আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

হামজায় কি বদলাবে বাংলাদেশের ভাগ্য?

স্পোর্টস রিপোর্টার, হবিগঞ্জ থেকে

হামজায় কি বদলাবে বাংলাদেশের ভাগ্য?

দেশের ফুটবলের জন্য আজ অন্যরকম এক আনন্দের দিন। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা অভিজ্ঞ তারকা ফুটবলার দেওয়ান হামজা চৌধুরী বাংলাদেশে আসছেন। শুধু তার আগমনেই সবকিছু সীমাবদ্ধ নয়, বাংলাদেশের জার্সি গায়ে মাঠ মাতাবেন এই মিডফিল্ডার। দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে প্রথম কোনো দেশের হয়ে খেলবেন ইংলিশ লিগের ফুটবলার। বাংলাদেশের এই আনন্দ যাত্রা শুরু হবে আগামী ২৫ মার্চ। শিলংয়ে এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। সবকিছু ঠিক থাকলে এই ম্যাচেই অভিষেক হতে যাচ্ছে বর্তমান ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের দল শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে খেলা হামজার।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইংল্যান্ড প্রবাসী হামজাকে ঘিরে গত ডিসেম্বর থেকেই আলোচনা চারদিকে। কেননা তখন ফিফা থেকে বাংলাদেশের হয়ে খেলার ছাড়পত্র পান এই ফুটবলার। তাকে ঘিরে দেশের ফুটবল নতুন স্বপ্ন বুনছে। টানা ১৬ বছর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে (বাফুফে) রাজত্ব করেন কাজী সালাউদ্দিন। কিংবদন্তি এই খেলোয়াড়ের অধীনে ফুটবলের উন্নতি হয়নি; হয়েছে চরম অধোগতি। গত অক্টোবরে দেশের ফুটবলে নতুন নেতৃত্ব আসার যে আশার সঞ্চার হয়েছে, সেটি আরো বেড়ে যায় হামজার অন্তর্ভুক্তির কারণে। ইংলিশ লিগ মাতানো ফুটবলার খেলবেন বলে জাতীয় ফুটবল দলের ব্র্যান্ডিং ভ্যালুই বেড়ে গেছে বহুগুণে। আগে কখনো জাতীয় ফুটবল দলের জন্য কিট স্পন্সর পাওয়া ছিল স্বপ্নের মতো। দৌড় নামের একটি ব্র্যান্ড কিট স্পন্সর হয়েছে। ফুটবলে স্পন্সর না পাওয়ার যে হাহাকার ছিল, সেটিও দূর হয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদে ফুটবলের স্পন্সর হয়ে ইউনাইটেড কর্মাশিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)। হামজার প্রভাবে ফুটবলে যেমন আর্থিক সংযোগ হচ্ছে, তেমনি ফুটবলকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার জন্য একটা ‘হাইপ’ উঠেছে। এই হামজার মাধ্যমে দেশের ফুটবলে নতুন দিগন্তের সূচনা আশা করছেন অনেকে। এই ফুটবলারকে ঘিরে যে নানা আয়োজন ও বড় আশার সঞ্চার হয়েছে সবার মনে, সেই প্রত্যাশা কী শেষ পর্যন্ত পূরণ করতে পারবেন হামজা? হামজায় কি বদলাবে বাংলাদেশের ফুটবলের ভাগ্য?

বিজ্ঞাপন

এমন প্রশ্ন মনে জাগার অনেক কারণ আছে। কেননা অতীতে বাংলাদেশের ফুটবলে প্রবাসী ফুটবলাররা খেলেছেন, এখনো খেলছেন। কিন্তু কতটা উন্নতি হয়েছে ফুটবলের? ডেনমার্ক প্রবাসী জামাল ভূঁইয়ার কথাই ধরুন, সেই ২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন। তাকে বাংলাদেশ দলের অধিনায়কের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। জামাল যে বছর বাংলাদেশ জাতীয় দলে যোগ দেন, সে সময় ফিফা র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬৪ থেকে ১৬৮ এর মধ্যে ছিল। গত এক দশকের বেশি সময় জামালের প্রভাবে ফুটবল কতটা এগিয়েছে? বর্তমানে র‌্যাংকিংয়ে ১৮৫তম অবস্থানে বাংলাদেশ। বলার মতো সাফল্য বলতে, গত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে খেলেছে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে রানার্সআপ, ত্রিদেশীয় নেশনস কাপে রানার্সআপ, মুজিব বর্ষ ফুটবল সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। কিন্তু এএফসি এশিয়ান কাপ কিংবা বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে বাংলাদেশের সেই অর্থে কোনো সাফল্য দেখাতে পারেনি। জামাল ছাড়াও ফিনল্যান্ডের প্রবাসী তারিক কাজীও খেলছেন। ২০২১ সালে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে অভিষেক হয় ফিনল্যান্ডের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে খেলা তারিকের। জামাল মিডফিল্ডার সামলাচ্ছেন আর তারিক রক্ষণভাগের ভরসা। মূলত এই দুই ফুটবলারই বাংলাদেশ দলে থিতু হতে পেরেছেন। এর আগে বেশ কয়েকজন আসলেও দলে স্থায়ী হতে পারেননি। যেমন রাহবার খান, ইউসুফ জুলকারনাইনরা জামালদের মতো জাতীয় দলে থিতু হতে পারেননি। তবে এবার হামজাকে ঘিরে সবার বড় স্বপ্ন। ইংলিশ ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের যে খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছে, সেটি কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে পারেন হামজা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন