জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনায় জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশের পক্ষে জনগণ রায় দিয়েছে। জনগণের রায়কে অসাংবিধানিক বলা ধৃষ্টতাপূর্ণ, সংসদকে কলঙ্কিত করা। গণভোট অধ্যাদেশ সংসদে অনুমোদন করা হোক না হোক গণভোটকে অবৈধ করার কোনো সুযোগ নেই।
মঙ্গলবার সংসদে আলোচনকালে আখতার হোসেন আরও বলেন, তারেক রহমান আমাদের প্রধানমন্ত্রী। তিনি ৩০ জানুয়ারি রংপুরে আবু সাঈদের জন্মভূমিতে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, দয়া করে গণভোটে “হ্যাঁ” দিন। দয়া করে গণভোটে “হ্যাঁ” দেওয়ার কথা বলে তারা এখন এসে গণভোটের রায় কেন মানতে চান না সেই প্রশ্নটা আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে করতে চাই।
এনসিপির এই সংসদ সদস্য বলেন, আমরা কোন প্রেক্ষাপটের মধ্য দিয়ে আজকের এই সংসদে এসেছি, আমরা সকলেই সেটা জানি। সেই প্রেক্ষাপট যখন বাংলাদেশে সংঘটিত হলো, তারপর ৫ আগস্ট থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে কোনো সরকার ছিল না। সেই সময়টাতে বাংলাদেশের সংবিধান কতটুকু কার্যকর ছিল? সেই ব্যাপারে কি আমরা খোঁজখবরটা রেখেছি? তিনি প্রশ্ন রাখেন, বর্তমান আইনমন্ত্রী তখন অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে কীভাবে নিয়োগ পেয়েছিলেন? অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শপথের বর্ণনা সংবিধানের কোথাও নেই।
আখতার হোসেন বলেন, আগের সরকার যে পদত্যাগ করেছে, সেই পদত্যাগের ফর্মুলা কি? সংসদ যে ভেঙে দেওয়া হলো ৬ তারিখে, সেই সংসদ ভেঙে দেওয়ার ফর্মুলাটা কি সংবিধানে বর্ণনা করা ছিল? তার কোনো কিছুই সেই সময়টাতে সংবিধান অনুযায়ী হয় নাই। কারণ সেই সময়টাতে চব্বিশের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে, হাজারো মানুষের জীবনের মধ্য দিয়ে, নতুন এক বাংলাদেশের প্রত্যয়ে জনগণের অভিপ্রায় ব্যক্ত হয়েছিল।
এনসিপির সদস্যসচিব বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের একটা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল রাষ্ট্র কাঠামোটাকে সংস্কার করা। রাষ্ট্র কাঠামোকে বারংবার একটা ফ্যাসিবাদীর জাঁতাকলে পিষ্ট করা হয়েছিল। সেই লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়টাতে ঐকমত্য কমিশন গঠিত হয়।
ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার কথা তুলে ধরে আখতার হোসেন বলেন, সেই আলোচনার এক প্রান্তে গিয়ে যখন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ আসে সেটা নিয়ে আমরা কয়েক দফায় আলোচনা করেছি। সেই আলোচনায় আজকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন সাহেব উপস্থিত ছিলেন। জোনায়েদ সাকি ভাই সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে নুরুল হক নূর উপস্থিত ছিলেন। শাহাদাত হোসেন সেলিম উপস্থিত ছিলেন। এতগুলো মানুষ, সরকারি দলের বেঞ্চে তাঁরা বসে আছেন। তারা ঐকমত্য কমিশনে উপস্থিত হয়েছিলেন। ঐকমত্য কমিশনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ব্যাপারে সকলের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল। সেই আলোচনার প্রসঙ্গ তাঁরা সংসদে এসে কীভাবে ভুলে গেলেন, সেটা আমি তাঁদের কাছে জানতে চাই।
এনসিপির সদস্যসচিব বলেন, আপনারা যদি নতুন বাংলাদেশের কথা বলেন, আপনারা কি আবার আগের মতো করে নূরুল হুদার মতো একজনকে নির্বাচন কমিশনার বানাতে চান? আপনারা ২০০১ থেকে ২০০৬-এ সংবিধান সংশোধন করে কে এম হাসানের মতো একজনকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করতে এসেছিলেন। তারপরে ১৭টা বছর বাংলাদেশকে মাশুল দিতে হয়েছিল। সেই ইতিহাসগুলো যে আপনারা ভুলে গিয়েছেন, সেটা আমাদের কাছে বড়ই দুঃখ লাগে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

