শেষ ভালো যার, সব ভালো তার। সিরিজের শেষ ম্যাচে জয় নিশ্চিত করে সে কথাটার যথার্থতাই প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর বাংলাদেশ দলের উদযাপনে অন্তত তা-ই মনে হয়েছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে এ জয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশের ব্যাটিং-বোলিং ইউনিট। ফিল্ডিংয়ে ঠিকঠাক নিজেদের প্রমাণ করতে না পারলেও ব্যাটিং-বোলিংয়ে অসাধারণ ছিল বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের প্রস্তুতিটা এমন দারুণ সিরিজ জয়ে শুরু করতে পারায় বেশ আত্মবিশ্বাসী লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা।
ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে বল হাতে দারুণ ছন্দে ছিলেন নাহিদ রানা। তিন ম্যাচে তার শিকার ছিল আট উইকেট। পাশাপাশি নিজেকে প্রমাণ করেছেন আরেক পেসার তাসকিন আহমেদও। তিন ম্যাচে তার শিকার ছিল ছয় উইকেট। অন্যদিকে ব্যাট হাতে পুরো সিরিজে দাপুটে ছিলেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। একটি করে সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরিতে তিন ম্যাচে তামিমের ব্যাটে এসেছে ১৭৫ রান। দারুণ খেলা তানজিদের পুরো সিরিজে স্ট্রাইক রেট ছিল দারুণ। খেলেছেন ১১২.১৭ স্ট্রাইক রেটে।
তানজিদের ব্যাটিং নিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলা গেলেও টপ অর্ডারে নাজমুল হোসেন শান্তর রান না পাওয়া তৈরি করবে অস্বস্তি। পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের দুটিতে ভালো শুরু পেলেও বড় করতে পারেননি নিজের ইনিংস। একই ঘটনা লিটন দাসের ক্ষেত্রেও। তিন ম্যাচের এক ইনিংসে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাননি। বাকি দুই ম্যাচে ফিফটি করার সুযোগ থাকলেও করতে পারেননি লিটন। ফলে মিডল অর্ডার নিয়ে বাড়তি চিন্তা থেকেই যাচ্ছে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টের।
কিছু কিছু জায়গায় সমস্যা থাকলেও আপাতত সেসব নিয়ে চিন্তা নেই অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজের। দল হিসেবে ভালো খেলায় আপাতত চিন্তামুক্ত তিনি। মিরাজের কথায়, ‘সব মিলিয়ে সবাই অনেক দল হিসেবে খেলেছে। আমার কাছে মনে হয় নাহিদ রানা খুবই ভালো বোলিং করেছে। ও শেষ সিরিজে কিন্তু দলে ছিল না। দলে এসে আবার কামব্যাক করেছে এবং ভালো করেছে। প্রথম ম্যাচে প্রথম পাঁচ উইকেট পেয়েছে এবং তাসকিন ও মোস্তাফিজ অনেক ভালো বোলিং করেছে। আমার কাছে মনে হয় বোলাররা তাদের ডিউটিটা খুব ভালোভাবে মেইনটেইন করেছে।’
মিরাজ আরো যোগ করেন, ‘আমাদের কিছু জায়গায় ঘাটতি আছে। ব্যাটারদের আরো দায়িত্ব নিতে হবে। আমার কাছে মনে হয় আমরা যদি ট্রু বা ভালো উইকেটে খেলি, ব্যাটাররা অনেক আত্মবিশ্বাস পাবে। দেখেন, আমরা পাকিস্তান সিরিজ খেলেছি কিন্তু ট্রু উইকেটে খেলেছি এবং ব্যাটসম্যানরা এখানে রান পেয়েছে। আমরা ওইভাবেই পরিকল্পনা করছি।’
পাকিস্তানকে হারিয়ে প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জন করা বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজের চাওয়া পরের ম্যাচগুলোতেও একই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের মাথায় রাখতে হবে ২০২৭ বিশ্বকাপে আমাদের কোয়ালিফাই করতে হবে। এর জন্য কিন্তু প্রত্যেকটি সিরিজ, প্রত্যেকটি ম্যাচ আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ওইভাবেই চিন্তা করব কীভাবে আমরা সিরিজ জিততে পারি, ম্যাচ জিততে পারি।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

