আবারও ‘গোল নাকি ফাউল’ বিতর্কে বিশ্বকাপ

স্পোর্টস ডেস্ক

আবারও ‘গোল নাকি ফাউল’ বিতর্কে বিশ্বকাপ

বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে গ্রুপ ‘ই’-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের শুরুতেই বিতর্কের জন্ম দিলেন মার্কিন নারী রেফারি টরি পেনসো। জার্মানির প্রথম গোলের আগে স্পষ্ট ফাউল হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলে রেফারিকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান ইকুয়েডরের ফুটবলাররা। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভিএআরের সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন সমর্থকদের একাংশ।

নিউইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নকআউটে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখতে জয়ের বিকল্প ছিল না ইকুয়েডরের সামনে। কিন্তু ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই পিছিয়ে পড়ে লাতিন আমেরিকার দলটি। ফ্লোরিয়ান ভির্টজের পাস থেকে সহজ ফিনিশে জার্মানিকে এগিয়ে দেন লেরয় সানে।

তবে গোলটি ঘিরেই শুরু হয় বিতর্ক। গোলের আগে বল দখলের লড়াইয়ে জার্মান মিডফিল্ডার আলেক্সান্ডার পাভলোভিচের উঁচু পা ইকুয়েডরের পেদ্রো ভিতের মাথায় লাগে বলে দাবি করে ইকুয়েডর শিবির। সংঘর্ষে ভিতে মাটিতে পড়ে গেলেও রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। সেই আক্রমণ থেকেই আসে সানের গোল।

গোল হজমের পর ক্ষুব্ধ ইকুয়েডরের খেলোয়াড়রা রেফারি টরি পেনসোকে ঘিরে প্রতিবাদ জানান। তিনি খেলোয়াড়দের শান্ত হতে বলেন এবং ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজন হলে ভিএআর বিষয়টি পর্যালোচনা করবে। কিন্তু কোনো অন-ফিল্ড রিভিউ ছাড়াই গোল বহাল রাখা হয়।

স্টেডিয়ামে উপস্থিত ইকুয়েডর সমর্থকেরাও সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিরতির বাঁশি বাজতেই ইকুয়েডরের কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে সরাসরি ম্যাচ কর্মকর্তাদের কাছে গিয়ে অভিযোগ জানান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। অনেক সমর্থকের দাবি, এটি ছিল স্পষ্ট ফাউল এবং ভিএআরের হস্তক্ষেপ করা উচিত ছিল। কেউ কেউ লিখেছেন, ‘এত পরিষ্কার ফাউল উপেক্ষা করা অবিশ্বাস্য’, আবার কারও মতে, ‘ইকুয়েডরকে বঞ্চিত করা হয়েছে।’

তবে বিপরীত মতও ছিল। অনেকের দাবি, পাভলোভিচ পুরো সময় বলের দিকেই নজর রেখেছিলেন এবং ইকুয়েডরের খেলোয়াড়ই নিজের মাথা বাড়িয়ে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন। তাই রেফারির সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল বলেও মত দেন তারা।

বিতর্কে বিচলিত না হয়ে অবশ্য দ্রুতই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় ইকুয়েডর। মাত্র সাত মিনিট পর নিলসন অ্যাঙ্গুলোর দুর্দান্ত গোলে সমতায় ফেরে দলটি। সেটিই ছিল এবারের বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের প্রথম গোল।

শেষ পর্যন্ত নাটকীয় লড়াইয়ে জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে ইকুয়েডর। তবে ম্যাচের শুরুতে টরি পেনসোর সেই সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত রেফারিং বিতর্ক হয়ে রয়ে গেছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন