সাধারণ কোনো টুর্নামেন্ট খেলতে যাওয়ার আগে কিংবা খেলতে নামার আগে কোচ ও খেলোয়াড়দের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন হয়ে থাকে। কিন্তু এই অলিখিত রীতিটা দেখা গেল না বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলের ক্ষেত্রে। এই দলটি ২০২৭ এশিয়ান কাপ বাছাই পর্ব অংশ নিতে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উজবেকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হয়। এর আগে খুবই অল্প সময়ের এক নোটিসে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাফুফে। কিন্তু এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না দলের প্রধান কোচ, সহকারী কোচ কিংবা কোনো ফুটবলার! সংবাদ মাধ্যমে সামনে দলের পক্ষ থেকে কথা বলেছেন টিম ম্যানেজার সামিদ কাশেম ও বাফুফের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর সাইফুল বারী টিটু।
সংবাদ সম্মেলনে কোচ-খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতির ঘটনাটি বেশ আলোচিত হচ্ছে ফুটবলপাড়ায়। এই আলোচনার রসদ জোগাচ্ছে সম্প্রতি মাঠের বাইরে ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি ঘটনা। আর এই ঘটনার কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছেন অনূর্ধ্ব-২০ দলের প্রধান কোচ জেরার্ড জোনস। কিছু দিন আগে বেতন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ, নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ করেন এই ইংলিশ কোচ। পরে তার সঙ্গে সহকারী কোচের কথা কাটাকাটির পর হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। জোনস ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে পুলিশ ডাকেন। ওই ঘটনার তদন্ত চলছে। এসব নাটকীতার কারণেই কি কোচ ও খেলোয়াড়দের আড়াল করে রাখল বাফুফে? টিম ম্যানেজার সামিদ কাশেম জানালেন, ‘যেহেতু একটা ঘটনা ঘটেছে, সেটার তদন্তও চলছে। এই পরিস্থিতিতে আমরা চাইনি কোচদের মিডিয়ার মুখোমুখি করতে।’
প্রধান ও সহকারী কোচের বিরোধ প্রকাশ্যে আসার পর যুব দলের মধ্যে সৃষ্ট পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সামিদ কাশেম বলেন, ‘কোচ ও খেলোয়াড়দের মনোযোগে যেন বিঘ্ন না ঘটে, এজন্য কোচ এখানে নেই। এটা আমাদের সাধারণ রীতি নয়। এজন্য ম্যানেজার হিসেবে আমি দুঃখিত।’ কোচদের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকলেও দলের পরিবেশ ভালো আছে বলে দাবি করেন সামিদ। তার মতে, দল ভালোভাবে প্রস্তুত হয়েছে। খেলোয়াড়রা সবাই একটি দল হিসেবে খেলছে। কোচ জোনস দলকে নিয়ে বেশ আশাবাদী। প্রত্যাশিত ফল পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। অনূর্ধ্ব-২০ দলের অভিন্ন লক্ষ্য হলো টুর্নামেন্টের মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়ার। আগামী ৩১ আগস্ট উজবেকিস্তানে শুরু হবে এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের খেলা। বাংলাদেশের গ্রুপে স্বাগতিক উজবেকিস্তান ছাড়াও রয়েছে ভারত ও সিরিয়া।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

