নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের ছিল দাপুটে জয়। ব্যাট-বলে দাপট দেখিয়ে জয় পাওয়ায় আত্মবিশ্বাসে পরিপূর্ণ লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন অবশ্য তেমন কিছু ভাবেন না। তিনি অতীত নিয়ে আর কোনো কথা না বলে ভবিষ্যতের ভাবনায় বিশ্বাসী। সে কারণে তার চাওয়া ক্রিকেটাররা মাঠে আরো ভালো ক্রিকেট খেলা। ইমোশন নিয়ন্ত্রণে রেখে কীভাবে ক্রিকেটাররা খেলবে সংবাদ সম্মেলনে এসে সেই টোটকাই দিয়েছেন সালাউদ্দিন। অন্যদিকে চ্যালেঞ্জিং কন্ডিশন হলেও সিরিজে ঘুরে দাঁড়াতে চায় নেদারল্যান্ডস।
প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দুই দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে এসেছিল শিশির। আগস্টের এমন গরমে সিলেটে যেমন শিশির ছিল, তাতে বেশ অবাক হয়েছিল সবাই। অপ্রত্যাশিত পরিমাণে শিশির থাকবে এমনটা হয়তো আগে থেকেই খানিকটা আন্দাজ করতে পেরেছিল বাংলাদেশ দল। সেটা স্পষ্ট সালাউদ্দিনের কথায়। তিনি বলেন, ‘কীভাবে বল করতে হবে এটা নিয়ে কাজ করেছি। ভেজা বল দিয়েও অনুশীলন করেছি। এখানে কীভাবে বল করতে হবে এটা নিয়ে প্ল্যান ছিল, বোলাররা ভালো এক্সিকিউট করেছে।’ তবুও উন্নতি জায়গা খুঁজে পেয়েছেন সালাউদ্দিন। দ্বিতীয় ম্যাচে সেই উন্নতিগুলো দেখতে চান তিনি।
এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘ফিল্ডিংয়ে দলকে যেভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, ছেলেরা সেখানে ভালো ফিল্ডিং করছে। তবুও উন্নতির জায়গা আছে। ব্যাটিং প্রসেসের ওপর। ছেলেরা চেষ্টা করছে। ভালো করতে পারলে ভবিষ্যতে তাদের জন্য ভালো হবে। কন্ডিশনের সঙ্গে ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছি। আরো বেটার করার সুযোগ আছে।’ পাশাপাশি পরের ম্যাচের জন্য ইমোশন নিয়ন্ত্রণ রেখে মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার বার্তা দিয়ে রেখেছেন তিনি। সালাউদ্দিনের কথায়, ‘পরের ম্যাচে কীভাবে আরো বেটার ক্রিকেট খেলব, কীভাবে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি ওইটা জরুরি। আমাদের ইমোশন অনেক দিন ক্যারি করে, আমাদের শিখতে হবে কখন ইমোশন ধরে রাখতে হবে এবং কখন ছেড়ে দিতে হবে। ফল হয়ে গেছে পরের ম্যাচে যেন ভালো খেলি সেখানে মনোযোগ দিতে হবে।’
খানিকটা সহজ প্রতিপক্ষ হলেও সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেও পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিপক্ষে সালাউদ্দিন। কোচ-অধিনায়কের কথার সঙ্গে তাল মিলিয়ে তিনিও আন্তর্জাতিক ম্যাচকে গুরুত্ব দিতে চান। তার কথায়, ‘এটা আসলে এক্সপেরিমেন্ট করার জায়গা না। এটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। জিতার জন্য যে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার আমরা সেটাই নেওয়ার চেষ্টা করব।’ সালাউদ্দিন আরো বলেন, ‘আমাদের প্রফেশনে সন্তুষ্ট হওয়ার কিছু নেই আসলে। প্রতিদিনই উন্নতি করতে হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অনেক কঠিন। চ্যালেঞ্জ সব সময় আসতেই থাকে। সন্তুষ্টির কিছু নেই।’
সংবাদ সম্মেলনে একাদশ নিয়ে প্রশ্ন আসলে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কোনো উত্তর দেননি সালাউদ্দিন। তবে ধারণা করা হচ্ছে, হয়তো রোটেশন পলিসিতে দ্বিতীয় ম্যাচের একাদশ সাজাতে পারে বাংলাদেশ একাদশ। মূলত এশিয়া কাপকে সামনে রেখেই হতে পারে এমন সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, ‘টিমের কথা তো আমি আপনাদের বলতে পারব না। কেউ পারফর্ম করলে দলে স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা নিয়ে আসে। দলের ভালো ফর্ম নিয়ে আসে। সাইড বেঞ্চের সবাই পারফর্মার যত হবে তত দলের জন্য ভালো।’
অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসও আশাবাদী জয়ের ব্যাপারে। কন্ডিশন বুঝতে খানিকটা বিভ্রান্ত হওয়া ডাচরা নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে আজ মাঠে নামবে জয়ের লক্ষ্যে। এ নিয়ে দলটির হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা নোয়াগ ক্রস বলেন, ‘অবশ্যই ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ আছে। আমরা বিশ্বাস করি, আমরা পরের দুই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াব এবং ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতব।’ তিনি আরো যোগ করেন, ‘পুরো দল জয়ের ব্যাপারে বিশ্বাস রাখছে। গতকাল (পরশু) আমাদের অনেক ব্যাপারে শেখার ছিল। বাংলাদেশের মতো পূর্ণ সদস্য দলের বিপক্ষে আমাদের সেরাটা খেলতে হবে।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

