ঢাকা টেস্টে বিপদের মুখে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিন জালে আটকা পড়েছেন টাইগার ব্যাটাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে এই প্রতিবেদন লেখার সময় ৫৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়েছে পরাজয়ের শঙ্কায় ধুঁকছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। বাংলাদেশের মোট লিড এখন ৮০ রানের।
২৭ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ১ রানে তানজিদ হাসান তামিমের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় উইকেটে সাদমান ইসলামকে নিয়ে ২৭ রানের জুটি গড়েন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
শান্ত-সাদমানের জুটি ভাঙেন উইন্ডিজ অধিনায়ক রস্টন চেজ। একই ওভারে তাওহীদ হৃদয়কেও ফেরান তিনি। বড় শটে চেজকে চাপে ফেলতে গিয়ে মিড অনে ক্যাচ দেন হৃদয়। কোনো রান আসেনি তার ব্যাট থেকে। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান সাদমান এই ইনিংসে আউট হয়েছেন ১৩ রানে।
সাদমান-হৃদয়ের বিদায়ের ৫ রানের মাথায় আউট হন অধিনায়ক শান্ত। তাকেও ফিরিয়েছেন চেজ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের ৭৮তম ওভারে ফিল্ডিং করতে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন মুমিনুল হক। তার কনকাশন সাব হিসেবে ৬ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন জাকের আলী অনিক। জাকের উইকেটে এসে ১ রান করার পর ঝিরিঝিরি বৃষ্টি নামে মিরপুরে। নির্ধারিত সময়ে মিনিট পাঁচেক আগে চা বিরতির ঘোষণা দেন আম্পায়াররা।
এর আগে বাংলাদেশের ২৭২ রানের জবাবে ৪ উইকেটে ১৩৪ রান নিয়ে ব্যাট করতে নেমে দিনের প্রথম আধা ঘণ্টা কোনো উইকেটে হারায়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি তুলে নেন ত্যাগনারায়ন চন্দরপল। ফিফটির পরেই স্লিপের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। শরিফুলের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরার আগে ৫৬ রান করেন চন্দরপল।
চন্দরপলের বিদায়ের পর ষষ্ঠ উইকেটেও ৫১ রানের জুটি গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের স্পিন সামলে ভালোভাবেই এগোচ্ছিলেন রস্টন চেজ এবং জাস্টিন গ্রিভস। তবে প্রথম সেশনের শেষ ওভারে গ্রিভসকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন নাঈম হাসান। ফিফটি থেকে মাত্র ৪ রান দূরে থাকতে আউট হয়েছেন গ্রিভস।
প্রথম সেশনে রস্টন চেজকেও ফেরাতে পারত বাংলাদেশ।তবে মিরাজের বলে সিলি পয়েন্টে ক্যাচ মিস করেছেন মুমিনুল হক। ক্যাচটা তেমন সহজ না থাকলেও অসম্ভবও ছিল না।
দ্বিতীয় সেশনের শুরুটাও ইতিবাচক ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। সেশনের প্রথম ১৪ বলে তারা চার মেরেছিল ৪টি। তবে দাপট বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি উইন্ডিজ। জশুয়া বিশপকে ফিরিয়ে লাগাম টানেন মেহেদী মিরাজ।
এরপর শেষ ৩টি উইকেটই নিয়েছেন নাঈম হাসান। একই ওভারে ফেরান শামার জোসেফ আর জোমেল ওয়ারিক্যানকে। জোসেফ নাঈমের শর্ট বলে উইকেটকিপার লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন। ওয়ারিক্যানও আউট হয়েছে শর্ট বলে, এলবিডব্লিউর শিকার হয়ে। শেষ ব্যাটার জেইডন সিলসকে মিড অফে মিরাজের ক্যাচ বানান নাঈম।
ইনিংসে ৪ উইকেট নিয়েছেন নাঈম। এই ৪ উইকেট নেয়ার পথে টেস্টে ৫০ উইকেট পূর্ণ হয়েছে তার। বর্তমানে তার উইকেট ৫২টি। বলের হিসাবে বাংলাদেশের স্পিনারদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে দ্রুততম ৫০ উইকেট নিয়েছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

