লড়াইটা ছিল প্রথম রাউন্ডের। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ফেভারিট দানিল মেদভেদেভ খেলছিলেন নিজের মতো করেই। প্রথম সেট জিতে এগিয়েও ছিলেন এ পঞ্চম বাছাই। কিন্তু দ্বিতীয় সেটেই খেই হারিয়ে ফেলেন মেদেভেদেভ।
এই সেট জিতে সমতায় ফেরেন অবাছাই প্রতিপক্ষ কাসিদিত সামরেজ। বিশ্বের ৪১৮ নম্বর খেলোয়াড়ের বিপক্ষে তৃতীয় সেটেও কিছুতেই যেন পেরে উঠছিলেন না এ রুশ তারকা। তিন নম্বর সেটও যখন নিজের করে নিচ্ছিলেন থাইল্যান্ডের অখ্যাত এই খেলোয়াড়, ব্যাপারটা ঠিক মেনে নিতে পারছিলেন না মেদভেদেভ।
প্রথমবার কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যামে খেলা সামরেজের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে মাথা গরম করে ফেলেন। মেজাজ বিগড়ে যাওয়ায় রাগটা ঝারেন হাতের র্যাকেট আর নেট ক্যামেরার ওপর।
টেনিস কোর্টে খেলোয়াড়দের ক্ষোভে ফেটে পড়ার ঘটনা অহরহই ঘটে থাকে। তবে এসব ক্ষেত্রে খেলোয়াড়রা সাধারণত হাতের র্যাকেট কোর্টে আছড়াতে আছড়াতে ভেঙে ফেলেন।
কেউ আবার কোর্টের আম্পায়ারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন কোনো সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়ে। অনেকে আবার বলবয়ের সঙ্গে বাজে আচরণ করতে পিছুপা হন না। কেউ কেউ নিজেই নিজের ওপর রাগ উগড়ে দেন। কষ্ট দেন নিজেকেই।
বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যামের তিনবারের রানার্সআপ মেদভেদেভ যেটা করলেন সেটা একটু ব্যতিক্রমই। রড লেভার অ্যারেনায় শুধু হাতের র্যাকেটই ভাঙেননি। ধ্বংস করে ছেড়েছেন নেটে লাগানো ক্যামেরাও।
বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যামের তিনবারের রানার্সআপ মেদভেদেভ যেটা করলেন সেটা একটু ব্যতিক্রমই। রড লেভার অ্যারেনায় শুধু হাতের র্যাকেটই ভাঙেননি। ধ্বংস করে ছেড়েছেন নেটে লাগানো ক্যামেরাও।
তৃতীয় সেটের শেষ গেমে মেদভেদেভ পিছিয়ে ছিল ৪০-১৫ পয়েন্টে। এগিয়ে থাকা সামরেজের একটি শট নেটে লাগলে বলের গতিপথ বদলে যায়, এ কারণে নিজের ওপর ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন মেদভেদেভ। কোনোমতে সেই শট অবশ্য রুখে দিয়েছিলেন। সামরেজের ফিরতি বল আর মোকাবিলা করতে পারেননি। সেটটিতে হার মেনে নেন মেদভেদেভ।
আর লিড নেওয়ার আনন্দে হেসে উঠেন ওয়াইল্ড কার্ডধারী সামরেজ। অবাছাই প্রতিপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করে নিজের ওপর আর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি। সোজা চলে যান নেটের কাছে। হাতের সমস্ত শক্তি দিয়ে র্যাকেট দিয়ে ক্যামেরার ওপর গুনে গুনে পাঁচবার আঘাত করেন ২০২১ সালে ইউএস ওপেন জয়ী। তাতে র্যাকেট আর ক্যামেরা দুটোই চুরমার হয়ে যায়।
রাগ দেখানোটা অবশ্য শাপে বর হয়ে দাঁড়িয়েছিল মেদভেদেভের জন্য। পরের সেটেই প্রত্যাবর্তনের দারুণ গল্প রচনা করেন রাশিয়ান এ খেলোয়াড়। চতুর্থ সেটের সঙ্গে পঞ্চম সেটও জিতে ম্যাচটাই নিজে করে নেন মেদভেদেভ। মেলবোর্নে ৬-২, ৪-৬, ৩-৬, ৬-১ ও ৬-২ গেমে জিতে মেদভেদেভ কেটেছেন দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট।
মেলবোর্নে খেলা হলেই মেদভেদেভের যেন পাঁচ সেটের কমে খেলাই শেষ হয় না। এটা যেন অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছেন এ রুশ তারকা। এনিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে পাঁচ সেটে খেললেন টানা চার ম্যাচ।
গত বছরের ফাইনালে জানিক সিনারের বিপক্ষে দুই সেটে এগিয়ে থেকেও খেলা শেষ করেন পঞ্চম সেটে গিয়ে। শেষের তিন সেট হেরে ইতালিয়ানের কাছে পরে আসরের শ্রেষ্ঠত্বই হারিয়ে ফেলেন মেদভেদেভ।
তাই তো ম্যাচ শেষে কোর্টে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় রসিকতা করে মেদভেদেভ বলেন, ‘জানি, যখন বেশি টেনিস খেলি, তখন আরও ভালো খেলি। তাহলে কেন এক ঘণ্টা ৩০ মিনিট খেলব? নিজের শটগুলো অনুভব ও ভালো লাগার অনভূতির কাজ করতে কম করে হলেও তিন ঘণ্টা লাগে।’
২০১৭ সালে অভিষেক হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ান ওপেন থেকে একটু আগেভাগে বিদায় নেওয়ার শঙ্কা পেয়ে বসেছিল মেদভেদেভকে। আর প্রতিপক্ষ সামরেজ শক্তি হরিয়ে খানিকটা দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন।
এই সুযোগেই খেলায় ফেরেন আগামী ফেব্রুয়ারিতে ২৯ এ পা দিতে যাওয়া এ তারকা। নিজের অগ্নিমূর্তিধারণ করা নিয়ে মেদভেদেভ বলেন, ‘দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেটে বলে স্পর্শই করতে পারছিলাম না। পূর্ণ শক্তি, সব কিছু দিয়েই খেলছিলাম। কিন্তু জানি না কি হচ্ছিল।’
অন্য দিকে ছেলেদের এককে জয় তুলে নিয়েছে গায়েল মনফিলস। ফরাসি এ খেলোয়াড় পাঁচ সেটের রোমাঞ্চ শেষে জেতেন ৭-৬, (৯-৭), ৬-৩, ৬-৭ (৬-৮), ৬-৭ (৫-৭) ও ৬-৪ গেমে। জয়ের হাসি হেসেছেন আর্মেনিয়ান বংশোদ্ভূত রুশ খেলোয়াড় কারেন খাচানোভ। তবে বিদায় নিয়েছেন সুইস খেলোয়াড় স্তান ওয়ারিঙ্কা।
মেয়েদের এককে জয় দিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শুরু করেছেন এমা রাদুকানোও। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে ব্রিটেনের এ তারকা ৭-৬ (৭-৪) ও ৭-৬ (৭-২) গেমে ধরাশায়ী করেন রাশিয়ান প্রতিপক্ষ একাতেরিনা অ্যালেজান্দ্রোভাকে। তার সঙ্গে দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট কেটেছেন কাজাখস্তানের সুন্দরী এলেনা রাইবাকিনা ও যুক্তরাষ্ট্রের মেডিসন কিস।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

