বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দায়িত্ব নিয়ে গঠনতন্ত্র সংস্কারে হাত দেন সভাপতি ফারুক আহমেদ। তবে শেষতক পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিমের নেতৃত্বাধীন ওই কমিটির সুপারিশ করা প্রস্তাবিত গঠনতন্ত্র বাতিলের পাশাপাশি সেই কমিটি বিলুপ্ত করতে বাধ্য হয় বিসিবি। মূলত ঢাকার ক্লাব থেকে কাউন্সিলর ও পরিচালক সংখ্যা কমানোর প্রস্তাবনার পর খেলা বর্জন করে ঘরোয়া ক্রিকেটকে একরকম অকার্যকর করে দেন ক্রিকেট সংগঠকরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিসিবি পরে জানায়, ক্রিকেটের সব স্টেকহোল্ডারকে সঙ্গে নিয়ে নতুন করে গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটি করা হবে। তবে এখনো ঘোষণাতেই আটকে আছে সেই গঠনতন্ত্র সংশোধন। বিষয়টি নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের ক্রিকেট সংগঠকরা।
ঘোষণায় আটকে থাকা গঠনতন্ত্র সংশোধনে নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ চান জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের ক্রিকেট সংগঠকরা। দিন কয়েকের মধ্যে নিজেদের মধ্যে আলোচনার পর গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য বিসিবির আলোচনায় বসবেন। আমার দেশকে এমনটাই জানিয়েছেন চট্টগ্রামের অভিজ্ঞ ক্রিকেট সংগঠক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। বিসিবির গঠনতন্ত্রের কোন বিষয়গুলো নিয়ে আপত্তি আছে সেটাও পরিষ্কার করেছেন তিনি।
বিসিবির বর্তমান গঠনতন্ত্রে তাদের আপত্তির জায়গা মূলত জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় থেকে কাউন্সিলর নির্বাচন পদ্ধতি, বিসিবিতে ঢাকার ক্লাবগুলোর একচ্ছত্র আধিপত্য ও বিসিবি সভাপতি এবং অন্যান্য পরিচালকদের বাড়তি ক্ষমতা। তাদের চাওয়া প্রত্যেকটি বিষয়ের সুষ্ঠু সমাধান হোক। এ ছাড়া তাদের দাবি বর্তমান গঠনতন্ত্রে বিসিবিতে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে ক্ষমতাধররা। সে কারণে একজন ব্যক্তি কতবার পরিচালক পদে নির্বাচন করতে পারবে সেই বিষয়েও সুনির্দিষ্ট নিয়ম চান তারা।
বর্তমান গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় থেকে বিসিবির কাউন্সিলর হতে হলে শুধু জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সভাপতির অনুমোদন হলেই হয়। এই নিয়মের পরিবর্তন চেয়ে সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর আমার দেশকে বলেন, ‘একটি প্রতিষ্ঠান থেকে কে কাউন্সিলর হবে সেটা নির্বাহী কমিটি বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেবে। শুধু সভাপতি অনুমোদন দিলেই কাউন্সিলর হতে পারবেন এটা হতে পারে না। এই নিয়ম করে আগের কমিটি নিজেদের পছন্দমতো কাউন্সিলর নির্বাচন করত। এর ফলে তারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে পেরেছে।’
এ ছাড়া ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট থেকে কাউন্সিলর সংখ্যা কমানো হোক, এমনটাও চান সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। ২০১২ সালের আগ পর্যন্ত বিসিবিতে ঢাকার ক্লাব থেকে কাউন্সিলর সংখ্যা ছিল ৫৬। এখন সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৬। বর্তমানে প্রিমিয়ার লিগের পাশাপাশি প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগের সব ক্লাব থেকে একজন করে কাউন্সিলর আছেন। এই সংখ্যাও খানিকটা কমানোর পক্ষে সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আগে অনেক দ্বিতীয়-তৃতীয় বিভাগের ক্লাবগুলো কাউন্সিলরশিপ পেত না। এখন সবাই পায়। এই সংখ্যা কিছুটা কমানো উচিত। এই নিয়ম ব্যবহার করে আগের কমিটি নিজেদের পছন্দের লোককে বোর্ডে জায়গা করে দিতে পারত। এ ছাড়া অনেক ক্লাবের স্থায়ী কোনো ঠিকানা নেই। সেসব ক্লাবও কাউন্সিলরশিপ পাচ্ছে। এই কারণে এখানে নিয়মের কিছুটা পরিবর্তন আনা উচিত।’
এই দুই বিষয়ের পাশাপাশি সভাপতি ও অন্যান্য পরিচালকের ক্ষমতা খানিকটা কমানোর পক্ষের বর্ষীয়ান এই ক্রিকেট সংগঠক। এ ছাড়া বিভাগ হিসেবে ময়মনসিংহ পুরোদমে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালালেও ক্রিকেটে এই বিভাগের কোনো অস্তিত্ব নেই। আসন্ন নির্বাচনের আগে ময়মনসিংহ বিভাগকে অন্তর্ভুক্তির দাবি রয়েছে তাদের। নিজেদের এই দাবিগুলো নিয়ে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের এই ক্রিকেট সংগঠকরা দিন কয়েকদিনের মধ্যেই বিসিবির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন বলে জানান সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। সেখানে সমস্যার সমাধান হলে নির্বাচনের আগে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করে গঠনতন্ত্র সংশোধনের কাজটি বিসিবি করবে বলে আশাবাদী তিনি। এ ছাড়া যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে তাদের।
আলোচনার মাধ্যমে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কাউন্সিলরদের দাবি পূরণ না হলে আইনি পথে হাঁটার মানসিক প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছেন তারা। সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর আমার দেশকে বলেন, ‘আগে আদালতে গেলে হয়তো রায় আমাদের পক্ষে আসত না। তবে এখন আমরা আশাবাদী আদালতে গেলে রায় আমাদের পক্ষেই আসবে। তার চেয়ে বেশি আমরা আশাবাদী বর্তমান কমিটি নিয়ে। আমাদের বিশ্বাস আমরা যখন আলোচনা করব, তখনই তারা বিষয়টি বুঝবে এবং গঠনতন্ত্র সংস্কার নিয়ে কাজ শুরু করবে।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

