ট্যাক্স আদায় ৯ লাখ, জমা সাড়ে ৫ লাখ

নীলগঞ্জ ইউপির বাকি টাকা গেল কোথায়

 নীলগঞ্জ ইউপির বাকি টাকা গেল কোথায়
ছবি: আমার দেশ

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে চলতি বছরের হোল্ডিং বা খানা ট্যাক্স আদায়ে বড় ধরনের গরমিলের অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ড থেকে ৯ লাখ টাকার বেশি ট্যাক্স আদায় হলেও পরিষদের হিসাবে জমা হয়েছে মাত্র ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা—এমন অভিযোগ করেছেন ইউপি সদস্য, গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

ফলে মাঠপর্যায়ে আদায় করা বাকি সাড়ে ৩ লাখ টাকা বা তারও বেশি অর্থের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আদায়কৃত অর্থের সঙ্গে পরিষদের হিসাবে জমা দেওয়া অর্থের এই পার্থক্যের প্রকৃত কারণ কী—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ উঠেছে, ট্যাক্স আদায় ও অর্থ জমার প্রক্রিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হাসনাত টিটুর ভূমিকা নিয়েও স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। একই সঙ্গে পরিষদের প্রশাসক নাহিদুল ইসলাম এ বিষয়ে কতটা অবগত ছিলেন এবং আদায়কৃত অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব কীভাবে যাচাই করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রাম পুলিশরা। তবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রশাসক ও সচিব। তাদের দাবি, তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে পাওয়া হিসাব অনুযায়ীই পরিষদে টাকা জমা হয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনার জন্য উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নাহিদুল ইসলামকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। চলতি বছর ইউনিয়নের হোল্ডিং বা খানা ট্যাক্স আদায়ের জন্য তৃতীয় একটি পক্ষকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। নির্ধারিত কমিশনের বিনিময়ে ওই পক্ষ ইউনিয়নের বিভিন্ন খানা থেকে ট্যাক্স আদায় করে পরিষদে জমা দেওয়ার কথা।

অভিযোগ রয়েছে, ট্যাক্সের টাকা ও হিসাব বুঝে নেওয়ার দায়িত্ব সচিবকে দেওয়া হলেও আদায়কৃত অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। এমনকি তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে টাকা বুঝে নেওয়া এবং রিসিভে জমা দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে ট্যাক্স আদায়ের পর প্রকৃতপক্ষে কত টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পরিষদের হিসাবে কত টাকা জমা দেওয়া হয়েছে—এ দুই হিসাবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন—মাঠপর্যায়ে আদায় হওয়া অর্থের সঙ্গে পরিষদের হিসাবে জমা দেওয়া অর্থের এই পার্থক্য কেন? প্রকৃতপক্ষে কত টাকা আদায় হয়েছে, কত টাকা পরিষদের তহবিলে জমা পড়েছে এবং অবশিষ্ট অর্থের কী হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশদের দাবি, নয়টি ওয়ার্ড থেকে ৯ লাখ টাকার বেশি ট্যাক্স আদায় করা হয়েছে। কিন্তু পরিষদের হিসাবে জমা হয়েছে মাত্র ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এতে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা বা তারও বেশি অর্থের হিসাব অমিল রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন গ্রাম পুলিশ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্স আদায়ের অর্থ থেকে তাদের বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন ব্যয় নির্বাহ করা হয়। মাঠপর্যায়ে যে পরিমাণ টাকা আদায় হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন, পরিষদের হিসাবে তার তুলনায় অনেক কম টাকা জমা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত হিসাব প্রকাশের দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. হাসনাত টিটু জানান, তিনি রিসিভে যে পরিমাণ টাকা পেয়েছেন, সেটিই পরিষদের হিসাবে জমা দিয়েছেন। এর বাইরে তিনি কিছু জানেন না।

তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে টাকা বুঝে নেওয়া এবং রিসিভ জমা দেওয়ার সময় ইউপি সদস্য বা গ্রাম পুলিশদের অবহিত করা হয়নি কেন—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসক অবগত আছেন।’

নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. নাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে সচিব বলতে পারবেন। তৃতীয় পক্ষ সচিবকে যে হিসাব দিয়েছে, সেটার পরিমাণ হয়তো সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার মতো। প্রকৃতপক্ষে কত টাকা আদায় হয়েছে, সেটা তৃতীয় পক্ষ ও গ্রাম পুলিশ বলতে পারবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ট্যাক্স সংগ্রহের জন্য যাদের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে, তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। আবারও তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। বিধিবহির্ভূত কিছু হয়ে থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, বাকি টাকাগুলো কোথায় গেছে, সেটা জানতে হবে। তিনি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখবেন বলে জানান।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন