আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

গণঅভ্যুত্থানে নারীর অবদান মুসলিম ঐতিহ্যের প্রতিফলন

সাঈয়েদা হাবিবা

গণঅভ্যুত্থানে নারীর অবদান মুসলিম ঐতিহ্যের প্রতিফলন

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশ নতুন এক স্বাধীনতা পেয়েছে। এই স্বাধীনতায় নারীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। বাংলাদেশের ইতিহাসে আগে এমনটা দেখা যায়নি। তারা শুধু পাশেই থাকেননি, সহযোদ্ধাদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা বলে গালি দেওয়ার পর নারীরাই প্রথম মাঠে নামেন। তারা আন্দোলনের নতুন টার্নিং পয়েন্ট তৈরি করেন। রোকেয়া হলের মেয়েরা রাতেই গেট ভেঙে রাজপথে নেমে আসেন। শুরু হয় আন্দোলনের নবযাত্রা।

ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে মায়েরা সন্তানদের আর স্ত্রীরা স্বামীদের পাশে ছিলেন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে। মায়েরা বাসা থেকে খাবার রান্না করে মাঠের সন্তানদের খাইয়েছেন। অর্থ সংগ্রহ করে মাঠের মানুষদের জন্য পানির ব্যবস্থা করেছেন। প্রত্যেক স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মায়েরা মাঠে নেমেছেন। পুলিশের বুলেট ও টিয়ার শেলের সামনে আবু সাঈদের মতো দুহাত প্রশস্ত করে দাঁড়িয়েছেন। সন্তানদের মায়েরা আঁচল দিয়ে রক্ষা করেছেন। আন্দোলনের সময় এক নারীর একটা রিল ও শর্টস ভাইরাল হয়েছিল। সেখানে তিনি বলেছিলেন, সামনে স্বাধীনতা আর পেছনে পুলিশ। তার কথা ও বলার ভঙ্গি আন্দোলনের সময় সবাইকে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের গুণ্ডাদের সামনে দাঁড়াতে সাহস জুগিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ করা মুসলিম নারীদের ঐতিহ্য। তারা কখনো মাঠে সশরীরে আন্দোলন করেছেন আবার কখনো পুরুষদের পাশে থেকেও আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন। এক কথায় ইসলামের প্রতিটি ক্ষেত্রেই নীরবে ও সম্মুখে ভূমিকা রেখেছেন নারী সাহাবিরা।

নবী (সা.) ওহি আসার খবর প্রথম বলেছিলেন আম্মাজান খাজিদা (রা.)-এর কাছেই। তিনি নবীকে (সা.) সান্ত্বনা দিয়েছেন। নবীকে (সা.) তার পথচলার উৎসাহ জুগিয়ে ছিলেন তিনিই। হজরত খাদিজা (রা.) নবীকে (সা.) উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, আল্লাহর কসম! তিনি আপনাকে অসম্মান করবেন না। কেননা, আপনি আত্মীয়দের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সুন্দর সম্পর্ক রক্ষা করেন। (বোখারি শরিফ)

হুদাইবিয়ার সন্ধি ইসলামের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেই সন্ধির পেছনেও ছিল নারী সাহাবি ও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী উম্মে সালামা (রা.)-এর অপরিসীম ভূমিকা। যখন কেউ কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারছিলেন না, তখন তিনিই নবী (সা.)-কে বসে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করেছেন।

কোরআন-হাদিসের জ্ঞানবিস্তারে আয়েশা (রা.) অতুলনীয়। ইলমি জ্ঞানে অনেক পুরুষ সাহাবি থেকেও তিনি বেশি পণ্ডিত ছিলেন। শুধু জ্ঞান আর উৎসাহ দিয়েই নারী সাহাবিরা ক্ষান্ত হননি। নারী সাহাবি হজরত নুসাইবা (রা.) অস্ত্র হাতে সম্মুখ যুদ্ধেও অংশ নিয়েছেন। আর হজরত রুফাইদা (রা.) আহত সাহাবিদের দিনরাত সেবা দিয়েছেন। যুদ্ধে গিয়ে কেউ আহত হলেই নবী (সা.) তাকে নারী সাহাবি রুফাইদা (রা.)-এর কাছে নিয়ে যেতে বলতেন।

ইসলাম নারীকে দিয়েছে এক অনন্য সম্মান ও অধিকার। একজন নারী তার সম্ভ্রম রক্ষা করে যেমন জ্ঞান অর্জন করতে পারেন, ঠিক তেমনই যুদ্ধের ময়দানে লড়াইও করতে পারেন। ইসলাম তাদের সেই অধিকার দিয়েছে। পশ্চিমারা নারীদের সম-অধিকারের নামে পণ্যে পরিণত করেছে। সম-অধিকার নয়, সমাজে নারীর ইসলামি অধিকার প্রতিষ্ঠা হলেই প্রকৃত সম্মান পাবে নারী সমাজ। আর তাহলেই জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের মতো অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করা যাবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

বিষয়: