২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালের ভেন্যু যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে অবস্থিত মেটলাইফ স্টেডিয়াম, যা বিশ্বকাপের মঞ্চে ‘নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়াম’ নামে পরিচিত। তবে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই ভেন্যুটি এখন মাঠের মান নিয়ে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে আসরের দুটি ম্যাচ এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে—১৩ জুন ব্রাজিল-মরক্কো (১-১) এবং ১৬ জুন ফ্রান্স-সেনেগাল (৩-১)। দুটি ম্যাচের পরই মাঠের কন্ডিশন নিয়ে প্রকাশ্যেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ব্রাজিল ও ফ্রান্সের তারকা খেলোয়াড় ও কোচরা।
ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়াস জুনিয়র সরাসরি মাঠের সমালোচনা করে বলেন, ‘আবহাওয়া ও গরমের কারণে ঘাস দ্রুত শুকিয়ে যাওয়ায় খেলার গতি ধীর হয়ে পড়ছে, যার ফলে আমরা ছন্দ তৈরি করতে পারিনি।’ অন্যদিকে ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম কিছুটা কূটনৈতিকভাবে মাঠটিকে ‘ভিন্ন’ ও ‘বিশেষ ধরনের’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘ঘাসের নিচে হয়তো সিমেন্ট রয়েছে এবং ঘাসগুলো খুব ছোট।’ তবে সবচেয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ফরাসি মিডফিল্ডার আদ্রিয়াঁ রাবিও। তার মতে, মাঠটি কৃত্রিম টার্ফের মতো অত্যন্ত শক্ত ও অনমনীয় ছিল এবং এটিকে আদৌ আন্তর্জাতিক মানের মাঠ বলা যায় কি না, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।
খেলোয়াড়দের এমন গুরুতর অভিযোগ উঠলেও বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা তা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে। এক বিবৃতিতে ফিফা জানায়, মাঠের মান নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। খেলোয়াড়দের জন্য সর্বোত্তম ও নিরাপদ মাঠ নিশ্চিত করতে তারা পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঘাস বিশেষজ্ঞ ও স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করেছে। ফিফার দাবি, মাঠের কিছু অংশের দৃশ্যমান চেহারা নিয়ে কথা উঠলেও তাদের টার্ফ ব্যবস্থাপনা দলের মূল্যায়ন অনুযায়ী মাঠটি পুরোপুরি ঠিক আছে এবং বড় টুর্নামেন্টের জন্য যেভাবে কাজ করার কথা, সেভাবেই কাজ করছে।
আগামী ১৯ জুলাই এই মাঠেই হবে বিশ্বকাপের মহারণ—শিরোপা নির্ধারণী ফাইনাল। তার আগে গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচসহ শেষ বত্রিশ ও শেষ ষোলোর আরো দুটি হাইভোল্টেজ ম্যাচ এখানে হওয়ার কথা। এখন দেখার বিষয়, ফিফার এই আশ্বাসের পর আগামী ম্যাচগুলোয় মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে খেলোয়াড়দের অসন্তোষ কাটে কি না।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

