রান উৎসবের বিপিএল এবার!

স্পোর্টস রিপোর্টার, সিলেট থেকে

রান উৎসবের বিপিএল এবার!
বিপিএলের ১১তম আসরের একটি ম্যাচের দৃশ্য

বিপিএলের কথা উঠলেই প্রথমে যে বিষয়টি আসে, তা হলো টি-টোয়েন্টির উৎসব হলেও রান হবে না। দলগুলোর দলীয় সংগ্রহ থাকবে ১৩০-৪০-এর আশপাশে। একই মাঠে টানা খেলা হওয়ায় এমন হচ্ছে- সে অভিযোগটাও থাকবে। বিপিএলের ১১তম আসরে অবশ্য তেমন কোনো কিছুর দেখা মিলছে না। উইকেটে আছে রান, বোলারদের উইকেট শিকারে করতে হচ্ছে পরিশ্রম। তাতে বিপিএল হয়ে উঠেছে বেশ উপভোগ্য। নিয়মিত এমন দৃশ্যের দেখা মিললে স্পষ্টই দর্শকের আগ্রহও থাকবে তুঙ্গে। এমন আশা তো করাই যায়।

বিপিএলের এমন আমূল বদলে যাওয়া সবাইকে বেশ অবাক করেছে। এর সবচেয়ে বড় কারণ সম্ভবত উইকেটের চরিত্রে বদল আসা। একদিন আগেই প্রেসবক্সে এসে সাংবাদিকদের এ কথাটাই বলেছিলেন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ। মূলত ওয়েস্ট ইন্ডিজের উইকেট দেখেই বিপিএলের এমন উইকেট নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল তার। আর তাতেই এসেছে এই সফলতা। অবশ্য উইকেটের আমূল বদলে যাওয়াই যে ক্রিকেটাররা বিপিএলে দারুণ করছেন- এমন ভাবনাটাও শতভাগ সঠিক নয়। কারণ, এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের আগে প্রস্তুতির জন্য এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে খেলেছেন ক্রিকেটাররা। শুধু ঘরোয়া ক্রিকেটারদের নিয়ে হওয়া এই টুর্নামেন্ট বিপিএলের আগে ক্রিকেটারদের টি-টোয়েন্টি মেজাজে ফেরাতে সাহায্য করেছে। যার সুফল বিপিএলের এমন দারুণ প্রদর্শনী।

বিজ্ঞাপন

বিপিএলের উইকেট নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটার পেছনে ছোট কাহিনি আছে, আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে সেন্ট কিটসে যে খেলাটা খেলেছি। পরিসংখ্যান যদি দেখেন ৩২২, ২৯৫ অতিরিক্ত করিনি আমরা। উইকেট যদি দেখেন, মনে হয়েছিল সিমেন্টে বানানো। মানে চোখ বন্ধ করে পিটাইছি। তখন আমার মনে হয়েছে যখন ভালো উইকেট হয়, তখন বোলাররা শেখে কীভাবে ভালো বল করতে হয়। আর ব্যাটাররা তো জানেই এখানে আমাকে কী করতে হবে। টি-টোয়েন্টিতে আমার ভালো উইকেট হতে হবে। আমি গ্রাউন্ডসম্যানকে বলেছি এবার উইকেট ভালো করতে হবে। এখন ব্যাটার মুভমেন্ট ভালো আছে এবং আড়াই মিলিমিটার ঘাসও আছে।’

বিপিএলের উদ্বোধনী দিনে দর্শকদের উত্তেজনা ও রান উৎসব আভাস দেয় ভিন্ন আমেজে হতে পারে এবারের আসর। উদ্বোধনী দিনে দুই ম্যাচেই রান ১৯০ স্পর্শ করেছে। অর্থাৎ, ম্যাচ হয়েছিল হাইস্কোরিং। দর্শক যেমন টি-টোয়েন্টি ম্যাচ উপভোগ করতে চান, ঠিক তেমনটাই পেয়েছিলেন। দ্বিতীয় দিনেও এর ব্যতিক্রম হয়নি, হয়েছে হাইস্কোরিং ম্যাচ। এমন হাইস্কোরিং ম্যাচ হওয়ায় অনেকের ধারণা হয়তো উইকেটে বোলারদের জন্য থাকছে না কোনো সুবিধা। এমন ভাবনারও কোনো কারণ নেই। কারণ, চার ম্যাচে ৮০ উইকেটের মধ্যে ৫৩ উইকেটের পতন হয়েছে। অর্থাৎ, মোট উইকেটের ৬৬ শতাংশের পতন হয়েছে। এই চার ম্যাচের মধ্যে এখন পর্যন্ত অলআউট হওয়ার ঘটনা ঘটেছে একবার। এই ৫৩ উইকেটের মধ্যে স্পিনারদের শিকার ২০ উইকেট। বাকি ৩৩ উইকেট শিকার করেছেন পেসাররা। অর্থাৎ, রান উৎসবের বিপিএলে ব্যাটারদের পাশাপাশি দাপুটে আছেন পেসাররা।

এ তো গেল বোলারদের পরিসংখ্যানের ফিরিস্তি। এবার একটু ব্যাটারদের দিকে চোখ রাখা যাক। এখন পর্যন্ত বিপিএলের চার ম্যাচে হয়েছে মোট ১৩৯৪ রান। গড় হিসাব করলে প্রতি ইনিংসে উঠেছে ১৭৪ রান। ওভারপ্রতি উঠেছে ৮.৮৭ করে। এমন দারুণ রেকর্ডেই স্পষ্ট এখন পর্যন্ত বিপিএলে আছে ব্যাটারদের দাপট। তাদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও অবশ্য ব্যাটারদের পক্ষেই কথা বলছে। ৮ ইনিংসে এসেছে সাতটি হাফ সেঞ্চুরি এবং ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৯৪ রান এসেছে ঢাকা ক্যাপিটালসের ব্যাটার ইয়াসির আলী রাব্বির ব্যাটে। অন্তত ২০ রানের ইনিংস খেলেছেন- এমন ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৫৭ স্ট্রাইকরেটে ব্যাটিং করেছেন ফরচুন বরিশালের ক্রিকেটার ফাহিম আশরাফ। দুর্বার রাজশাহীকে দারুণভাবে হারানোর ম্যাচে ৩২ বলে অপরাজিত ৫৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস আসে তার ব্যাটে।

বিপিএলে এখন পর্যন্ত ২১ বার অন্ততপক্ষে ২০ রানের ইনিংস দেখা গেছে। এর মধ্যে মাত্র একটি ইনিংস হয়েছে ১০০’র কম স্ট্রাইকরেটে। বাকি ২০ ইনিংসে স্ট্রাইকরেট ছিল ১০০’র ওপরে। এমনকি ছয়টি ইনিংস ছিল ২০০’র বেশি স্ট্রাইকরেটে। দেড়শ’র বেশি স্ট্রাইকরেটে হয়েছে ১০ ইনিংস। এমনসব রেকর্ডই বলে দেয়, এবারের বিপিএল হতে যাচ্ছে রান উৎসবের বিপিএল।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...