নানা শঙ্কা তৈরি হয়েছিল বিপিএলে। সব শঙ্কা দূরে সরিয়ে মাত্র একটি রাতের অপেক্ষা। আগামীকাল থেকে মাঠে গড়াবে বিপিএলের ১১তম আসর। টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে এরই মধ্যে দলগুলো শুরু করে দিয়েছে নিজেদের প্রস্তুতি। মাঠের খেলায় দলগুলোর এখন নিজেদের প্রমাণের আগে কাগজে-কলমে দলগুলো কেমন হয়েছে সেটাই তুলে ধরা হলো আমার দেশের পাঠকদের জন্য।
তারকায় ভরপুর বরিশাল
দেশি-বিদেশি বড় নাম নিজেদের দলে ভিড়িয়েছে বিপিএলের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফরচুন বরিশাল। তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের পাশাপাশি দলে আছেন তাওহীদ হৃদয়, নাজমুল হোসেন শান্তর মতো তারকারা। এ ছাড়া বিদেশি তারকাদের মধ্যে কাইল মায়ার্স, শাহিন শাহ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ নবীরা আছেন এবার ফরচুন বরিশালের ডেরায়। বিপিএল চ্যাম্পিয়নদের দলে এমন বড় তারকাদের ভিড় অনেকটা নিশ্চিত করেছে এবারের আসরে শিরোপা জয়ের অন্যতম দাবিদার বরিশাল। তার ওপর ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তাদের ওপর যে প্রত্যাশার চাপ থাকবে সেটাও নিশ্চিত। বড় বড় নামের ভিড়ে অবশ্য আরিফুল ইসলাম, রিপন মন্ডল, নাঈম হাসান ও ইবাদত হোসেনের মতো কার্যকরী ক্রিকেটাররাও আছে। বড় ক্রিকেটারদের নিয়ে দল গড়া বরিশাল জন্য টুর্নামেন্টে শিরোপা ধরে রাখার পথটা মসৃণ হওয়ার কথা। বরিশাল সমর্থকদের তো আশা শিরোপা এবার তাদের ঘরেই উঠবে। বাংলা প্রবাদ আছে, ‘অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট’- বড় বড় নাম থাকার পরও দলটি যদি পারফর্ম করতে না পারে তাতেও অবশ্য অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। তবে মাঠের খেলা শুরু হওয়ার আগে নামের ভিড়ে দলটা যে টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দল সেটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। টুর্নামেন্টে এর রেশটা শেষ পর্যন্ত তারা ধরে রাখতে পারে কি না সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।
আত্মবিশ্বাসে ভরপুর রংপুর
বিপিএল শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে গ্লোবাল সুপার লিগের শিরোপা নিজেদের ঘরে তুলেছে রংপুর রাইডার্স। নুরুল হাসান সোহানের দলের জন্য বিপিএলে নামার আগে এই টুর্নামেন্ট দেবে বাড়তি আত্মবিশ্বাস। গ্লোবাল সুপার লিগে দারুণ খেলা দলটিতে আছেন সৌম্য সরকার, নাহিদ রানা ও রেজাউর রহমান রাজাদের মতো ক্রিকেটাররা। এ ছাড়া অ্যালেক্স হেলস, ইফতেখার আহমেদ ও খুশদিল শাহর মতো বড় তারকাদের নিজেদের ডেরায় নিয়েছে রংপুর রাইডার্স কর্তৃপক্ষ। তরুণ-অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের মিশ্রণে টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়ের দৌড়ে কাগজে-কলমে অনেকটাই এগিয়ে থাকবে উত্তরবঙ্গের দলটি। এ ছাড়া মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, কামরুল ইসলাম রাব্বি ও তৌফিক খান তুষাররাও দলে আছেন। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে দলটির জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইনজুরি- দুই গুরুত্বপূর্ণ তারকা সাইফউদ্দিন ও সৌম্য আছেন ইনজুরিতে। তারা ফিরলে দলটি যে ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
ছন্দহীনদের ফর্মে ফেরার অপেক্ষায় ঢাকা
নবাগত ঢাকা ক্যাপিটালসের স্কোয়াড দেখলে খানিকটা দ্বিধান্বিত হতে পারেন দলটির সমর্থকরা। দলে আছেন- লিটন দাস, সাব্বির রহমান, মুনিম শাহরিয়ার, আবু জায়েদ রাহির মতো অফ ফর্মে থাকা ক্রিকেটাররা। দলটির কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন আশাবাদী এই ক্রিকেটাররা ফর্মে ফিরলে নিজেদের দিনে ফল ঢাকা ক্যাপিটালসের পক্ষে আসবে। এই চার ক্রিকেটারের পাশাপাশি হাবিবুর রহমান সোহান, মুস্তাফিজুর রহমান, তানজিদ হাসান তামিম, মকিদুল ইসলাম মুগ্ধর মতো ক্রিকেটাররা আছেন ঢাকা ক্যাপিটালসের ডেরায়। ওপেনারের ছড়াছড়িতে একাদশে মিডল অর্ডার সাজাতে বেশ বেগ পেতে হতে পারে দলটিকে। তাদের ঘাটতি মেটাতে স্টিফেন স্কিনাজি, রিয়াজ হাসান, জেন-পিয়েরে কোৎজের মতো ব্যাটারদের দলে ভিড়িয়েছে। দলটির বোলিং আক্রমণের নির্ভরযোগ্য নাম বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। এ ছাড়া আছেন অভিজ্ঞ থিসারা পেরেরা, আমির হামজা ও শাহনেওয়াজি দাহানিরা। এমন স্কোয়াড নিয়ে দলটি ঠিক কোন পর্যন্ত যেতে পারবে সেটার জানতে অপেক্ষা করতে হবে টুর্নামেন্টের প্লে অফ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত।
ফিরেই চমক দেখানোর অপেক্ষা চট্টগ্রাম
লম্বা বিরতি দিয়ে চলতি বছর বিপিএলে ফিরেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের দল চিটাগং কিংস। দেশিদের মধ্যে সাকিব আল হাসানকে দলে ভিড়িয়ে চমক দেখিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তাকে না পাওয়ার ব্যাপারটি নিশ্চিত হয়েছে। তার বদলি হিসেবে এখনো কাউকে দলে ভেড়ায়নি তারা। সাকিব ছাড়া দেশি বড় কোনো নাম ছিল না চিটাগং কিংসের স্কোয়াডে। শামীম হোসেন পাটোয়ারি, পারভেজ হোসেন ইমন, শেখ পারভেজ জীবন, মারুফ মৃধাদের মতো তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে স্কোয়াড সাজিয়েছে তারা। তবে তাদের বোলিং ইউনিট পুরোপুরি দেশিদের ওপর নির্ভর করছে। শরিফুল ইসলামের পাশাপাশি খালেদ আহমেদ, মারুফ মৃধা ও আলিস আল ইসলামরা থাকছেন বোলিং আক্রমণে। দেশি বড় নামের অভাব বিদেশিদের দিয়ে মেটানোর চেষ্টা করেছে চিটাগং কিংস। ইংলিশ তারকা মঈন আলী, মোহাম্মদ ওয়াসিমদের দলে ভিড়িয়েছে। এ ছাড়া বিনুরা ফার্নান্দো, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসদের মতো তারকা ক্রিকেটারদের দেখা যাবে চিটাগং কিংসের জার্সিতে।
বিদেশিরাই রাজশাহীর শক্তি
জিসান আলম, তাসকিন আহমেদ, আকবর আলী ও এনামুল হক বিজয়- এই চার ক্রিকেটারের বাইরে দেশি কোনো বড় নাম নিজেদের ডেরায় নিতে পারেনি নবাগত দুর্বার রাজশাহী। দেশি ক্রিকেটারদের শক্তির ঘাটতি মেটাতে বিদেশিদের ওপর নির্ভর করছে দলটি। সে কারণে বিলাল খান, রায়ান বার্ল ও মোহাম্মদ হ্যারিসদের মতো তারকাদের দলে ভিড়িয়েছে। এ ছাড়া কোচ হিসেবে ইজাজ আহমেদের মতো বড় নাম দলে ভিড়িয়েছে দুর্বার রাজশাহী। তবে শক্তিমত্তার চেয়ে অন্যদের চেয়ে অনেকটা পিছিয়ে থাকায় শেষ পর্যন্ত দলটি টুর্নামেন্টে কেমন করতে পারে সেটাই এখন পর্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ। যদিও দলটির সম্ভাব্য অধিনায়ক আকবর আলি জানান, তিনি আশাবাদী এই দল নিয়ে ভালো কিছু করা সম্ভব হবে। দেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে রাজশাহী স্কোয়াডে আরও আছেন ইয়াসির আলী রাব্বি, সাব্বির হোসেন, এসএম মেহরব ও হাসান মুরাদদের মতো তরুণ ক্রিকেটাররা।
তরুণদের নিয়ে আশাবাদী সিলেট
হেড কোচ হিসেবে সিলেটে মাহমুদ ইমনকে নিয়োগ দিয়েছে সিলেট স্ট্রাইকার্স। মাশরাফি বিন মর্তুজাকে কেন্দ্র করে দল সাজানো হলেও শেষ পর্যন্ত তার খেলা হচ্ছে না। তবে ঘরোয়া লিগের বেশ অভিজ্ঞ কয়েকজন ক্রিকেটার আছে সিলেট দলে। তারা হলেন- রনি তালুকদার, আল আমিন হোসেন, নিহাদুজ্জামান, নাহিদুল ইসলামরা। এ ছাড়া তরুণদের মধ্যে আছেন জাকের আলী অনিক, জাকির হাসান, তানজিম হাসান সাকিবরা। বিপিএলের অন্য দলগুলোর মতো দেশি বড় নাম থাকায় খানিকটা ভুগতে হতে পারে। সেই ঘাটতি মেটাতে সামিউল্লাহ শেনওয়ারি, রিস টপলি, পল স্টার্লিং ও রাহকিম কর্নওয়ালরা আছেন দলে। বিদেশিদের ওপর নির্ভরশীল দলটি ফের শিরোপার দৌড়ে থাকতে পারবে কি না সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। শিরোপার লক্ষ্যে খেলতে নামা দলটি আরও বেশ কয়েকজন বিদেশি ক্রিকেটারকে দলে ভেড়াতে বলে জানা গেছে।
ভালো খেলার লক্ষ্য খুলনার
বিপিএলের একমাত্র দল হিসেবে গতকাল পর্যন্ত অনুশীলন করেনি খুলনা টাইগার্স। আজ থেকে দলটি বিপিএলের প্রস্তুতি শুরু করবে। দেরিতে প্রস্তুতি শুরু করা দলটিতে আছেন হাসান মাহমুদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাসুম আহমেদ, নাঈম শেখ ও আফিফ হোসেন ধ্রুবর মতো ক্রিকেটাররা। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ছন্দে থাকা আবু হায়দার রনিকে দেখা যাবে খুলনা টাইগার্সের জার্সিতে। পাশাপাশি আছেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। জাতীয় দলের মাত্র তিন নিয়মিত মুখি নিয়ে স্কোয়াড সাজানো খুলনা টাইগার্সে আছেন পাকিস্তানি তারকা মোহাম্মদ হাসনাইন ও ক্যারিবিয়ান লুইস গ্রেগরি। তাদের পাশাপাশি ওশানে থমাস ও দারউইশ রসুলিরা আছেন দলটিতে। দেশি-বিদেশি বড় কোনো তারকা না থাকা দলটি গতবারও খেলতে পারেনি প্লে অফে। এবার ঠিক কতদূর যাবে সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

