আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

বিধ্বংসী নাহিদে চুরমার পাকিস্তানের ব্যাটিং

স্পোর্টস রিপোর্টার

বিধ্বংসী নাহিদে চুরমার পাকিস্তানের ব্যাটিং

পাওয়ার প্লেতে পাকিস্তানের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৪১ রান। পরের ৪০ রান তুলতে দলটি হারিয়ে বসে আরো ৭ উইকেট। তখন পাকিস্তানের ইনিংসের বয়স মাত্র ২৩ ওভার। ততক্ষণে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। স্পষ্ট হয়ে ওঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে এ ম্যাচে ফিরে আসা অসম্ভব। পাকিস্তানকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেওয়ার একমাত্র নায়ক পেসার নাহিদ রানা। বল হাতে নিজের প্রথম ওভারেই পূর্ণ করেন ফাইফার। আগের পাঁচ ওয়ানডেতে ৫ উইকেট শিকার করা নাহিদ নিজের ষষ্ঠ ম্যাচেই শিকার করেন ফাইফার। ম্যাচ শেষে তার বোলিং ফিগার ৭ ওভারে ২৪ রান খরচায় ৫ উইকেট। অন্তত ৫ উইকেট শিকার করেছেন এমন বাংলাদেশি পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে কম রান খরচ করার রেকর্ড এখন তার দখলে।

নাহিদের বিধ্বংসী বোলিংয়ের সূচনা ম্যাচের দশম ওভারে। নিজের প্রথম ওভারে বোলিং করতে আসা এই ডানহাতি পেসার শুরু থেকেই ছিলেন আগ্রাসী। বাউন্স আর সুইংয়ে বারবারই পরাস্ত করছিলেন পাকিস্তানি বোলারদের। সেই সাফল্যটা পান দশম ওভারের শেষ বলেই। তার বাউন্সারে পরাস্ত হয়ে সাহিবজাদা ফারহান ফেরেন প্যাভিলিয়নে। বাউন্সার বলে পয়েন্টের দিকে শট হাঁকিয়ে বাউন্ডারি হাঁকাতে চেয়েছিলেন ফর্মে থাকা এই ব্যাটার। তবে এ দফায় আর পারেননি। পয়েন্টে থাকা আফিফ হোসেনের হাতে ধরা পড়ে ফেরেন ড্রেসিংরুমে।

বিজ্ঞাপন

নাহিদের বলে দ্বিতীয় সাফল্য আসে ১২তম ওভারে। এবার ফেরেন আরেক অভিষিক্ত শ্যামিল হোসেন। নাহিদের করা ১৪০ গতির ওই বলে টপ এজ হয়ে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে ক্যাচ তুলে দেন। তৃতীয় সাফল্য ১৪তম ওভারে। এবার ফেরেন আরেক অভিষিক্ত ও ওপেনার মাজ সাদাকাত। এবারও শর্ট বল। তিনিও আউট টপ এজ হয়ে। এবার ক্যাচ তালুবন্দি করেন সাইফ হাসান।

টপঅর্ডারের তিন ব্যাটারকে প্যাভিলিয়নে ফেরান নিজের প্রথম তিন ওভারে। মজার বিষয় হলো, তিনজনই আউট হয়েছেন বাউন্সারে বিধ্বস্ত হয়ে। বাউন্সার, গতি আর সুইংÑতাতেই যেন চোখে সরিষা ফুল দেখার শুরু পাকিস্তানের ব্যাটারদের। টপঅর্ডারের তিন ব্যাটার প্যাভিলিয়নে ফেরায় ততক্ষণে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৫৫ রান।

নাহিদ রানা যখন নিজের চতুর্থ উইকেট শিকার করেন, ততক্ষণ পাকিস্তানের জন্য ছিল ম্যাচে ফেরার সুযোগ। তবে সে সুযোগ আর দেননি নাহিদ। প্রথম তিন উইকেট বাউন্সারে নিলেও এবার তার শিকার লেন্থ বলে। খানিকটা অ্যাঙ্গেলে যাওয়া সেই লেন্থ বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলে দেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। ম্যাচে পাকিস্তানের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের এমন ভুলই প্রমাণ করে দেয়, তাদের জন্য জয়ের সামান্যতম আশা নেই। খানিকটা ডানে লাফ দিয়ে দারুণ এক ক্যাচ তালুবন্দি করেন লিটন।

ম্যাচের ১৮তম ওভারে নিজের পঞ্চম ও শেষ উইকেট শিকার করেন নাহিদ রানা। এবার ফেরান সালমান অঘাকে। নিচু হয়ে যাওয়া বলে ফ্লিকের চেষ্টা করেছিলেন সালমান। তবে শর্ট স্কয়ার লেগে দাঁড়ানো তানজিদ হাসান তামিম দারুণ এক ক্যাচ তালুবন্দি করে নেন। এমন ক্যাচের দেখা সাধারণ টেস্ট ক্রিকেটে মিললেও সালমান অঘার সৌজন্যে এবার তা দেখা গেল ওয়ানডেতে। ততক্ষণে নাহিদ রানার বোলিং ফিগার ৫-০-১৮-৫! অর্থাৎ প্রতি ওভারেই অন্তত একটি করে উইকেট শিকার করেছেন নাহিদ।

পরে আরো দুই ওভার বোলিং করার সুযোগ হয়েছিল তরুণ এই পেসারের। তবে শেষ পর্যন্ত আর উইকেট নিতে পারেননি। উইকেট শিকার করতে না পারলেও তার দারুণ বোলিংয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত বোলিং কোচ শন টেইট। তিনি বলেন, ‘এমন দারুণ স্পেল কমই দেখেছি। কিন্তু বাংলাদেশের বোলারদের কাছ থেকে এমন কখনো দেখিনি। নাহিদ রানা ব্যতিক্রম।’ অবশ্য তাকে ঘিরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করাটাই স্বাভাবিক। কারণ, ৪২ বলের মধ্যে ৩০টিই যে ছিল ডট।

এমন দারুণ বোলিং করা নাহিদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ টেইট মনে করেন, এমন উইকেটে আরো বেশি খেলা উচিত বাংলাদেশের। শেষ পর্যন্ত নাহিদের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত হয়ে এমন উইকেটে খেলার অভ্যাসটা ধরে রাখে কি না, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। নাহিদের দারুণ বোলিংয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৮ উইকেটের জয় পেয়েছে ২০৯ বল হাতে রেখে। নাহিদের এ সাফল্যের দিনে মেহেদি হাসান মিরাজ ২৯ রানে তিনটি এবং তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান শিকার করেন একটি করে উইকেট।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন