৭০টি গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী আকিদা, যা জানা জরুরি

৭০টি গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী আকিদা, যা জানা জরুরি

ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ আকীদা সমূহ। প্রতিটি মুসলমানের উচিত আকীদাগুলো মুখস্ত রাখা ও অনুধাবন করে বিশ্বাস স্থাপন করা। বুঝার স্বার্থে অনুবাদসহ নিচে দেয়া হলো:

১. নিশ্চয়ই আল্লাহ এক, তাঁর কোনো শরিক বা অংশীদার নেই।

বিজ্ঞাপন

২. তিনি সত্তাগতভাবে অনাদি (সর্বদাই ছিলেন) এবং তাঁর গুণাবলীও অনাদি।

৩. তিনি ছাড়া অন্য সবকিছুই সৃষ্ট এবং নশ্বর (নতুন সৃষ্ট বস্তু)।

৪. কোনো বুদ্ধি বা মেধা তাঁকে পরিবেষ্টন করতে পারে না এবং কোনো দৃষ্টি তাঁকে (দুনিয়াতে) দেখতে পায় না।

৫. তিনি অভাবমুক্ত ও পরমুখাপেক্ষী নন, কিন্তু সবাই তাঁর মুখাপেক্ষী।

৬. তিনি ব্যতীত সত্য কোনো ইলাহ বা উপাস্য নেই।

৭. তিনি চিরঞ্জীব, যাঁর কোনো মৃত্যু নেই।

৮. কেউ তাঁর সমকক্ষ বা সমান নয়।

৯. কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ বা উপমাযোগ্য নয়।

১০. প্রকাশ্য ও গোপন যা কিছু আছে, সবই তিনি জানেন।

১১. তিনি সর্বদ্রষ্টা, তাঁর দৃষ্টি থেকে কোনো কিছুই আড়াল হয় না।

১২. তিনি গোপন ও প্রকাশ্য সবকিছুই শোনেন।

১৩. তিনি যা ইচ্ছা করেন, তা ছাড়া আর কিছুই ঘটে না।

১৪. তিনি সর্বশক্তিমান, কোনো কিছুই তাঁর ক্ষমতার বাইরে যেতে পারে না।

১৫. আল্লাহ ব্যতীত কেউ গায়েব (অদৃশ্য) জানে না, এমনকি নবী এবং ওলীগণও না (যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁদের জানান)।

১৬. তিনি ছাড়া আর কেউ (একই সাথে সব জায়গায়) হাজির ও নাজির (সর্বত্র বিদ্যমান ও সর্বদর্শী) নন, এমনকি নবী এবং ওলীগণও নন।

১৭. তাঁর কোনো সন্তান নেই এবং কোনো স্ত্রীও নেই।

১৮. আল্লাহ প্রতিটি জিনিসের সৃষ্টিকর্তা।

১৯. এবং তিনি সবকিছুর পরিমাণ অনুযায়ী রিযিকদাতা।

২০. তাঁর নির্দেশ ছাড়া কোনো জীবন বা মৃত্যু নেই।

২১. তিনিই রোগ-ব্যাধি থেকে আরোগ্য দানকারী এবং সমস্ত প্রয়োজন পূরণকারী।

২২. আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সেজদা করা এবং কারো নামে মান্নত করা কুফরি।

২৩. কবরবাসীদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা শিরক।

২৪. ভাগ্যের ভালো ও মন্দ আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকেই নির্ধারিত।

২৫. আমরা সমস্ত নবী ও রাসূলগণের প্রতি ঈমান রাখি।

২৬. আমরা বিশ্বাস করি যে, সমস্ত নবীগণই নিষ্পাপ (গুনাহ থেকে মুক্ত)।

২৭. আমাদের নবী মুহাম্মদ সা. আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।

২৮. তিনি সমস্ত মানব ও জিন জাতির কাছে প্রেরিত হয়েছেন।

২৯. তিনি সমস্ত রাসূলদের সরদার এবং সর্বশেষ নবী।

৩০. জাগ্রত অবস্থায় সশরীরে নবী কারীম সা.-এর মিরাজ গমন সত্য।

৩১. তাঁর পরে আর কোনো নবী নেই—তা আসল (স্বতন্ত্র) হোক কিংবা জিল্লী (ছায়া বা অনুসারী) হোক।

৩২. তাঁর পরে নবুওয়তের দাবিদার এবং তার অনুসারী কাফের।

৩৩. ঈসা আলাইহিস সালামের জীবন এবং তাঁকে জীবিত অবস্থায় আকাশে উঠিয়ে নেওয়া সত্য।

৩৪. কেয়ামতের পূর্বে নবী ঈসা আলাইহিস সালাম আমাদের নবী সা.-এর শরীয়তের অনুসারী হয়ে অবতরণ করবেন।

৩৫. যে ব্যক্তি (আল্লাহর জন্য) সন্তান সাব্যস্ত করে এবং ত্রিত্ববাদে (তিন খোদার ধারণায়) বিশ্বাস করে, সে কাফের।

৩৬. কোরআন-হাদীসের অকাট্য দলিল বা নস প্রত্যাখ্যান করা, নবীকে অবমাননা করা এবং শরীয়ত নিয়ে উপহাস করা কুফরি।

৩৭. নবীগণের মোজেযাসমূহ সত্য।

৩৮. নবীগণ তাঁদের কবরে জীবিত (বরযখী জীবনে)।

৩৯. সাহাবীগণ এই উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি।

৪০. আমরা সমস্ত সাহাবীদের ন্যায়পরায়ণতার স্বীকৃতি দিই।

৪১. আমরা সাক্ষ্য দিই যে, তাঁরা আল্লাহর সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত এবং জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত।

৪২. সাহাবীদের ভালোবাসা ঈমানের অংশ।

৪৩. সাহাবীদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা এবং তাঁদের গালি বা কটূক্তি করা মুনাফিকী।

৪৪. খুলাফায়ে রাশেদীনের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব তাঁদের খেলাফতের ধারাবাহিকতার ক্রমানুসারেই (অর্থাৎ আবু বকর, উমর, উসমান ও আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুম)।

৪৫. সাহাবীগণ তাঁদের পারস্পরিক ইজতিহাদী মতবিরোধ বা যুদ্ধবিগ্রহে সত্যের ওপর (সদুদ্দেশ্যপ্রণোদিত) ছিলেন।

৪৬. ওলী বা আল্লাহর বন্ধুগণ আল্লাহর নিকটবর্তী ও প্রিয় বান্দা।

৪৭. তবে তাঁদের মর্যাদা নবী এবং সাহাবীদের নিচে বা কম।

৪৮. ওলীগণের কারামত (অলৌকিক ঘটনা) সত্য।

৪৯. সালাফ বা পূর্বসূরিদের সম্মান করা এবং আইম্মাহ বা ইমামগণের মাযহাবের তাকলীদ (অনুসরণ) করা আবশ্যক।

৫০. আমরা আল্লাহ তাআলার সমস্ত ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান রাখি।

৫১. আমরা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নাযিলকৃত সমস্ত কিতাবের প্রতি ঈমান রাখি।

৫২. আমরা বিশ্বাস করি যে, কোরআন আল্লাহর বাণী বা কালাম।

৫৩. এবং কোরআন নাযিল হওয়ার পর পূর্ববর্তী সমস্ত কিতাবের বিধান মানসুখ বা রহিত হয়ে গেছে।

৫৪. আখেরী জামানায় ইমাম মাহদী আলাইহিস সালামের খেলাফত বা আগমন সত্য।

৫৫. দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ এবং ইয়াজুজ-মাজুজের বের হওয়া সত্য।

৫৬. পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়া এবং দাব্বাতুল আরদ (ভূগর্ভস্থ অদ্ভুত জীব) বের হওয়া সত্য।

৫৭. কেয়ামতের অন্যান্য আলামত এবং শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া সত্য।

৫৮. মুনকার ও নাকীর ফেরেশতাদ্বয়ের সওয়াল-জওয়াব এবং কবরের আজাব ও শান্তি সত্য।

৫৯. মৃত্যুর পর পুনরুত্থান এবং হাশরের ময়দানে একত্রিত হওয়া সত্য।

৬০. হাউযে কাওসার এবং (নবীজীর) শাফায়াত বা সুপারিশ সত্য।

৬১. আমলনামা ওজন করা, হিসাব-নিকাশ এবং আমলনামা বণ্টন সত্য।

৬২. পুলসিরাত, জান্নাত এবং জাহান্নাম সত্য।

৬৩. আখেরাতে (জান্নাতে) আল্লাহ তাআলার দর্শন লাভ করা সত্য।

৬৪. মুমিনদের জান্নাতে চিরকাল থাকা এবং কাফেরদের জাহান্নামে চিরকাল থাকা সত্য।

৬৫. ফাসেক বা গুনাহগার মুমিন ব্যক্তি (পাপের কারণে) কাফের হয়ে যায় না এবং সে জাহান্নামে চিরকাল থাকবে না।

৬৬. রহমানের আরশ এবং কুরসী হলো আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে বড় বা মহান সৃষ্টি।

৬৭. লাওহে মাহফুজ, কলম এবং (রূহের জগতের) অঙ্গীকার সত্য।

৬৮. আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত দ্বীন বা ধর্ম হলো ইসলাম।

৬৯. ইসলাম ব্যতীত জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির কোনো উপায় নেই।

৭০. ইসলামের বিধি-বিধান বাস্তবায়নের জন্য একজন ইমাম বা নেতা নিযুক্ত করা আবশ্যক।

লেখক: সিনিয়র মুফতি ও শিক্ষাসচিব, শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন