশু একটি চলন্ত গাড়ির উপরে বসে ছুরি নাড়াচ্ছে এবং গান গাচ্ছে। যেখানে গানের কথাগুলো হলো ‘বেগুনাহো পে সিতম ধানে ওয়ালে, তেরি হস্তি না মিতা দু তো ম্যায় মুসলমান নহি’ (যারা নিরীহদের উপর অত্যাচার করে, তাদের নির্মূল না করলে আমি প্রকৃত মুসলমান নই)।
ভারতের আইনে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট ধারা বা নিষেধাজ্ঞা নেই যা ফিলিস্তিনের মতো বন্ধুভাবাপন্ন দেশের পতাকা প্রদর্শনকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। নয়াদিল্লিতে ফিলিস্তিনের দূতাবাসও রয়েছে। তারপরেও ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ানোকে নিয়ে মুসলিমেদের আটক এক অর্থে ইসলামবিদ্বেষেরই নামান্তর। ভারতে প্রতিনিয়তই বাড়ছে মুসলিমদের ওপর নির্যাতন।
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


