মে ২০২৫ সালে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সংঘটিত সামরিক যুদ্ধ নিয়ে নির্মিত ভারতের নতুন একটি ডকুমেন্টারিকে ‘তথ্যগতভাবে ভুল’ ও ‘অপারেশনাল ফলাফলকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী।
পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিস্তারিত বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, ডকুমেন্টারিতে ‘বলিউডধর্মী সিনেমাটিক পুনর্নির্মাণ’ এবং বাছাই করা সাক্ষাৎকার ব্যবহার করে যুদ্ধের প্রতিষ্ঠিত ঘটনাগুলোকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পাকিস্তান এ যুদ্ধকে ‘মারকা-ই-হক’ নামে অভিহিত করে।
সময়ের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন
ডকুমেন্টারির কয়েকটি দাবির মধ্যে ‘মৌলিক অসঙ্গতি’ রয়েছে বলেও দাবি করেছে আইএসপিআর। বিশেষ করে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের ১৬ এপ্রিল ২০২৫-এর একটি বক্তব্যের সঙ্গে ২২ এপ্রিলের পাহালগাম হামলার যোগসূত্র স্থাপনের ভারতীয় প্রচেষ্টাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে তারা।
পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ভারতের সময়ের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। তাদের বক্তব্য, ভারত ৭ মে ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর মাধ্যমে পাহালগাম হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার দাবি করলেও কথিত হামলাকারীদের ২৮ জুলাই ২০২৫-এ নির্মূল করার কথা জানায়। পাকিস্তানের মতে, এই ঘটনাপ্রবাহ ভারতের দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ভারতের ‘শতভাগ সফলতা’র দাবি প্রত্যাখ্যান
ভারতের ‘১০০ শতাংশ মিশন সফল’ দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। আইএসপিআরের দাবি, পাকিস্তানি বাহিনী সীমান্তপারের অভিযান প্রতিহত করার পাশাপাশি ভারতের আটটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে।
এরপর পাকিস্তান ‘অপারেশন বানইয়ানুম মারসুস’ নামে পাল্টা অভিযান পরিচালনা করে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর দাবি, এ অভিযানে ফাতাহ গাইডেড রকেট, নির্ভুল লক্ষ্যভেদী আকাশাস্ত্র, লইটারিং ড্রোন ও কামান ব্যবহার করে ভারতের ২৬টি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
ডকুমেন্টারিতে পাকিস্তানি বিমান তৎপরতা, নিয়ন্ত্রণরেখায় (এলওসি) সংঘর্ষ এবং ভারতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করার মতো বিষয় স্বীকার করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে আইএসপিআর। তাদের মতে, এসব স্বীকারোক্তিই ভারতের ‘নিরঙ্কুশ আধিপত্যের’ দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
সরাসরি যোগাযোগেই যুদ্ধের অবসান
যুদ্ধের অবসান নিয়েও ভারতের একতরফা সাফল্যের বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। আইএসপিআর বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশের সামরিক অপারেশন পরিচালনাবিষয়ক মহাপরিচালক (ডিজিএমও) পর্যায়ে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে লড়াই বন্ধ হয়।
বিবৃতিতে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘দৃঢ় ও সিদ্ধান্তমূলক’ জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে তারা।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


