আজ দ্বিতীয় তারাবিতে সূরা বাকারার (২০৪-২৮৬) এবং সূরা আলে ইমরান (১-৯১) আয়াত পর্যন্ত পড়া হবে। পারা হিসেবে আজ পড়া হবে দ্বিতীয় পারার শেষার্ধ এবং তৃতীয় পারা পুরোটা। পাঠকদের জন্য আজকের তারাবিতে পঠিত অংশের বিষয়বস্তু তুলে ধরা হলো।
২. সূরা বাকারা: (২০৪-২৮৬)
২০৪ থেকে ২১০ নম্বর আয়াতে মুনাফিক-কাফের ও মোমিনের আচার-বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতা তুলে ধরা হয়েছে। ২১১ থেকে ২১৬ নম্বর আয়াতে মুমিনদের গুরুত্বপূর্ণ হেদায়েত করা হয়েছে। বনি ইসরাইলদের কথা উল্লেখ করে উম্মতে মুহাম্মাদিকে সতর্ক করা হয়েছে। সত্য অস্বীকার করা, দলে-উপদলে বিভক্ত হওয়া, আল্লাহর দ্বীনের সংগ্রামে ধৈর্যচ্যুত হওয়ার মতো বিষয় থেকে বিরত থাকার হেদায়েত রয়েছে এ আয়াতগুলোতে। ২১৭ থেকে ২১২ নম্বর আয়াতে পবিত্র মাসে যুদ্ধের বিধান, মদ-জুয়ার অপকারিতা, এতিমদের ভালো ব্যবস্থা করা এবং মুশরিক নারীদের বিয়ে না করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।
২২২ থেকে ২৪০ নম্বর আয়াতে নারীদের ঋতুস্রাব, তালাক, ইদ্দত ও দেনমোহরের ব্যাপারে সবিস্তারে আলোচনা করা হয়েছে। ২৪৩ থেকে ২৫৩ নম্বর আয়াতে মুসা (আ.) এর পর বনি ইসরাইলরা পরবর্তী নবীদের সঙ্গে জেহাদের প্রশ্নে কেমন পিঠটান আচরণ করেছিল, এ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। ২৫৪ থেকে ২৬০ নম্বর আয়াতে আল্লাহর মহত্বের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। উদহারণস্বরূপ ইবরাহিম (আ.) এর দুটি ঘটনা সংক্ষেপে বর্ণনা করা হয়েছে। ২৬১ থেকে ২৮৩ নম্বর আয়াতে অর্থনৈতিক বিধান বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আল্লাহর পথে ব্যয়ের মাহাত্ম্য ও মর্যাদা, আল্লাহর পথে ব্যয় না করার পরিণাম, উশরের বিধান, দানের উপযুক্ত কারা- এসব বিধান আলোচনা করার পাশাপাশি সুদের ভয়াবহতা, সুদ হারাম হওয়ার ঘোষণা এবং সুদ ছেড়ে দেয়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছে। আলোচনা করা হয়েছে ঋণের বিধান বিষয়ে। ঋণ যেন লিখিত চুক্তির ভিত্তিতে হয়, এসব নির্দেশনা সবিস্তারে আলোচনা হয়েছে ২৮২ ও ২৮৩ নম্বর আয়াতে।
২৮৪ থেকে ২৮৬ আয়াতে উপসংহারস্বরূপ ঈমানের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বান্দার জন্য আল্লাহর দয়া ও মেহেরবানির কথা উল্লেখ করা হয়েছে শেষের দুই আয়াতে। বান্দা বিষয়ে
শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে সূরাটি সমাপ্ত হয়েছে।
৩. সূরা আলে ইমরান: (মদিনায় অবতীর্ণ, আয়াত দুই শত, রুকু বিশ)
১ থেকে ৯ নম্বর আয়াত পর্যন্ত পবিত্র কোরানের মাহাত্ম্য তুলে ধরা হয়েছে। এ কোরআন পূর্ববর্তী গ্রন্থের সত্যায়নকারী এবং এটিই সত্য ও মিথ্যার মাঝে প্রকৃত পার্থক্যকারী, সে কথা বলা হয়েছে। এর আয়াতগুলোর ওপর বিশ্বাসীরা আমল করে এবং অন্তর দিয়ে বিশ্বাস করে। আর বক্র মনের মানুষ এতে জটিলতা খোঁজে।
১০ থেকে ১৯ নম্বর আয়াতে সত্য অস্বীকারকারীদের জন্য জাহান্নামের ভয়াবহ আজাবের কথা বলা হয়েছে। পার্থিব জীবনের অসারতা ও মোহগ্রস্ততার হেতু কী- এ প্রশ্নের উত্তর রয়েছে ১৪ নম্বর আয়াতে। পরবর্তী অংশে ঈমান ও দাওয়াতের বিষয়ে সংক্ষেপ, তবে মৌলিক আলোচনা করা হয়েছে।
২১ থেকে ৩০ নম্বর আয়াত পর্যন্ত আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা জ্ঞান অনুযায়ী আমল করেনি, সত্য লুকিয়ে রেখেছিল, তাদের শাস্তির কথা বলা হয়েছে। আরো বলা হয়েছে, ক্ষমতা ও সম্মানের মালিক কেবল আল্লাহ। তিনি যাকে ইচ্ছা এসব দান করেন, আবার যার থেকে ইচ্ছা এসব ছিনিয়ে নেন।
৩০ থেকে ৬২ নম্বর আয়াতে ইমরানের স্ত্রী, মরিয়ম (আ.) ও ঈসা (আ.) এর ঘটনা বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
৬২ থেকে ৯১ নম্বর আয়াতে আহলে কিতাবদের সঙ্গে মুসলমানদের আচরণ ও দাওয়াতের পন্থা কেমন হবে, আহলে কিতাবের ব্যাপারে ইসলাম ও মুসলমানদের দৃষ্টিভঙ্গি কী ধরনের হবে- এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।
লেখক: সিনিয়র পেশ ইমাম বুয়েট সেন্ট্রাল মসজিদ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

