জীবিকা উপার্জনের জন্য শরিয়াহ অনুমোদিত যতগুলো মাধ্যম রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বাবসা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদসমূহ অন্যায়ভাবে খেয়ো না, তোমাদের পারস্পরিক সম্মতিতে যে তিজারাহ তথা ব্যবসা করা হয়, তা ব্যতীত।’ (সুরা আন-নিসা : ২৯)
কুরআনুল কারিমের আট স্থানে এই তিজারাহ শব্দটি বর্ণিত হয়েছে, যা দ্বারা মূলত ক্রয়-বিক্রয় করা উদ্দেশ্য। কেননা ব্যবসার ক্ষেত্রে একপক্ষ কেনে এবং অন্যপক্ষ বিক্রি করে। আর এই ক্রয়-বিক্রয়কেই আল্লাহ তায়ালা বৈধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আর আল্লাহ বাঈ তথা ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল ও সুদকে হারাম করেছেন।’ (সুরা আল-বাক্বারা : ২৭৫)। কুরআনুল কারিমের সাত স্থানে এই বাই’উন শব্দটি বর্ণিত হয়েছে।
ব্যবসা তথা ক্রয়-বিক্রয়কেন্দ্রিক উপার্জনের ওপর রাসুলুল্লাহ (সা.) অধিক গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘নিজের হাতে কাজ করা এবং সকল হালাল ক্রয়-বিক্রয়ই হচ্ছে সর্বোত্তম উপার্জন।’ (মিশকাত : ২৭৮৩, সিলসিলা সহিহা : ৬০৭)
সত্যবাদী ও আমানতদার ব্যবসায়ী সম্পর্কে বিশ্বনবী (সা.) বলেন, ‘সত্যবাদী ও আমানতদার ব্যবসায়ী (কিয়ামতের দিন) নবী, সত্যবাদী ও শহীদদের সঙ্গে থাকবেন।’ (তিরমিজি : ১২০৯)। একবার জায়েদ ইবনে মাসলামা (রা.) তার নিজের ক্ষেতে বৃক্ষরোপণ করছিলেন। তাঁকে দেখে ওমর (রা.) বলেন, ‘তুমি চমৎকার কাজ করছ। মানুষের কাছ থেকে অমুখাপেক্ষী হওয়া উচিত। এতে তোমার দীনদারিতা অধিক সংরক্ষিত থাকবে এবং এভাবেই তুমি মানুষের প্রতি বেশি অনুগ্রহ করতে পারবে।’ (ইহইয়াউ উলুমিদদীন : ২/৩৫১)
বিশ্বনবী (সা.) ৪০ বছর বয়সে নবুওয়্যত লাভ করার আগে সফল ব্যবসায়ী ছিলেন। মক্কায় সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ী ছিলেন খাদিজাতুল কুবরা (রা.)। তিনি একসময় তাঁর বিশাল ব্যবসা তদারকি করার জন্য একজন সৎ ও যোগ্য লোকের সন্ধান করছিলেন। তখন মুহাম্মাদ (সা.)-এর সুনামের কথা তাঁর কানে এলো। এরপর খাদিজা (রা.) তাঁর ব্যবসায়ের গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেন মহানবী (সা.)-এর ওপর। মহানবী (সা.) মুদারাবা পদ্ধতিতে অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে খাদিজা (রা.)-এর ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং এতে খাদিজা (রা.) অভাবনীয় সফলতা লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে তাঁরা মুশারাকা পদ্ধতিতে ব্যবসা পরিচালনা করেছেন।
মহানবী (সা.)-এর সাহাবাদের মধ্যে আবু বকর (রা.) একজন বড় মাপের ব্যবসায়ী ছিলেন। ওমর (রা.) ও উসমানও (রা.) ব্যবসায় নিয়োজিত ছিলেন। মুহাজিরদের মধ্যে অনেকেই ব্যবসায়ী ছিলেন। আমাদের পূর্বসূরি ইমামরাও ব্যবসা করতেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ইমাম আবু হানিফা (রহ.), ইমাম মালেক (রহ.), ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল (রহ.) প্রমুখ।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় শিক্ষিত বেকারত্বের হার ক্রমেই বেড়ে চলেছে উদ্বেগজনক হারে। এর একটা বড় কারণ সবার চাকরি খোঁজা। চাকরি সীমিত, অথচ ব্যবসার উপায় অসংখ্য। তাই চাকরির পেছনে না ছুটে ব্যবসার জন্য উপায় খুঁজলে ইসলামের আদর্শ যেমন জীবিত হবে, তেমনি বেকারত্বও হ্রাস পাবে। আমরা তরুণদের ব্যবসায় আহ্বান জানাই।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

