কখনো কখনো নিজের ক্যারিয়ারের বড় কোনো ব্যর্থতাও পরম আনন্দদায়ক হয়ে উঠতে পারে, যদি তা হয় প্রিয় কোনো সতীর্থ বা ফুটবল জাদুকরের সাফল্যে। ঠিক এমনটাই ঘটেছে সুইডিশ ফুটবল কিংবদন্তি জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের বেলায়। ক্লাব ফুটবলে একের পর এক শিরোপা জেতা এবং ইউরোপের বড় বড় লিগে গোলের বন্যা বইয়ে দেওয়া ইব্রাহিমোভিচ সুইডেনের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা (১২২ ম্যাচে ৬২ গোল)। অথচ ২০০২ ও ২০০৬ মিলিয়ে দুটি বিশ্বকাপ খেললেও বিশ্বমঞ্চে ৫ ম্যাচ খেলে কোনো গোল পাননি। নিজের এই বিশ্বকাপ-ব্যর্থতা নিয়েই এবার হাসিমুখে কথা বললেন ৪৪ বছর বয়সী এই সাবেক তারকা, তবে কোনো আক্ষেপে নয়—বরং লিওনেল মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে।
চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে শুরু থেকেই অতিমানবীয় ফর্মে আছেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে হ্যাটট্রিক করার পর, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২–০ গোলের জয়েও জোড়া গোল করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ২ ম্যাচে ৫ গোল করা মেসিকে নিয়ে ফক্স স্পোর্টসের এক সাক্ষাৎকারে কথা বলতে গিয়ে নিজের বিশ্বকাপ-ব্যর্থতাকে একপাশে সরিয়ে রেখে প্রশংসায় মাতেন ইব্রা।
ম্যাচের শুরুতে পেনাল্টি মিস করার পরেও যেভাবে মেসি জোড়া গোল করে দলকে জেতালেন, তা নিয়ে ইব্রাহিমোভিচ বলেন, 'এটা নিয়ে কখনোই কোনো সন্দেহ ছিল না। মাঝেমধ্যে পেনাল্টি মিস করে বলেই তাকে মানুষ মনে হয়, আবার কিছু মুহূর্তে তাকে মানুষ মনে হয় না। এটাই মেসি। এখন পর্যন্ত এই বিশ্বকাপটা তারই।'
এরপরই নিজের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের শূন্যতার সঙ্গে মেসির গোল-বন্যার তুলনা টেনে রসিকতার সুরে সুইডিশ কিংবদন্তি বলেন, 'সে এখনো জর্ডানের বিপক্ষে খেলেনি, তাই জানি না শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামবে। ২ ম্যাচে তার ৫ গোল। আর আমি দুই বিশ্বকাপ খেলেও গোল করতে পারিনি। তাই আমি খুশি, তার জন্য খুবই খুশি।'
২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনায় মেসির সতীর্থ হিসেবে খেলেছিলেন ইব্রাহিমোভিচ। ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোতে খুব কাছ থেকে দেখা সেই তরুণ মেসি আজ বিশ্বমঞ্চে সাফল্যের ফোয়ারা ছোটাচ্ছেন, যা ভীষণভাবে আলোড়িত করেছে ইব্রাকে।
মেসির জন্মদিনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে এই সাবেক বার্সা তারকা বলেন, 'আমি চাই, সে এভাবেই এগিয়ে যাক। কয়েক দিনের মধ্যে (আজ) তার জন্মদিন। তাকে উপভোগ করতে দিন। আসলে আমরা সবাই তাকে খেলতে দেখে উপভোগ করছি। অসাধারণ, সত্যিই অসাধারণ। তাকে নিয়ে বলার মতো ভাষা নেই।'
মাঠের ভেতরে অহংকারী ও আত্মবিশ্বাসী মেজাজের জন্য পরিচিত জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের এমন অকপট ও উদার প্রশংসা প্রমাণ করে—মেসির ফুটবলশৈলী ফুটবল বিশ্বের চিরশত্রুতা বা অহংকারকেও এক নিমেষে ম্লান করে দিতে পারে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

