দশমিনায় তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে শহররক্ষা বাঁধ ও সড়ক

দশমিনায় তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে শহররক্ষা বাঁধ ও সড়ক

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় তেঁতুলিয়া নদীর তীরে শহর রক্ষা বাঁধের তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে নদীর তীব্র স্রোতে সড়কের একটি অংশ ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া গত মাসে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দেওয়া জিওব্যাগও নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। চরম আতঙ্কে থাকা স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে তাদের পূর্বপুরুষদের কবর ও ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিন দেখা গেছে, তেঁতুলিয়া নদীর তীরে হাজিরহাট লঞ্চঘাটের উত্তর পাশে শহর রক্ষা বেড়িবাঁধ সড়কের একটি অংশ ভেঙে নদীগর্ভে চলে গেছে। গত মাসে লঞ্চঘাট সংলগ্ন একটি মসজিদ ও সড়কটি রক্ষায় লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে পাউবোর পক্ষ থেকে জিওব্যাগ ফেলা হলেও তা কোনো কাজে আসছে না।

স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক দিন ধরে তেঁতুলিয়া নদীতে পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় হাজিরহাট লঞ্চঘাট ও জামে মসজিদ সংলগ্ন নদীর তীরে ভাঙন শুরু হয়। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর এই ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ভাঙন ঠেকাতে পাউবোর পক্ষ থেকে জিওব্যাগ ফেলা হলেও তীব্র স্রোতের টানে মুহূর্তেই তা নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে হাজিরহাট জামে মসজিদসহ বাজারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, বেড়িবাঁধ সড়ক এবং আশপাশের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। বিশেষ করে রাতের পূর্ণিমার জোয়ারে ভাঙন আরও তীব্র হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

ভাঙনের মুখে পড়া স্থানীয় বাসিন্দা নিজামউদ্দিন জানান, নদীর ভাঙনে তাঁর ঘরবাড়ি এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। নিরাপদ জায়গা না থাকায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় তিনি ঘরের মালামাল সরিয়ে নিয়েছেন এবং রাতে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নেবেন। এছাড়া তাঁদের পারিবারিক কবরস্থানটিও নদীভাঙনের মুখে পড়ায় বাবা ও স্বজনদের মরদেহ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কথা জানান তিনি।

এদিকে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে আসেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য হাসান মামুন এবং পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী। এছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসান মৃধা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িঘর থেকে কয়েকটি পরিবারকে সরিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ও সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের খাবারের ব্যবস্থা করা হবে। নদীভাঙনে যেসব পরিবার বসতভিটা ও জমিজমা হারিয়েছেন, তাদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দেন তিনি।

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী জানান, নদীর তীব্র স্রোতে রাতের মধ্যেই সড়কের বাকি অংশটুকুও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন