বর্তমান সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ও নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘জাতীয় তাফসির প্রতিযোগিতা’ আয়োজন করতে যাচ্ছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানায়, আল-কোরআনের সহিহ তাফসির সম্পর্কে জ্ঞানচর্চা, গবেষণামনস্কতা বৃদ্ধি, প্রজ্ঞাবান আলেম ও মুফাসসির তৈরি এবং নৈতিক মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে।
বিভাগীয় পর্যায় থেকে প্রতিযোগিতাটি শুরু হবে। বিভাগীয় পর্যায়ের বিজয়ীরা জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন।
দুটি গ্রুপে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ‘ক’ গ্রুপে অংশ নিতে পারবেন ফাজিল, জালালাইন, দাওরায়ে হাদিস, কামিল, আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজে অধ্যয়নরত অনূর্ধ্ব ৩০ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা।
এ গ্রুপে তাফসিরের বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে-সূরা ফাতিহা, সূরা আল-বাকারা ও সূরা আল-আলাক।
‘খ’ গ্রুপে অংশ নিতে পারবেন কামিল, দাওরায়ে হাদিস, আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী মাদ্রাসা শিক্ষক, খতিব, ইমাম, গবেষক, দাঈ, ইসলামী লেখক, ওয়ায়েজ ও সংস্কৃতিকর্মীরা।
এ গ্রুপের অংশগ্রহণকারীদের বয়স অনূর্ধ্ব ৪০ বছর হতে হবে। এ গ্রুপে তাফসিরের বিষয়-সূরা আন-নূর, সূরা ইয়াসিন, সূরা আল-হুজুরাত, সূরা আর-রহমান ও সূরা আল-ওয়াকিয়া।
জাতীয় পর্যায়ে দুই গ্রুপে ছয়জন বিজয়ীকে মোট ৯ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। প্রতিটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন পাবেন ২ লাখ টাকা, প্রথম রানারআপ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় রানারআপ ১ লাখ টাকা। বিজয়ীদের ক্রেস্ট ও সনদপত্রও দেওয়া হবে।
বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিটি বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীকে যথাক্রমে ২০ হাজার, ১৫ হাজার ও ১০ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হবে। আটটি বিভাগে মোট ৪৮ জন বিজয়ীকে সব মিলিয়ে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।
বিভাগীয় পর্যায়ের ৪৮ জন বিজয়ীকে নিয়ে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার আগে ঢাকায় সাত দিনের ইন-হাউস গ্রুমিং বা প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। পাশাপাশি আরবি ভাষায় কথা বলায় পারদর্শী হতে হবে এবং পবিত্র কোরআনের শব্দার্থসহ তরজমা করার যোগ্যতা থাকতে হবে। এছাড়া উলুমুল কোরআন, উসুলুত তাফসির, হাদিস, ফিকহ, ইলমুন নাহু, ইলমুস সরফ ও বালাগাতসহ প্রয়োজনীয় বিষয়ে জ্ঞান থাকা আবশ্যক।
আগ্রহী প্রার্থীদের আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন করতে হবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নির্ধারিত অনলাইন লিংকের মাধ্যমে। প্রতিযোগীদের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আটটি বিভাগীয় কার্যালয়ের-ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ-যেকোনো একটি কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হবে এবং অনলাইন আবেদনের সময় তা উল্লেখ করতে হবে।
প্রতিযোগিতার সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে সাফওয়াতুত তাফাসির, কালিমাতুল কোরআন, তাফসিরে জালালাইন, তাফসিরে মাজহারি, তাফসিরে ইবনে কাছির ও তাফসিরে মারেফুল কোরআন বিবেচিত হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


