আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

বিএনপি সংস্কার পরিষদের শপথ না নেয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে: মাসুদ সাঈদী

স্টাফ রিপোর্টার

বিএনপি সংস্কার পরিষদের শপথ না নেয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে: মাসুদ সাঈদী

পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেছেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের যে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে বিএনপির মতো বৃহৎ দল শুরুতেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেয়ায় জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বিএনপি জুলাই সনদে বিশ্বাসী কিনা, গণঅভ্যুত্থানের গণআকাঙ্খার প্রতি শ্রদ্ধাশীল কিনা, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করে নতুন এক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবে কিনা - এসব প্রশ্ন এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে।

রোববার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

বিজ্ঞাপন

মাসুদ সাঈদী আশা প্রকাশ করে বলেন, সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিএনপি জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং গণভোট ২০২৬ এর গণরায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে জুলাই সনদে উল্লিখিত বিধান সমূহ বাস্তবায়ন করবে। গণভোটে দেশের ৭০ ভাগ মানুষ ‘হ্যাঁ’–এর পক্ষে রায় দিয়েছে। দুটো ভোট একসঙ্গে হয়েছে, একসঙ্গে ফল প্রকাশ হয়েছে, গেজেটও একই সাথে প্রকাশিত হয়েছে। তাহলে একটি বাস্তবায়ন হলো অপরটি হলো না কেন? জনগণের ভোটে পাস করার ওপর সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এটি বাস্তবায়ন করা।

বাংলাদেশকে একটি স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে সমাজের প্রত্যেকটি স্তরে ইনসাফ কায়েমের আহ্বান জানিয়ে মাসুদ সাঈদী বলেন, ইনসাফ কায়েম ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়তে হলে এখনই কিছু সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত রাখার ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে কোনো সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়। এছাড়া সমাজ থেকে দুর্নীতি নির্মূল করতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি গ্রহণ করতে হবে।

তিনি বলেন, দুর্নীতি পুরোপুরি বন্ধ করা না গেলেও দুর্নীতি নির্মূলের জন্য এর শিকড়ে হাত দিতে হবে। মন্ত্রী, এমপি, আমলা কিংবা সমাজের প্রভাবশালী যে কেউই হোক না কেন- দুর্নীতি করলে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে কবে।

তিনি বলেন, দেশের জনগণের কষ্টার্জিত টাকা অপচয় রোধে জামায়াতের সংসদ সদস্যদের ঘোষণার পর বিএনপি দলীয়সহ অন্যান্য সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়িসহ সব বিশেষ সুবিধা বর্জনের যে সংস্কৃতি শুরু হয়েছে, তাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে।

জামায়াতের এই এমপি বলেন, জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে ইসলামের ঐতিহাসিক নির্দেশনা অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং মানবিক। ইসলামের দৃষ্টিতে রাষ্ট্র কেবল শাসন করার যন্ত্র নয়, বরং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও ইনসাফ অর্থাৎ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একটি মাধ্যম।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর স্বাক্ষরিত 'জুলাই জাতীয় সনদ' বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। এই সনদটি মূলত দেশবাসী ও বিপ্লবী ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষােই প্রতিফলন। আমরা দেখেছি, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলো শুরু থেকেই জুলাই সনদের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছে এবং এতে স্বাক্ষর করে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু সরকার গঠনের পর সেই বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে দেশের মানুষকে চরমভাবে হতাশ করেছে।

মাসুদ সাঈদী সব সংসদ সদস্যের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন আমরা সবাই মিলে এই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে একটি প্রকৃত অর্থেই 'জনগণের সংসদ' হিসেবে গড়ে তুলি। আমরা আর কোনো প্রতিহিংসার রাজনীতি চাই না, আর কোনো হানাহানির রাজনীতি চাইনা। আমরা চাই সাম্য ও ঐক্যের রাজনীতি। আমরা চাই উন্নয়ন ও ইনসাফের রাজনীতি। অনেক ত্যাগ তিতিক্ষা ও রক্তের বিনিময়ে গড়ে উঠেছে আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এই জাতীয় সংসদ। এই সংসদের সম্মান রক্ষা করার দ্বায়িত্ব আমাদের সকলের। আসুন দেশকে ভালোবেসে, দেশের স্বাধীনতাকে ভালোবেসে, দেশের উন্নয়নের জন্য আমরা যার যার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করি।

বক্তব্যের শুরুতেই তিনি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সফল গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ হাজারো শহীদ ও আহত যোদ্ধাদের স্মরণ করেন। এছাড়া বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সিলেট-২ আসনে দুই দুবাবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা ওয়ালিউল্লাহ এবং আল-মুকাদ্দেসসহ ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার রাজনৈতিক রোষানলে গুম হওয়া ব্যক্তিদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

একইসঙ্গে তিনি ‘তথাকথিত ক্যাঙ্গারু ট্রাইবুনালে শতাব্দীর সব নিকৃষ্ট মিথ্যাচারের মাধ্যমে, মিথ্যা মামলা ও মিথ্যা সাক্ষীর ভিত্তিতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হওয়া ভাষাসৈনিক শহীদ গোলাম আযম, বিশ্বনন্দিত মুফাসসির কোরআনের পাখি ও নিজের পিতা শহীদ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, মাওলানা আব্দুস সোবহান, আলী আহসান মো. মুজাহিদ, কামারুজ্জামান, আব্দুল কাদের মোল্লা, মীর কাসেম আলী সহ যাদেরকে অন্যায়ভাবে কারাগারে রেখে অথবা ফাসি দিয়ে হত্যা করা হয়েছিল, তাদেরকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...