কয়েক দফায় বৈঠক করেও বিদ্রোহী নারী ফুটবলারদের মাঠে ফেরাতে পারেননি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল। এখন পর্যন্ত ইংলিশ কোচ পিটার বাটলারের অনুশীলন বয়কটের সিদ্ধান্তে নিজেদের অবস্থানে অটল আছেন অধিনায়ক সাবিনা খাতুনসহ সিনিয়র দলের ১৮ নারী ফুটবলার। অবশ্য বিশেষ তদন্ত কমিটির রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নারী ফুটবলের সংকট নিরসনের জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বাফুফে। সর্বশেষ বাফুফের অবস্থান সম্পর্কে তাবিথ আউয়াল আমার দেশকে বলেছেন, ‘আমরা সবাই ধৈর্য ধরি। আমাদের সামনে দীর্ঘ পথ রয়েছে। ইনশাআল্লাহ আমরা সমস্যার সমাধান করব এবং সবাই এক সঙ্গে এগিয়ে যাব।’
২৯ জানুয়ারি থেকে নারী ফুটবলে এই সংকটের শুরু। সেদিনই অধিনায়ক সাবিনা খাতুনসহ সিনিয়র দলের ১৮ নারী ফুটবলার সাংবাদিকদের ডেকে সাফ জানিয়ে দেন, এই কোচের অধীনে তারা অনুশীলনে অংশ নেবেন না। নানা সময়ে নানাভাবে কোচের ব্যবহারে তারা মানসিক যন্ত্রণায় ছিলেন, এমন অবস্থায় এই কোচের নেতৃত্ব মেনে নিতে চান না তারা।
২৯ জানুয়ারিতে শুরু হওয়া এই সমস্যা সমাধানের জন্য বাফুফে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আজ ১৭ দিন হতে চলল, সেই সমস্যার আপাত কোন সমাধান খুঁজে পায়নি বাফুফে।
নারী ফুটবলের সংকটের মধ্যেই ৩৬ নারী ফুটবলারকে নতুন করে চুক্তির আওতায় এনেছে বাফুফে। আরো ১৯ জনের সঙ্গে চুক্তি হবে। এর মধ্যে মাঠে না ফেরা সাবিনাদের চুক্তির বিষয়টি ঝুলে রয়েছে। তবে এখনো চুক্তির পথ বন্ধ হয়ে যায়নি তাদের। বাফুফে নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ আমার দেশকে বলেন, ‘এখনো সাবিনাদের ফেরার পথ খোলা আছে।’
সাফজয়ী নারী ফুটবল দলের সামনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ রয়েছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি ও ২ মার্চ আমিরাতে ম্যাচ দুটি হবে। এই ম্যাচ সামনে রেখে ৩৬ ফুটবলার নিয়ে অনুশীলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন আলোচিত কোচ বাটলার। আপাতত সাবিনাদের নিয়ে ভাবছেন না এই কোচ। নতুনদের দিকেই বেশি মনোযোগী হচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত সাবিনাদের ছাড়াই তাহলে আমিরাতে খেলবে যাবে বাংলাদেশ? কিরণ জানান, ‘এটা ১৫ তারিখের আগে বলতে পারছি না।’ বাফুফে সভাপতি আগেই বলে দিয়েছেন, যারা অনুশীলনে যোগ দেবেন, তাদের চুক্তির নবায়ন হবে। তারা চান ১৮ ফুটবলার মাঠে ফিরুক। তাদের হারাতে চায় না বাফুফে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

