একটি টুর্নামেন্টেই ভারত বনাম পাকিস্তানের ফাইনালসহ তিন তিনটি ম্যাচ, ভাবা যায়!
যদিও মাঠের খেলায় ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ ইদানীং একেবারেই জমছে না! বর্তমান ভারতের ক্রিকেট এশিয়ায় তো অবশ্যই, বিশ্ব ক্রিকেটেও ছড়ি ঘোরাচ্ছে নির্দ্বিধায়। অন্যদিকে পাকিস্তানের ক্রিকেট অনেকটাই ম্রিয়মাণ।
আজকের এশিয়া কাপের ফাইনালেও তাই পরিষ্কারভাবে ভারত হট ফেভারিট। টুর্নামেন্টে তারা টানা ছয় ম্যাচ জিতে আজকের ফাইনালে খেলছে। এর মধ্যে গ্রুপ পর্ব এবং সুপার ফোর- দুবারের মোকাবিলায় পাকিস্তানকে সহজেই হারিয়েছে। ওই দুই ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা প্রতিযোগিতার তেমন কোনো আভাসই মেলেনি। আজ এই টুর্নামেন্টে তৃতীয়বারের মতো মুখোমুখি লড়াইটাও কি একপেশে হবে, নাকি পাকিস্তান ঘুরে দাঁড়িয়ে চমকপ্রদ কিছু জমা রেখেছে? জানা আছে নিশ্চয়ই, দেয়ালে পিঠ ঠেকলে পাকিস্তান ঠিকই রুখে দাঁড়াতে জানে।
দেশ দুটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবারের এশিয়া কাপে যেভাবে মাঠে ঢুকে পড়েছে, তাতে আজকের ফাইনালকে আপনি দুই প্রতিবশী দেশের মধ্যে আরেকটি ‘ক্রিকেট যুদ্ধ’ বলতেই পারেন!
হ্যান্ডশেক না করা বিতর্কের জন্ম দিয়ে ভারতীয় দল এবং মাঠে ব্যাটকে বন্দুকের ট্রিগার বানিয়ে পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা অঙ্গভঙ্গি করে এবারের এশিয়া কাপকে রাজনৈতিক বৈরিতা এবং আনস্পোর্টিং আচরণের বিশ্রী ভঙ্গি এবং কুৎসিত রূপ দিয়েছে। আমার বিবেচনায় ‘দিস ইজ নট ক্রিকেট’!
ভারত-পাকিস্তানের প্রতিটি ম্যাচ মানেই রেকর্ড বুকে নতুন কিছু লেখা। এই ম্যাচে মাঠে যারা নিজেদের আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রেখে ক্রিকেটটা খেলতে পারবে, একে অপরের ওপর ক্রিকেটীয় প্রভাব বিস্তার করতে পারবে, তারাই বিজয় মঞ্চে ওঠার সিঁড়িগুলো ততটুকুই নিজেদের করে নিতে পারবে।
আজকের ফাইনাল যে দলই জিতুক, আমি মনেপ্রাণে চাইব রোববারের এই রাতটা যেন হয় শুধুই ক্রিকেটের। সে আনন্দের অপেক্ষায় আছি।
*সমীর কুমার বিশ্বাস, ময়মনসিংহের সাবেক ক্রিকেটার
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

