ক্যানসাস সিটি স্টেডিয়ামে আলজেরিয়ার বিপক্ষে দাপুটে পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করল আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে ভর করে তারা আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ জে-তে শক্ত বার্তা দিয়ে রাখল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। প্রথম দিকেই মেসি গোলের দেখা পান, তবে সহকারী রেফারির পতাকায় সেই উদযাপন থেমে যায় অফসাইডের কারণে। একই সময়ে আলজেরিয়াও একটি সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেও তাদের গোলও অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। ফলে শুরু থেকেই ম্যাচে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং দুই দলই আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে খেলতে থাকে।
এরপর ১৭তম মিনিটে আসে সেই মুহূর্ত। মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পলের কাছ থেকে বল পেয়ে আলজেরিয়ার রক্ষণভাগ ভেঙে এগিয়ে যান লিওনেল মেসি। বক্সের বাইরে জায়গা তৈরি করে বাঁ পায়ের নিখুঁত ও বাঁকানো শটে জাল খুঁজে নেন। লুকা জিদান সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও সেই শট আটকাতে পারেননি। এই গোলেই আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায় এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে নিয়ে নেয়।
প্রথমার্ধে আলজেরিয়া কিছুটা গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও আর্জেন্টিনার চাপ অব্যাহত থাকে। মাঝমাঠে বল দখল ও দ্রুত পাসিংয়ের মাধ্যমে তারা একের পর এক আক্রমণ তৈরি করতে থাকে। তবে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছিল না। অন্যদিকে আলজেরিয়া রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি মাঝে মাঝে পাল্টা আক্রমণে গেলেও আর্জেন্টিনার ডিফেন্সকে খুব একটা চাপে ফেলতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি আরও বাড়ে। ৬০তম মিনিটে আর্জেন্টিনা তাদের দ্বিতীয় গোল পায়। এমিলিয়ানো মার্তিনেজের লং বল থেকে শুরু হওয়া আক্রমণে ম্যাক অ্যালিস্টার বক্সের বাইরে থেকে শট নেন। সেই শট আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান ঠিকভাবে সামলাতে ব্যর্থ হন। ঠিক সেই মুহূর্তে বক্সেই দাঁড়িয়ে থাকা মেসি আলতো টোকায় সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।
এরপর ৭৬তম মিনিটে আসে ম্যাচের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত। নিকোলাস গঞ্জালেসের সঙ্গে দারুণ সমন্বয়ে আক্রমণ গড়ে আবারও বল পান মেসি। বক্সের বাইরে জায়গা তৈরি করে জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। এই গোলের মাধ্যমে ম্যাচ কার্যত শেষ হয়ে যায় এবং আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত হয়ে যায়।
এই ম্যাচটি লিওনেল মেসির জন্য বিশেষ এক অধ্যায় হয়ে থাকবে। এটি ছিল তার আর্জেন্টিনার হয়ে ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই তিনি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক করেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ১৬ গোল নিয়ে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসের পাশে বসেন।
এছাড়াও মেসি এই ম্যাচে একাধিক রেকর্ড গড়েছেন। তিনি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সে হ্যাটট্রিক করা খেলোয়াড় হয়েছেন, বিশ্বকাপে ছয়টি ভিন্ন আসরে খেলা প্রথম ফুটবলার হিসেবে নাম লিখিয়েছেন এবং বিশ্বকাপে তার মোট গোল অবদান ২৪-এ পৌঁছে পেলের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছেন। টানা পাঁচ বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার ধারাও তিনি বজায় রেখেছেন।
সবমিলিয়ে, আর্জেন্টিনার এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতা নয়, বরং এটি ছিল মেসির হাত ধরে নতুন এক ইতিহাস লেখা রাত। বয়স ৩৮ হলেও তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন, বড় মঞ্চে তিনি এখনো অপ্রতিরোধ্য।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

