হামজা চৌধুরী-ফাহমিদুল ইসলামের সঙ্গে শমিত সোমের অন্তর্ভুক্তি। আগে থেকেই ছিলেন জামাল ভূঁইয়া, তারিক কাজী ও কাজেম শাহ। ভিন্ন ভিন্ন দেশ ও পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই ছয় ফুটবলার এক হয়েছেন শুধু নাড়ির টানে। লাল-সবুজের পতাকার ভার বইবেন বলে। তাদের কাঁধে ভর করেই বঙ্গদেশে জেগেছে ‘নতুন’ ফুটবলের পুরোনো জোয়ার।
ফুটবল মাঠে হারিয়ে যাওয়া দর্শক ক্রেজ ফের পুরোনো আমেজে ফিরেছে গুলিস্তানের জাতীয় স্টেডিয়ামে। প্রিয় দলের নবযৌবনের গান গাইতে উন্মত্ত দর্শকদের ঢেউ সামলাতে হিমশিম খাওয়ার দশা নিরাপত্তারক্ষীদের। তবুও কারো চোখেমুখে ক্লান্তির লেশমাত্র ছিল না। বরং সবাই ভেসে গেছেন উদ্দীপনার উদ্যমিত আলোকধারায়। সবার চোখেমুখেই ছিল ফুটবলের ‘সুদিন’ ফেরার আনন্দ। দর্শকদের উন্মাদনার সঙ্গে বাফুফে ও সংশ্লিষ্ট সবার আয়োজনে গুলিস্তানের জাতীয় স্টেডিয়াম পরিণত হয়েছিল উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে। ঈদ আনন্দ বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুরের মহাদ্বৈরথ!
উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়া স্টেডিয়াম এলাকায় ছিল সাজসাজ রব। পল্টন মোড় থেকে দৈনিক বাংলা মোড়, আবার দৈনিক বাংলা মোড়ের ডান দিক থেকে মহানগর নাট্যমঞ্চ হয়ে জাতীয় স্টেডিয়ামের এক নম্বর গেট; পুরো স্টেডিয়ামপাড়া পরিণত হয়েছিল জনসমুদ্রে। ঢেউয়ে ঢেউয়ে ভেসে আসছিল দর্শকদের আনন্দস্রোতের মুখরিত ধ্বনি।
জাতীয় ফুটবল দলের হোম জার্সি পরে হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে দর্শকদের দীর্ঘ অপেক্ষা ছিল মাঠে প্রবেশের। তীব্র গরমে সেই অপেক্ষা পরিণত হতে পারত বিরক্তিতে। তবে ঘরের মাঠে হামজা-শমিতদের খেলা দেখতে এইটুকু স্বীকার করতে কোনো দ্বিধা ছিল না তাদের। বরং, স্টেডিয়ামের বাইরে সুযোগ পেলেই হামজা-শমিত কিংবা ফাহমিদুলদের নামে স্লোগানে উত্তাল করে তুলছিলেন চারপাশ।
তাদের এই উন্মাদনা কাজে লাগাতে জাতীয় দলের প্রধান স্পন্সর ইউসিবি ও কিট স্পন্সর দৌড় দারুণ উদ্যোগ নিয়েছিল। ম্যাচ দেখতে আসা দর্শকদের জন্য মাঠের বাইরে মজার খেলার আয়োজন করেছিল ইউসিবি। আর দর্শকরা যেন মাঠে জাতীয় দলের ‘আসল’ জার্সি পরে খেলা উপভোগ করতে পারে সেজন্য দৌড় বসায় অস্থায়ী আউটলেট। ফুটবল উৎসবে অংশ নিতে আসা দর্শকরা এখানেও অংশ নেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে। এ ছাড়া স্টেডিয়াম এলাকাজুড়ে খেলোয়াড়দের ছবি দিয়ে অসংখ্য ব্যানার ছিল যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং বাফুফের যৌথ উদ্যোগে।
সেসব ব্যানারের সামনেও দর্শকদের ছিল ছবি তোলার হিড়িক। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে হামজা-শমিতদের কল্যাণে ফিরে আসা ফুটবল জোয়ারের অংশ হওয়া দর্শকরা যেন চাচ্ছিলেন প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করতে। সেই ব্যানারগুলোতে ছিল হামজা-শমিত সোম, ফাহমিদুল, সাদউদ্দিন, মিতুল মারমা, তপু বর্মণ, জামাল ভূঁইয়া, তারিক কাজীদের ছবি। মাঠে প্রবেশের আগে যে যার পছন্দের তারকার ছবির সঙ্গে ছবি তুলতে মরিয়া ছিলেন দর্শকরা। সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ছিল ‘চৌধুরী সাহেবকে’ ঘিরে; হামজা চৌধুরী! ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা এই ফুটবলারের নাম ও নাম্বারের জার্সি পরে সবচেয়ে বেশি দর্শকই চোখে পড়েছে স্টেডিয়ামপাড়ায়। আবালবৃদ্ধবনিতা সবাই হামজার পায়ের জাদুকরী ঝলক দেখার আশা নিয়েই এই ম্যাচ দেখতে এসেছিলেন।
হামজা-শমিত আর ফাহমিদুলদের কল্যাণে দেশের ফুটবলে যে গণজোয়ার এসেছে, সেটা রূপ নিয়েছে উৎসবে। আর সেই উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল দেশের ফুটবলের আদি উৎসবের প্রাণকেন্দ্র গুলিস্তান জাতীয় স্টেডিয়ামপাড়া। হাজারো মানুষ দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন শুধু একটু কাছ থেকে হামজা-শমিতদের খেলা দেখতে। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচের ফলের চেয়ে দর্শকদের কাছে মুখ্য হয়ে উঠেছিল নবযৌবনের মতো জেগে ওঠা বাংলাদেশ দলের খেলা, তাতে ভেসে যেতেও যেন আপত্তি নেই সোনালি সময়ের জাগরণের টানে ফিরে আসা দর্শকদের।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

