লিওনেল মেসি যেন রেকর্ড ভাঙা-গড়ার এক জীবন্ত উপাখ্যান। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-০ ব্যবধানের জয়ে আরও একবার নিজের জাদু দেখালেন এই মহাতারকা। দলের পক্ষে দুটি গোলই আসে তার পা থেকে। আর এই জোড়া গোলের ওপর ভর করেই তিনি এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। মেসির এই ঐতিহাসিক কীর্তির দিনে আর্জেন্টিনা নিশ্চিত করেছে বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর টিকিট।
ম্যাচ শেষে অধিনায়কের এমন অবিস্মরণীয় পারফরম্যান্সে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মেতেছেন তার কোচ ও সতীর্থরা। তরুণ ফরোয়ার্ড জুলিয়ান আলভারেজ মেসিকে ফুটবল ইতিহাসের সেরা আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘তিনি ২০ বছর ধরে বিশ্বের সেরা, ইতোমধ্যে ইতিহাস সেরা। এই বয়সেও তিনি তার প্রতিভা ও জাদু দেখিয়ে চলেছেন।’
অন্যদিকে, মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের কাছে মেসির এই ছন্দ ‘অবিশ্বাস্য’, ‘প্রত্যেক ট্রেনিং সেশন, প্রত্যেক ম্যাচে সে আমাদের বিস্মিত করে চলেছে। এটা আমাদের জন্য আনন্দের। আমরা প্রত্যেক দিন তাকে উপভোগ করার চেষ্টা করি, শুধু মাঠেই নয়, মাঠের বাইরেও। তিনি একজন অসাধারণ মানুষ।’
লিসান্দ্রো মার্টিনেজ তো মেসিকে বর্ণনা করার ভাষাই হারিয়ে ফেলেছেন। তার মতে, ‘তাকে তুলনা করার দরকার নেই, সে একাই শীর্ষে। এখন শুধু তাকে উপভোগ করা বাকি। আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। এখানে প্রত্যেক দিন তাকে পেয়ে আমি আবেগ অনুভব করি এবং তিনি যে আর্জেন্টাইন, এটাকে গুরুত্ব দিতে হবে আমাদের।’
সংবাদ সম্মেলনে দলের বিশ্বজয়ী কোচ লিওনেল স্কালোনিও মেতেছিলেন মেসিবন্দনায়। তিনি বলেন, ‘লিও যখন ছন্দে থাকে, তখন সবাই ছন্দে ফেরে।’ দলের কঠিন সময়েও মেসির কঠোর পরিশ্রম ও বল কেড়ে নেওয়ার নিবেদনের ভূয়সী প্রশংসা করেন কোচ।
মেসির এই অতিমানবীয় ফর্ম আর্জেন্টিনা ফুটবলকে এক নতুন স্বপ্নের দুয়ারে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ইতালি ও ব্রাজিলের পর বিশ্বের তৃতীয় দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের সোনালি স্বপ্ন এখন বুঁদ হয়ে দেখছে আলবিসেলেস্তেরা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

