বাংলাদেশ-ভারত অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন ও সমসাময়িক প্রেক্ষাপট নিয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি চুক্তির কাঠামোগত দুর্বলতা তুলে ধরে তা পুনঃআলোচনার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ পুনরুদ্ধার এবং আগামী বছর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প দৃশ্যমান করার অঙ্গীকার করেছে সরকার।
মঙ্গলবার ধানমন্ডির বিলিয়া অডিটোরিয়ামে (সোহরাওয়ার্দী ভবন) ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল’ অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স’ (বিলিয়া)—এর উদ্যোগে ‘গঙ্গা পানি চুক্তি: পুনঃআলোচনার বিষয়াবলী’ শীর্ষক এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. শহিদুদ্দিন চৌধুরী, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, এমপি। বিলিয়ার চেয়ারম্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান-এর সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়। এছাড়া স্বাগত বক্তব্য দেন বিলিয়ার অনারারি ডিরেক্টর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন প্রফেসর মুহাম্মদ একরামুল হক।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। ‘গঙ্গা চুক্তি: প্রয়োজন নতুন ভাবনা’ শীর্ষক প্রবন্ধে তিনি বলেন, গ্যারান্টি ক্লজের তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৯৬ সালের চুক্তিতে ন্যূনতম পানিপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা না থাকায় বাংলাদেশের হিস্যা প্রায় ৬.৫২ শতাংশ কমেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৮ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ২৭টি সংকটকালীন সময়ের ১৫ বারই বাংলাদেশ ন্যূনতম পানিপ্রবাহ পায়নি।
অধ্যাপক আসিফ নজরুল তার প্রবন্ধে কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরেন। যার মধ্যে রয়েছে— তথ্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, গ্যারান্টি ক্লজ পুনরুদ্ধার, বাংলাদেশ-ভারত-নেপালের সমন্বয়ে বহুপাক্ষিক অববাহিকা ব্যবস্থাপনা এবং যৌথ নদী কমিশনকে কার্যকর করা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহিদুদ্দিন চৌধুরী আগামী বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাস নাগাদ পদ্মা ব্যারেজের পরিকল্পনা কার্যকর ও দৃশ্যমান করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, এই ব্যারেজের সঙ্গে দেশের ২৪ থেকে ২৬টি জেলার প্রায় সাত কোটি মানুষের স্বার্থ জড়িত রয়েছে। আগামী মাসে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে এই পানি চুক্তির ব্যাপারে বাংলাদেশের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়া তিনি অধ্যাপক আসিফ নজরুলের সঙ্গে একমত পোষণ করে জানান, ভবিষ্যৎ সব চুক্তিতে তথ্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বাতিল হওয়া ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ পুনরুজ্জীবিত করা হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ দেশের ৫৪টি নদীর নাব্যতাহীনতার চিত্র তুলে ধরে ভবিষ্যৎ পানির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
নির্ধারিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এম. ফিরোজ আহমেদ। তিনি IWRM (Integrated Water Resource Management)-এর কাঠামো অনুযায়ী প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পানির সঠিক চাহিদা নিরূপণ করে জোরালো দাবি উত্থাপনের ওপর জোর দেন।
সেমিনারের শেষ পর্যায়ে একটি উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, আইনজীবী, কূটনীতিক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে মতামত ও প্রশ্ন উত্থাপন করেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


