ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে পদত্যাগ করতে চাপ বাড়িয়ে যাচ্ছে তার বিরোধীরা। পদত্যাগ না করলে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির সঙ্গে 'অসহযোগিতা'র হুমকিও দিচ্ছেন তারা। উয়েফার বেশ কয়েক জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এমন খবরই দিয়েছেন।
বিরোধীদের সাফ কথা, ইনফান্তিনো যতক্ষণ পর্যন্ত নিজের পদে থাকবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা কোনো ধরনের সহযোগিতা করবেন না। তাদের ক্ষোভের কারণ- বিশ্বকাপসহ ফিফার মেজর টুর্নামেন্টের কিছু শেয়ার বিক্রি করতে চেয়েছিলেন এ সুইস ফুটবল কর্মকর্তা। যদিও তার এই পরিকল্পনা শেষমেশ ব্যর্থ হয়েছে।
ফিফার সঙ্গে তাদের অসহযোগিতা'র ধরণটা ঠিক কি ধরনের হবে, তা নিয়ে রয়েছে অস্পষ্টতা। আর কিছু করা না গেলেও ইনফান্তিনোর বিরোধীরা অন্তত ফিফার বৈঠক বয়কট করতে জোরালোভাবে।
ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা ইনফান্তিনোর বিতর্কিত সেই প্রস্তাবের জেরে আইনি পদক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পর বিরোধীরা আরো সক্রিয় হয়েছে। ফিফা সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোর চতুর্থ মেয়াদের প্রার্থিতার থেকে ওয়েলস প্রকাশ্যে সমর্থন প্রত্যাহারের করে নিয়েছে। ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও (এফএ) একই পথে হাঁটতে যাচ্ছে।
২০২৮ সালের মার্চ ফিফার সভাপতি হিসেবে শেষবারের মতো পুনর্নির্বাচিত হতে লড়তে যাচ্ছেন ইনফান্তিনো। তবে জয়ের জন্য তাকে ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের থেকে ১০৬টি ভোট পেতে হবে।
বিবিসি স্পোর্টসকে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নিয়ে স্কটিশ এফএ-র অবস্থান উয়েফার মতোই। তার মানে যেটা দাঁড়ায়! সেটা হলো ৫৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তির ওপর তাদেরও কোনো আস্থা নেই।
ইউরোপ, উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে উয়েফা ও কনকাকাফ তাদের বিবৃতিতে তার পরিকল্পনাগুলোর কঠোর সমালোচনা করেছে।
সার্বিয়া, সুইডেন ও ফিনল্যান্ড সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ইনফান্তিনোর ওপর যখন চাপ বাড়ছে, তখন মরক্কো, কাতার, লেবানন, কুয়েত ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলো ফিফায় তার নেতৃত্ব অব্যাহত রাখার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে।
উয়েফায় ৫৫টি, আফ্রিকায় ৫৪টি, এশিয়ায় ৪৬টি, কনকাকাফে ৩৫টি, ওশেনিয়ায় ১১টি এবং কনমেবলে ১০টি ভোট রয়েছে ফিফার।
এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) জানিয়েছে, তারা উয়েফা ও কনকাকাফের সাথে 'সংহতি' প্রকাশ করছে। অন্যদিকে আফ্রিকা, কনমেবল এবং ওশেনিয়া অঞ্চল ইনফান্তিনোর পরিকল্পনার বিষয়ে কোনো সমালোচনা করেনি।
তবে ফিফা কাউন্সিল জরুরি বৈঠকের মাধ্যমে ইনফান্তিনোকে পদত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা করতে পারে।
ফিফা কাউন্সিলের ৩৭ জন সদস্যের মধ্যে ১৯ জন যদি এমন বৈঠকের আহ্বান করেন, তবেই এই প্রক্রিয়াটি শুরু হতে পারে এবং বৈঠকটি অবশ্যই দুই সপ্তাহের মধ্যে হতে হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

