ফিলিস্তিনের ওপর আগ্রাসনের প্রতিবাদে ফুটবল থেকে ইসরায়েলকে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আলোচনা অনেকদিন ধরেই চলমান। বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা থেকে দেশটিকে নিষিদ্ধ করার জোরালো আলোচনা তোলে ইউরোপের কয়েকটি দেশ। নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে ফিফার নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তাতে ইসরায়েলকে নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার পক্ষেই তার মত।
ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা (উয়েফা) গত সেপ্টেম্বর তাদের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ভোটাভুটি আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতির একটি শান্তি প্রস্তাব ঘোষণা করার পর সেই আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়। দ্য অ্যাথলেটিক–এর এক বিশদ প্রতিবেদনে বলা হয়, পরবর্তী সময়ে ফের আলোচনা হলেও গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল—‘কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা যেতে পারে’।
ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে বহু দেশ সমর্থন জানিয়ে আসছে। আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএআই) ইউয়েফার সব প্রতিযোগিতা থেকে ইসরায়েলকে সাময়িকভাবে বহিষ্কারের প্রস্তাব উত্থাপনের পক্ষে জোরালোভাবে ভোট দেয়।
এদিকে ২০২২ সালে ইউক্রেনে আগ্রাসনের কারণে রাশিয়া এখনো আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ থাকলেও, ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো মনে করেন—এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া উচিত। স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমাদের এটা করতেই হবে। কারণ এই নিষেধাজ্ঞা কোনো কিছু অর্জন করতে পারেনি, বরং আরও হতাশা ও ঘৃণা সৃষ্টি করেছে। রাশিয়ার ছেলে-মেয়েরা যদি ইউরোপের অন্যান্য অংশে ফুটবল খেলতে পারে, তাহলে সেটি সহায়ক হবে।’
রাশিয়ার প্রসঙ্গে টেনে ইসরায়েলকে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে মত দিতে পারেননি ফিফা সভাপতি। তার মতে, রাশিয়ার মতো একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলে সেটি হবে ‘একটি পরাজয়’। এ সময় তিনি ফিফার নিয়ম পরিবর্তন নিয়ে ইনফান্তিনো বলেন, ‘আমাদের সংবিধানে এমন বিধান যুক্ত করা উচিত, যাতে রাজনৈতিক নেতাদের কর্মকাণ্ডের কারণে কোনো দেশকে কখনোই ফুটবল খেলতে নিষিদ্ধ না করা হয়। কারও না কারও তো সম্পর্কের সেতু খোলা রাখতে হবে।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

