তুরস্কের কাছে গিয়ে পড়ল ইসরাইলের বোমা, উত্তেজনা

তুরস্কের কাছে গিয়ে পড়ল ইসরাইলের বোমা, উত্তেজনা
ছবি: সংগৃহীত।

তুরস্ক সীমান্তের কাছে সিরিয়ার ইদলিবে আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। বিমানবন্দরটি তুরস্ক সীমান্ত থেকে মাত্র ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সিরিয়ায় ইসরাইলি হামলাকে কেন্দ্র করে তুরস্কের সঙ্গে উত্তেজনা আরো বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও সিরিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত টম ব্যারাক।

মঙ্গলবার আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে ইসরাইলি বাহিনী হামলা চালায়। রানওয়ে সংস্কারের কাজ দেখতে তুরস্কের একটি সামরিক প্রতিনিধিদল ঘাঁটিটি পরিদর্শনের পরই হামলা চালানো হয়। ইসরাইলের দাবি, সিরিয়ার বিমানঘাঁটিতে তুরস্কের সেনা মোতায়েনের সুযোগ ভালোভাবে নিচ্ছে না তারা। এর প্রতিক্রিয়ায় হামলা হয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ইসরাইল।

বিজ্ঞাপন

ব্যারাক জানান, হামলার আগে তুরস্ককে সতর্ক করা হয়নি। ফলে তারা ভুল করে হামলাটিকে নিজেদের ওপর আক্রমণ মনে করে পাল্টা বিমান পাঠাতে পারত। তবে হামলায় কোনো প্রাণহানি না হওয়ায় এবং পরিস্থিতি বড় সংঘাতে না গড়ানোয় তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন।

মার্কিন এই দূত বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইসরাইল, সিরিয়া ও তুরস্কের মধ্যে একটি সমন্বয় বা ‘ডিকনফ্লিকশন’ ব্যবস্থা জরুরি। ভবিষ্যতে ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে। তার মতে, এই মুহূর্তে উত্তেজনা কমানো এবং আরো সংযত পদক্ষেপের সুযোগ তৈরি করাই অগ্রাধিকার।

তার মতে, হিব্রু, আরবি, ইংরেজি ও তুর্কি ভাষায় দক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে ২৪ ঘণ্টার একটি স্থায়ী যোগাযোগকেন্দ্র থাকলে ভবিষ্যতে ভুল বোঝাবুঝি ও সামরিক উত্তেজনা কমানো সম্ভব।

তিনি আরো বলেন, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সরকার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আগ্রাসী উদ্দেশ্য পোষণ করে না এবং নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষাই তাদের লক্ষ্য। তাই আলোচনার মাধ্যমে একটি কার্যকর উত্তেজনা প্রশমন ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে অঞ্চলটিতে স্থিতিশীলতা বাড়বে।

এর আগে আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে ইসরাইলি হামলার খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বারাক এটিকে ‘অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা বৃদ্ধি’ বলে মন্তব্য করেন।

তুর্কি সামরিক উপস্থিতি নিয়ে ইসরাইলের উদ্বেগ

সিরিয়ার বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে তুর্কি সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন ইসরাইল-সিরিয়া আলোচনার অন্যতম প্রধান বিরোধের বিষয়। বিশেষ করে দামেস্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তুরস্কের উন্নত রাডার ব্যবস্থা স্থাপন নিয়ে ইসরাইল উদ্বিগ্ন। ইসরাইলের আশঙ্কা, ১৫০–২০০ কিলোমিটার পাল্লার এই রাডার সিরিয়ার আকাশে ইসরাইলি বিমানবাহিনীর চলাচলের স্বাধীনতা সীমিত করতে পারে।

তবে বারাকের দাবি, বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় রাডার ব্যবস্থা ইসরাইলের জন্য নিরাপত্তা হুমকি নয়। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আরো আলোচনা হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উদ্বেগ দূর করা সম্ভব।

বারাকের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের তাৎক্ষণিক লক্ষ্য হলো তুরস্ক ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং অনিচ্ছাকৃত সামরিক সংঘাত ঠেকানো। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে এ সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব।

সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট

আরএ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন