আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

কোনো অভিযোগ করতে চাই না, না করলেই টার্নিং পয়েন্ট আসবে : নাসুম

পার্থ রায়, সিলেট থেকে

কোনো অভিযোগ করতে চাই না, 
না করলেই টার্নিং পয়েন্ট আসবে : নাসুম

বিপিএলে সিলেট টাইটান্সের হয়ে শেষ ম্যাচে ৭ রানে শিকার করেছেন ৫ উইকেট। দারুণ বোলিংয়ের পর তিনি আলোচনায় এসেছেন নিজের বোলিং নিয়ে। বিপিএলে দারুণ করা নাসুম জাতীয় দলের হয়েও নিয়মিত পারফরমার। আছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলেও। গতকাল টিম হোটেলে আমার দেশের মুখোমুখি হয়ে কথা বলেন নাসুম আহমেদ।


একদম সাম্প্রতিক বিষয় দিয়ে শুরু করি। প্রেজেন্টেশনে বলছিলেন আপনি ইনসুইংটা ট্রাই করছেন। কত দিন ধরে ট্রাই করছিলেন?

বিজ্ঞাপন


নাসুম আহমেদ : আসলে এটা অনেক দিন ধরেই চেষ্টা করছি। বাট, মাঠে কখনো করিনি, আত্মবিশ্বাস ছিল না। তো শেষ তিন-চার মাস ধরে দেখছি ওটা ভালোই করছে। কিন্তু এখনো যে শতভাগ সঠিক পড়ছে, তা কিন্তু নয়। এখনো কিন্তু একটু ওপরে পড়ে যাচ্ছে। ওই বলটি যদি আরেকটু পেছনে পড়ে, তাহলে আমি মনে করি ওটা অনেক ভালো এবং কার্যকর হবে। দেখুন, কালও (গত পরশু) সৌম্য ভাই যেটা মারল, তা একটু ওপরে ছিল। এরপর রানা যে বলটি স্লগ করতে চেয়েছিলেন ওটাও একটু ওপরে ছিল। দুটি একই লেংথে ছিল, বাট একটি ব্যাটে লেগেছে, একটি লাগেনি। দুটিই আউট সুইং বল ছিল। কিন্তু মনে হয় এই লেংথটি আরেকটু পেছনে হলে ইফেক্টিভ হতো। আমি ওটা ট্রাই করছি, এখনো শতভাগ হয়নি।

ক্যারিয়ারের ১৩ বছর পর এসেও আপনি নতুন কিছু মানে চেষ্টা করছেন, এটা কি সবসময় আপনার মধ্যে কি এই জিনিসটা থাকে যে একটা নতুন কিছু শিখবো?


নাসুম আহমেদ: হ্যাঁ, আমি যখন প্র্যাকটিস করি বা রুমে যখন শুয়ে থাকি আমার বিছানায় একটা বল থাকে। তো আমি ওইটা ধরে চেষ্টা করি। ঐ হাতের মধ্যেই। আমি এই হাতের রিস্টের মধ্যেই আমি চেষ্টা করি এই বলটা কিভাবে ছাড়া যায়। টিভিতে আমি লেফট আর্ম স্পিনারদের বোলিং দেখি। ও আসলে কি করছে, ওই সময় থেকেই ঐরকম ভাবে বল ধরার চেষ্টা করি আর কি। বাট বডির কোনো কিছু পরিবর্তন করি না। যা করার এই রিস্ট দিয়ে মানে আঙ্গুল দিয়েই করার চেষ্টা করি।

আপনার জীবন কী শুধুই ক্রিকেটময়?


নাসুম: আমি ধরেন এক মাসের একটা ট্যুর করে আসলাম বা একটা টুর্নামেন্ট শেষ করে আসলাম, খুব প্ল্যান করে আসবো এক সপ্তাহ কোথাও বেরি হব না, কোন কাজ-কামই করব না। এক সপ্তাহ খাবো-দাবো, ঘুমাবো আর রেস্ট করব। কিন্তু একটা রাত পার হতেই পরেরদিন এসে একটু দৌড়ে আসবো। মানে এইটা আমার হয়ে যায় ভাই, আমি আসলে থাকতে পারি না। আমি অনেক অনেক এক্সাইটেড হয়ে আসি, অনেকদিন রেস্ট করব। কিন্তু আমি ওইটা পারি না।

এটাই কী আপনাকে অনুপ্রেরণা দেয়?


নাসুম: আমি কিন্তু অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ খেলে এসেও আমি ঢাকা ফার্স্ট ডিভিশন খেলেছি। কারণ হচ্ছে যে আমি লিস্টের জন্য ঐরকম ভাবে প্রস্তুত ছিলাম না। আমি ঐ বছর আবার ফার্স্ট ডিভিশন খেলছি এবং প্রায় ৩৬টা উইকেট পেয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকার করি। এবং ঐখানে প্রায় ৪০০-এর কাছাকাছি আমি রানও করছি। তো ঐ সময় এইটা আমার মনের মধ্যে আসছে যে প্রিমিয়ার লিগ আমি এখন খেলব না, আমি আরো এক বছর পরে খেলব। এইজন্য আবার আমি ফার্স্ট ডিভিশন খেলছি। তো ঐখানেই আমার ডিফারেন্ট। আমার মনে হয় একটু পরিপূর্ণ হয়ে গেছি, ভালো একটা জায়গায় আমার ডেবু হয়েছে। ঐখানে আমি ভালো করতে পারছি বলে হয়তোবা আমি খারাপ সময় গেলেও ওভারকাম করতে পারছি আর কি।


স্পিনার হিসেবে কোন জিনিসটা আপনার জন্য সবচেয়ে জরুরি মনে হয়?


নাসুম: এখন আমি আপনাকে দেখে যদি মনে করি আমার এর থেকে আরেকটু এই করতে হবে, ওই করতে হবে। আমি কখনো আপনি হতে পারবো না। আপনাকে নিয়ে চিন্তা করা যখন আমি ছেড়ে দেব আমার লাইফ এমনিই পরিবর্তন হয়ে যাবে। আপনাকে যখন থেকে আমি আমার প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবা বাদ দিয়ে দেব তখন থেকে আমার সবকিছু চেঞ্জ হয়ে যাবে। আপনাকে নিয়ে যখন আমি কমপ্লেইন করা ছেড়ে দেব তখন থেকে আমার সবকিছু চেঞ্জ হয়ে যাবে। অনেকগুলো আছে। মেইন পার্টি ধরেন, কমপ্লেইন করাটা যখন একটা মানুষ ছেড়ে দেবে তখনই ওর লাইফে টার্নিং পয়েন্টটা শুরু হয়ে যাবে। আমি কাউকে নিয়ে কোনো কমপ্লেইন করতে চাই না।
শুরুতে মনে করা হতো যে আপনি একটু ডিফেন্সিভ বোলার, রান কম দেবেন। আবার খুব দ্রুত সময়েও বল করে ফেলেন। এটা কী ইচ্ছাকৃত?


নাসুম: এটা আমার হয়ে যায়। আমি খুব দ্রুত বল করি। আমি এটা সবখানে আমি ডমেস্টিকও যখন খেলি, দ্রুতই আমার ওভার শেষ হয়ে যায়। এইটা কিন্তু আমি আমার টিমের স্বার্থেই করি, টিমের চিন্তাভাবনাতেই করি, আমি আমার স্বার্থে করি না। সবাই চায় উইকেট নিতে।আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর শুকরিয়া যে এই জিনিসটা এখন আমার ফিল হয় যে এখন আমার টিমের একটা উইকেট জরুরি, এখন আমার কেউ বলা লাগে না যে এইখানে রান কম দাও, এইখানে একটা উইকেট বাইরে এখন আর বলা লাগে না। এখন আমি বুঝি আমি বোলিংয়ে আসার আগেই চিন্তা করি এইখানে আমার এই ওভারে রানটা আটকাতে হবে। এই ওভারে আমার একটা উইকেট বের করতে হবে আমার টিমের জন্য অনেক হেল্প হবে। এইজন্য হয়তোবা এখন টিমও অনেক কিছু দিতে পারছে, টিমও আমাকে ট্রাস্ট করছে।

আপনাকে নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়। এর মধ্যেও নিয়মিত পারফর্ম করে যান। এটার আসলে ব্যাখ্যা কী?


নাসুম: আমি যখন ভাই টিমের ভেতরে ঢুকে যাই আমার এগুলা আর কোনো কিছুই মাথায় থাকে না। তখন শুধু খেলাই খেলা। আমার আর কিছু মাথায় থাকে না।

ব্যাটিংটা নিয়ে একটু বলবেন…

নাসুম: এখন যদি আমি আমার ব্যাটিংয়ে আর কি মনোযোগ দেই আমার এইদিকে সমস্যা হয়ে যাবে। হ্যাঁ, ঠিক আছে এই যে মনোযোগ দেব না যে তা না, এটা দলের জন্য প্রয়োজন, ১০-১৫-২০ রান প্রয়োজন। তো এইটা আমি করতে পারি আলহামদুলিল্লাহ। হ্যাঁ, এটার জন্য আমি আলাদাভাবে এক্সট্রা কাজ করি যাতে ঐ কাজটা আমি যাতে করতে পারি।

শেষ দিকের ব্যাটিংটার কথা বলছেন মানে আপনাদের সবার বলারদের মধ্যেও কি এই কথাটা হয় যে আমরা কিছু রান করব?


নাসুম: হ্যাঁ ভাই, প্রচুর হয় ভাই। আমরা যদি ১০ রান করে করি, পাঁচ রান করে করে টিমের জন্য আসলেই কিন্তু ১০০, যখন আমার দল করলো ১৪০ রান আমরা দুইজন মিলে করলাম ১০ রান। ১৫০ কিন্তু হয়ে যাচ্ছে। বা ৫০ করলে ১৬০ কিন্তু হয়ে যাচ্ছে। এই দুই বলে পাঁচ রান, এক পাঁচ বলে ১২ রান এইরকম করলে অনেকটা এগিয়ে যাবে, লাস্টের যে তিন-চারজন থাকে।

সাম্প্রতিক সময়ে টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটিং ব্যর্থতার পর একটা সময় মনে হয়েছিল যে আপনি ম্যাচ জিতিয়ে দেবেন...


নাসুম: না, আমি কিন্তু একটা জায়গায় ডেঞ্জারাস ভাই, সময় পেলে কিন্তু প্রতিপক্ষ টিমের জন্য ভয়ঙ্কর আমি।

সামনে বিশ্বকাপ খেলতে যাবেন। অধিনায়কের সঙ্গে কেমন কথা হয়েছে?


নাসুম: বিশ্বাস রাখছে। বাট আপ এন্ড ডাউন আছে। ভেতরে এতো বুঝা যায় না। বাট বাইরেও অনেক কথা বলে, অনেক বুঝায় তো মাশাআল্লাহ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন