বিশ্বের সমুদ্রগুলোর তাপমাত্রা রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত শনিবার সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা ২১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, এটি সমুদ্রের সর্বোচ্চ রেকর্ড করা তাপমাত্রা।
আগস্টে এ ধরনের রেকর্ড বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। সাধারণত বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা মার্চ ও এপ্রিলে সর্বোচ্চ থাকে। এর আগে সর্বোচ্চ দৈনিক গড় তাপমাত্রার রেকর্ড ছিল ২১ দশমিক ০৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ২০২৪ সালের মার্চে রেকর্ড করা হয়েছিল।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়ছে। এর সঙ্গে বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় উষ্ণতা আরও বেড়েছে। তবে এই রেকর্ডের জন্য শুধু এল নিনোকে দায়ী করা যাবে না।
সমুদ্র পৃথিবীর অতিরিক্ত তাপের ৯০ শতাংশেরও বেশি শোষণ করে। ফলে সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়ার অর্থ হলো পৃথিবীর জলবায়ু ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়া। উষ্ণ সমুদ্র সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়াতে পারে এবং ঝড় ও সামুদ্রিক তাপপ্রবাহকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
এতে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যও বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ছে। প্রবাল, সামুদ্রিক ঘাস ও বিভিন্ন মাছের প্রজাতি অতিরিক্ত উষ্ণ পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মাছের বিচরণক্ষেত্র পরিবর্তিত হওয়ায় মৎস্যজীবী ও উপকূলীয় মানুষের জীবিকাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
বিজ্ঞানীদের আরেকটি উদ্বেগ হলো, উষ্ণ সমুদ্র বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণে তুলনামূলকভাবে কম কার্যকর হয়ে পড়ে। এতে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সমুদ্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে কার্বন নিঃসরণ দ্রুত কমানো ছাড়া এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ সীমিত। সমুদ্র ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, ইউরোনিউজ ও সায়েন্টিফিক আমেরিকান
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


