ইতালিয়ান ফুটবলের শেষ রাতটা যেন ছিল একেবারে সিনেমার চিত্রনাট্য। যেখানে কান্না ছিল মিলান ও জুভেন্টাসের, আর উল্লাসে ভেসেছে ছোট্ট ক্লাব কোমো। সেরি আ’র শেষ দিনে ইতিহাস লিখে প্রথমবারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নিয়েছে সেস ফ্যাব্রেগাসের দল।
ক্রেমনেজেকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের কাজটা আগেই সেরে রেখেছিল কোমো। এরপর অপেক্ষা ছিল অন্য মাঠের খবরের। কারণ সমীকরণটা ছিল পরিষ্কার—নিজেদের জিততেই হবে, সঙ্গে এসি মিলান বা রোমার অন্তত এক দলের পয়েন্ট হারানো দরকার।
শেষ পর্যন্ত সেই নাটকীয়তাই বাস্তবে রূপ নেয়। ক্যালিয়ারির কাছে ২-১ গোলে হেরে বসে এসি মিলান। অন্যদিকে দশজনের ভেরোনাকে হারিয়ে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করে রোমা। আর তাতেই খুলে যায় কোমোর স্বপ্নের দরজা।
মাত্র দুই মৌসুম আগে সেরি আ’তে ওঠা দলটি এবার খেলবে ইউরোপের সবচেয়ে বড় ক্লাব প্রতিযোগিতায়। তরুণ একদল ফুটবলারকে নিয়ে ফ্যাব্রেগাস যেন রচনা করলেন আধুনিক রূপকথা।
ম্যাচ শেষে আবেগ ছুঁয়ে যায় কোমো কোচকেও। ফ্যাব্রেগাস বলেন,
“কিভাবে এবং কাদের নিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করেছি, সেই দিক থেকে এটা আমার সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলোর একটা। আমাদের প্রায় সব ফুটবলারের বয়স ২৩ বছরের নিচে। এত কম বয়সী দল নিয়ে এটা করে দেখানো অবিশ্বাস্য।”
কোমোর এই সাফল্যের সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে জুভেন্টাসের গায়ে। দিনের শুরুতে শীর্ষ চারে থাকার আশা ছিল তুরিনের ক্লাবটির। কিন্তু রোমা ও কোমোর জয় তাদের স্বপ্ন ভেঙে দেয় ম্যাচ চলাকালীনই। শেষ পর্যন্ত টোরিনোর সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে ইউরোপা লিগ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে জুভেন্টাসকে।
অন্যদিকে সাতবারের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন এসি মিলানের জন্যও এটি এক হতাশার সমাপ্তি। বহু নাটকীয়তার রাতে ইতালিয়ান ফুটবল পেল নতুন এক গল্প—যেখানে বড়দের সরিয়ে আলোটা গিয়ে পড়ল কোমো নামের এক নতুন স্বপ্নের ওপর।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

