রাউন্ড অব থার্টি টু: ব্রাজিলের সামনে জাপানি চ্যালেঞ্জ

স্পোর্টস রিপোর্টার

রাউন্ড অব থার্টি টু: ব্রাজিলের সামনে জাপানি চ্যালেঞ্জ

পরিসংখ্যানে ব্রাজিল এগিয়ে। তবে খেলার মাঠে পরিসংখ্যানে এগিয়ে থাকাই সব সময় ম্যাচ জেতায় না। অন্তত বিশ্বকাপের মঞ্চে এই তথ্য প্রমাণিত। পরিসংখ্যানে অনেক এগিয়ে থাকলেও সেই সংশয় এবং দ্বিধা নিয়েই এবারের বিশ্বকাপের রাউন্ড অব থার্টি টুতে জাপানের মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।
২৯ জুন, যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে হবে এই বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচ। জয়ী দল জায়গা করে নেবে শেষ ষোলোতে। কাগজে-কলমে ব্রাজিলই ফেবারিট। কিন্তু সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বলছে, জাপানকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। বরং অনেকের মতে, গত কয়েক দশকের মধ্যে এটাই জাপানের সবচেয়ে পরিণত ও শক্তিমান দল।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এমন কিছু ম্যাচ থাকে, যেগুলো শুধু দুই দলের লড়াই নয়—দুই দর্শন, দুই সংস্কৃতি আর দুই ফুটবল দর্শনের সংঘর্ষ। শেষ ষোলোতে ব্রাজিল-জাপানের ম্যাচ সেই আনন্দের আবেশই ছড়াচ্ছে। দারুণ এক ম্যাচ অপেক্ষা করছে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের সামনে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী জাপান।
গত কয়েক বছরে জাপান ধারাবাহিকভাবে ইউরোপের বড় বড় দলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এসেছে। ২০১৯ সালের পর তারা কোনো ইউরোপীয় দলের কাছে হারেনি। এই সময়ে তারা জার্মানিকে দুইবার হারিয়েছে, জার্মানির মাঠে চার গোল করেছে, বিশ্বকাপের ঠিক আগে ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে। শুধু তাই নয়, গত বছর ব্রাজিলের বিপক্ষেও ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্যভাবে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছিল। সেই জয়ই তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
জাপানের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের দলগত ফুটবল। তারা ব্যক্তিনির্ভর নয়, বরং পুরো দল একসঙ্গে আক্রমণ ও রক্ষণ করে। বল হারানোর পর মুহূর্তেই প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে বল পুনরুদ্ধার করা, মাঝমাঠে দ্বিতীয় বল দখল করা, দ্রুত প্রেসিং করা এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই রক্ষণ থেকে আক্রমণে উঠে যাওয়া—এগুলোই তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। শৃঙ্খলাবদ্ধ ডিফেন্স, দ্রুত পাসিং এবং ক্লান্তিহীন দৌড়ের কারণে প্রতিপক্ষের জন্য তারা সবসময়ই কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে ব্রাজিলের আক্রমণভাগ এখনও বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র দুর্দান্ত ফর্মে আছেন এবং গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করেছেন। তবে মাঝমাঠে মাঝে মাঝে ব্রাজিলকে কিছুটা নড়বড়ে দেখিয়েছে, আর সেই জায়গাটিই কাজে লাগাতে চাইবে জাপান। নেইমার দলে ফিরেছেন। নিশ্চিতভাবে জাপান ম্যাচের পরিকল্পনা তাকে রেখেই সাজাচ্ছেন ব্রাজিল কোচ।
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস অবশ্য ব্রাজিলের পক্ষেই কথা বলে। এখন পর্যন্ত তারা ১৭ বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ব্রাজিল জিতেছে ১৪টি, জাপান জিতেছে মাত্র একটি, আর দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। তবে জাপানের সেই একমাত্র জয়টিই এসেছে গত বছর, যখন তারা ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে ব্রাজিলকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল।
এ কারণেই এবারের ম্যাচটিকে অনেকেই রাউন্ড অব থার্টি টু’র সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াই হিসেবে দেখছেন। একদিকে হেক্সা মিশনের স্বপ্ন আঁকা ব্রাজিল, অন্যদিকে ভয়ডরহীন, সংগঠিত এবং আত্মবিশ্বাসে ভরপুর জাপান।
কাগজে-কলমে ব্রাজিল এগিয়ে। কিন্তু মাঠের খেলায় জাপানের বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আছে-তারাও ইতিহাস লিখতে পারে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...