ছিনতাই-চাঁদাবাজি নিয়ে সংসদে উদ্বেগ, যৌথ অভিযানের দাবি

ছিনতাই-চাঁদাবাজি নিয়ে সংসদে উদ্বেগ, যৌথ অভিযানের দাবি
জাতীয় সংসদ ভবন। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি ও চাঁদাবাজি বেড়েছে অভিযোগ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে যৌথ অভিযান চালানোর দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে।

বুধবার সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ ধারায় জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াতের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন এবং সংরক্ষিত নারী আসনের জামায়াতের সদস্য সাবিকুন্নাহার আলোচনা করেন।

বিজ্ঞাপন

সালাহউদ্দিন বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর হামলায় নারী শিক্ষিকার মৃত্যু, বিমানবন্দরে ছাত্রদল নেতা কর্তৃক স্বর্ণালংকার ছিনতাই, ধানমন্ডিতে প্রকাশ্য দিবালোকে ৩৯ লাখ টাকা ছিনতাই, মুগদা হাসপাতালে প্রকাশ্য দিবালোকে ছিনতাই, যাত্রাবাড়িতে ছুরিকাঘাতে নিহত।’

গ্রামাঞ্চলেও চুরি ও ডাকাতি বাড়ছে দাবি করে এই সংসদ সদস্য বলেন, অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের সুযোগে গাড়ি চুরি, সিঁধেল চুরি এবং অন্যান্য অপরাধ ঘটছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তার না করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মাদক ব্যবসায়ী ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের প্রকাশ্যে চলাফেরার অভিযোগও তোলেন সালাহউদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা, নির্লিপ্ততা এবং অক্ষমতার কারণে মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।’

জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালানোর দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।

প্রয়োজনে বিশেষ অভিযান চালানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “অপারেশন ক্লিন হার্টের মত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বাংলাদেশের মানুষকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।”

সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সাবিকুন্নাহার রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজির বিষয়টি তোলেন। তিনি বলেন, পথচারীদের জন্য তৈরি ফুটপাত অনেক জায়গায় দোকান, ভাসমান ব্যবসা ও স্থায়ী বাণিজ্যিক স্থাপনার দখলে চলে গেছে। ফলে মানুষ ফুটপাত ছেড়ে সড়কে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে সংগঠিত চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে সাবিকুন্নাহার বলেন, ‘এটা আজ ওপেন সিক্রেট যে ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে একটি প্রাতিষ্ঠানিক চাঁদাবাজি চক্র গড়ে উঠেছে।’

তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে টাকা আদায় করে ফুটপাতে ব্যবসা চালানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। একটি সংবাদ প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, কোনো কোনো জায়গায় চায়ের দোকান বসাতে ২০ হাজার টাকা এবং অন্য দোকানের জন্য ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে।

সাবিকুন্নাহার বলেন, চাঁদাবাজি যেন আজ সরকারি দলের এক কমিউনিকেবল ডিজিজে পরিণত হয়েছে। চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ চান তিনি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন