প্রতিপক্ষ ব্রেন্টফোর্ড রক্ষণে দৃঢ়তা দেখিয়ে যাচ্ছিল দোর্দন্ড প্রতাপে। তাতে ম্যাচের নিরবতা যেন কিছুতেই ভাঙছিল না। শেষে ঘাম ঝরিয়ে ম্যাচে গোল খরা কাটিয়ে খুশির জোয়ারেই যেন ভাসছিল ম্যানচেস্টার সিটি। ফিল ফোডেনের ডাবল গোলে জয়ের স্বপ্নমালাই বুঁনছিল কোচ পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। কিন্তু ভাগ্য সহায় না হলে যা হয় আরকি! শেষের ঝড়ে সিটির সব আশা যেন তচনচ হয়ে গেছে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে প্রত্যাবর্তনের দারুণ গল্প লিখে ডিফেন্ডিং চ্য়াম্পিয়নদের ২-২ গোলে রুখে দিয়েছে পুঁচকে ব্রেন্টফোর্ড। এ ড্র থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট, বাজে সময়টা যেন কিছুতেই দূর হচ্ছে না ইতিহাদ শিবিরের আশ-পাশ থেকে। তাই তো টানা তিন ম্যাচ জয়ের পর ফের হোঁচট খেলো সিটি।
ফোডেনের জন্য ব্রেন্টফোর্ডের জিটেক স্টেডিয়াম যেন বেশ পয়া। গত মৌসুমে এই মাঠে উপহার দিয়েছিলেন হ্যাটট্রিক পারফরম্যান্স। মঙ্গলবার রাতে সেই চেনা মাঠে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দেখা মিলল ফোডেনের চেনা ছন্দ। ম্যাচের ৬৬ ও ৭৮ মিনিটে উপহার দেওয়া ফোডেনের জোড়া গোলেই জয়ের সম্ভাবনা উঁকি দিয়েছিল সিটির সামনে। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ের চিত্রনাট্য পাল্টে যায় শেষের ১০ মিনিটেই। লড়াইয়ের ৮২ মিনিটে ব্রেন্টফোর্ডের জার্সি গায়ে ব্যবধান কমিয়ে ফেলেন ইওয়ান ভিসা। ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে (৯০+২) সমতাসূচক গোলটি এনে দেন ক্রিস্টিয়ান নরগার্ড। ফের পয়েন্ট খুইয়ে ২১ ম্যাচে ১০ জয় ও ৫ ড্রয়ে ৩৫ পয়েন্টের সংগ্রহ নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের ষষ্ঠ স্থানেই রয়ে গেছে সিটি।
এ দিকে চলতি মৌসুমে লিভারপুলের হার বলতে এক ম্যাচ। দ্য রেড শিবির নটিংহাম ফরেস্টের কাছে ধরাশায়ী হয়েছে ঘরের মাঠে অ্যানফিল্ডে। মঙ্গলবার রাতে এবার নটিংহ্যামের মাঠেও হারের দ্বারপ্রান্তেই পৌঁছে গিয়েছিল লিভারপুল। ফুটবল অনুরাগীরা তো ধরেই নিয়েছিলেন, লিভারপুল ফের হারতে যাচ্ছে দলটির বিপক্ষে। এ মৌসুমে দারুণ সময় কাটানো নটিংহ্যামও দাপট দেখিয়ে এগিয়ে যায় ম্যাচের ৮ মিনিটেই। স্বাগতিকদের লিড এনে দেন ক্রিস উড। ম্যাচের ৬৬ মিনিট পর্যন্ত এগিয়েছিল নটিংহ্যামই। পরে লিভারপুলের ত্রাতা বনে যান কস্তাস সিমিকাস ও দিয়েগো জোতা। দুজনে মিলে লিভারপুলের জালে বল জড়িয়ে দেন। সিমিকাসের কর্নার কিক থেকে উড়ে আসা বলে মাথা ছুঁয়ে দেন জোতা। বদলি হিসেবে মাঠে নামার ২২ সেকেন্ডের মধ্যেই কাজের কাজটি করে ফেলেন এ তারকা পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। এতে জয়ের সম্ভাবনা জাগলেও পয়েন্ট ভাগাভাগিতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় লিভারপুলকে। এ নিয়ে ২০ ম্যাচে ১৪ জয় ও ৫ ড্রয়ে ৪৭ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরেই রয়েছে কোচ আর্নে স্লটের শিষ্যরা।
জয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে চেলসিও। ঘরের মাঠ স্টামফোর্ড ব্রিজে দ্য ব্লুজ শিবিরকে ২-২ গোলে রুখে দিয়েছে বোর্নমাউথ। লিগ ম্যাচে হারের দুয়ারেই পৌঁছে গিয়েছিল এ ইংলিশ জায়ান্ট ক্লাবটি। ইনজুরি টাইমের একেবারে শেষ মুহূর্তে রিস জেমসের (৯০+৫ মিনিটে) গোলে গোলে কোনোমতে একটি পয়েন্ট বাঁচায় ওয়েস্ট লন্ডনের ক্লাবটি। এ নিয়ে লিগে টানা পাঁচ ম্যাচে জয় হাতছাড়া করল কোচ এনজো মারেস্কার শিষ্যরা। এ নিয়ে ২১ ম্যাচে ৩৭ পয়েন্টের পুঁজি নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে চেলসি। সমান ম্যাচে ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে বোর্নমাউথ। ম্যাচের ১৩ মিনিটেই এগিয়ে যায় চেলসি। পেনাল্টি থেকে জাস্টিন ক্লুইভার্ট (৫০ মিনিট) ও সারলোম সেমেনিওর (৬৮ মিনিট) গোলে জয়ের জয়ের আশায় ছিল বোর্নমাউথ। শেষে সফরকারীদের হৃদয় ভাঙেন জেমস।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

