আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

মাহে রমজানে সংযম প্রদর্শন

ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

মাহে রমজানে সংযম প্রদর্শন

সংযম সিয়াম সাধনার একটি অন্যতম পূর্বশর্ত। রোজা পালনের মাধ্যমে প্রবৃত্তির ওপর পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়। এর মাধ্যমে মানুষের পাশবিক শক্তি অবদমিত হয় এবং রুহানি শক্তি বৃদ্ধি পায়। কেননা ক্ষুধা ও পিপাসার কারণে মানুষের জৈবিক ও পাশবিক ইচ্ছা হ্রাস পায়, মনুষ্যত্ব জাগ্রত হয়। যেকোনো পরিস্থিতিতে ধৈর্য অবলম্বন, সহনশীলতা প্রকাশ, পারস্পরিক সম্ভ্রমবোধ ও সৌজন্য প্রদর্শন, সর্বোপরি সব কার্যকলাপে মুক্তবুদ্ধি বিবেচনাপ্রসূত মাত্রা ও মূল্যবোধের অনুসরণ ব্যক্তি তথা সমাজজীবনের অনিবার্য অবলম্বন হওয়া আবশ্যক।

সর্বত্রই মধ্যপন্থা অবলম্বনের ওপর কোরআনে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পরিমিত বোধের ব্যাপারে কোরআনে বহুবার উপদেশ দেওয়া হয়েছে। লোকমান হাকিম তার পুত্রকে উপদেশ দিচ্ছেন, ‘অহংকার বশে তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করো না। কারণ, আল্লাহ কোনো উদ্ধত অহংকারীকে পছন্দ করেন না। তুমি পদক্ষেপ করো সংযতভাবে এবং তোমার কণ্ঠস্বর নিচু রেখ, স্বরের মধ্যে গর্দভের স্বরই সর্বাপেক্ষা অপ্রীতিকর।’ (সুরা লোকমান : ৮-১৯)

বিজ্ঞাপন

ক্যানভাসে রঙ ও তুলির সুষম সমন্বয়ে শিল্পের সার্থকতা ফুটে উঠে। পারিপার্শ্বিক সবকিছুর পরিমিত অবস্থান ও শৃঙ্খলামণ্ডিত উপস্থাপনার মধ্যেই সৌন্দর্যের যথার্থ বিকাশ। নিয়মনিষ্ঠা ও সহনশীলতা যেকোনো পরিবেশ পরিস্থিতিতে মেজাজ-মর্জি, আস্থা ও অবস্থান এমনকি প্রতিক্রিয়া প্রকাশের ক্ষেত্রেও দান করে এক অনুপম মর্যাদা। অনভিপ্রেত প্রতিযোগিতা শৃঙ্খলা ও ভারসাম্যে হানে আঘাত, পরিবেশ-প্রতিবেশ হয় কলুষিত।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে ব্যক্তি তথা সামষ্টিক জীবনে সব ক্ষেত্রে ও পর্যায়ে সংযম ও সহনশীলতা প্রদর্শনের, যুক্তিনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ মধ্যপন্থা অবলম্বনের আবশ্যকতা রয়েছে। সুরা ফুরকানে এ বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, ‘যখন তারা ব্যয় করে তখন তারা অপব্যয় করে না, কার্পণ্যও করে না, বরং তারা আছে এতদ উভয়ের মাঝে, মধ্যম পন্থায়।’ (আয়াত ৬৭), কিংবা সুরা বনি ইসরাইলে, ‘সালাতে স্বর উচ্চ করো না এবং অতিশয় ক্ষীণও করো না, এ দুয়ের মধ্যপথ অবলম্বন করো।’ (আয়াত ১১০)।

বিশ্বাসে ও ব্যবহারে, জীবনযাপন ও মানবিকতায় মাত্রা অতিক্রমকারী বনি ইসরাইল, লুত ও ছামুদ জাতির অশুভ পরিণতির কথা কোরআনে প্রায়শই উদাহরণস্বরূপ বর্ণনা করা হয়েছে। সংযম ও সহনশীল হওয়ার উপদেশ বারবার দেওয়ার পর কোরআনে একাধিক স্থানে মাত্রা অতিক্রমকারীর অশুভ পরিণতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন না।’ (সুরা মায়িদা : ৮৭; সুরা বাকারা : ১৯০)। কোরআনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, আচার-আচরণ, চিন্তা-চেতনায় ও কার্যকলাপে মাত্রা অতিক্রমকারীদের স্বাভাবিক সুচিন্তাবোধ ও বুদ্ধি সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।’ বলা হয়েছে, ‘মানুষকে যখন দুঃখ-দৈন্য স্পর্শ করে তখন সে শুয়ে বসে অথবা দাঁড়িয়ে আমাকে ডেকে থাকে; অতঃপর আমি যখন তার দুঃখ-দৈন্য দূরীভূত করি, সে এমন পথ অবলম্বন করে, যেন তাকে যে দুঃখ-দৈন্য স্পর্শ করেছিল তার জন্য সে আমাকে ডাকেইনি। যারা সীমা লঙ্ঘন করে তাদের কর্ম তাদের কাছে এভাবে শোভন প্রতীয়মান হয়।’ (সুরা ইউনুস : ১২)।

লেখক : সাবেক সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান/সম্পাদনা : মোহাম্মদ ফয়জুল্লাহ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন