মেক্সিকোর কিংবদন্তি গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়ার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের পরিসমাপ্তি ঘটল ২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে। চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের ম্যাচে শেষবারের মতো মাঠে নেমে আনুষ্ঠানিকভাবে ফুটবলকে বিদায় জানান ৪০ বছর বয়সী এই তারকা। তার অবসরের মধ্য দিয়ে মেক্সিকান ফুটবলের একটি যুগেরও অবসান হলো।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে আগেই নকআউট নিশ্চিত করেছিল মেক্সিকো। চেকদের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে ৭৮তম মিনিটে মাঠে নামানো হয় ওচোয়াকে। তখনই অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামের ৮০ হাজারের বেশি দর্শক একসঙ্গে তার নাম ধরে স্লোগান দিতে শুরু করেন। আবেগে ভেঙে পড়েন ওচোয়া, ম্যাচ শেষে পরিবারকে নিয়ে মাঠ প্রদক্ষিণ করেন তিনি।
এর আগেই জানা গিয়েছিল, ২০২৬ বিশ্বকাপই হবে মেক্সিকো জাতীয় দলের জার্সিতে তার শেষ টুর্নামেন্ট। ফিফার এক অনুষ্ঠানে ওচোয়া বলেছিলেন, “মেক্সিকো জাতীয় দলই আমার ক্যারিয়ার ও জীবনের দিকনির্দেশনা ছিল। জাতীয় দল ছাড়া আমার ক্যারিয়ার কল্পনা করা যায় না।”
২০০৫ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর দুই দশকের বেশি সময় ধরে মেক্সিকোর গোলবার সামলেছেন ওচোয়া। তিনি ইতিহাসের মাত্র তিন খেলোয়াড়ের একজন, যারা ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন। এই তালিকায় রয়েছেন লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও।
তবে ওচোয়াকে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করে তোলে ২০১৪ বিশ্বকাপ। স্বাগতিক ব্রাজিলের বিপক্ষে তার অসাধারণ গোলকিপিং আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হয়। এরপর ২০১৮ বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে জয় এবং ২০২২ বিশ্বকাপে রবার্ট লেভানডোভস্কির পেনাল্টি ঠেকানোর মতো স্মরণীয় মুহূর্তও উপহার দিয়েছেন তিনি।
ক্লাব ফুটবলে খুব বেশি সাফল্য না পেলেও জাতীয় দলের হয়ে সাতটি শিরোপা জিতেছেন ওচোয়া। মেক্সিকোর ইতিহাসে সর্বাধিক ম্যাচ খেলা গোলরক্ষক হিসেবেও ক্যারিয়ার শেষ করছেন তিনি।
বিদায়ের মুহূর্তে ওচোয়ার কণ্ঠে ছিল তৃপ্তি, “আমি আমার সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি। শান্তি, গর্ব আর মাথা উঁচু করে বিদায় নিচ্ছি।”
বিশ্বকাপের মঞ্চে, প্রিয় জাতীয় দলের জার্সিতে এবং যে অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে তার যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেখানেই শেষ অধ্যায় লিখে গেলেন মেক্সিকোর কিংবদন্তি গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়া।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

