সমুদ্রভিত্তিক সামরিক সক্ষমতা নিয়ে উঠেছে নতুন প্রশ্ন

একের পর এক সংকটে বাড়তি চাপে মার্কিন নৌবাহিনী

একের পর এক সংকটে বাড়তি চাপে মার্কিন নৌবাহিনী

একের পর এক সমস্যায় চাপে পড়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সমুদ্রভিত্তিক সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। জাহাজ নির্মাণে দীর্ঘসূত্রতা, কারিগরি ত্রুটি, দুর্ঘটনা, দীর্ঘ সময় মোতায়েন এবং নাবিকদের ওপর বাড়তি চাপ নিয়ে বাড়ছে সমালোচনা।

সম্প্রতি দক্ষিণ চীন সাগরে নিয়মিত অভিযানের সময় মার্কিন গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস বেনফোল্ডে গুরুতর কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। গত ২৪ জুলাই জাহাজটির জেনারেটর বিকল হয়ে চার দিন বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকতে হয়। এতে খাবার সরবরাহ, শৌচাগার, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। ঘটনার কারণ তদন্ত করছে মার্কিন নৌবাহিনী।

বিজ্ঞাপন

এদিকে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন যুদ্ধজাহাজে থাকা প্রায় ৫ হাজার নৌসদস্য দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান করছেন। গত নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া মোতায়েন কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে এবং জাহাজটি ২৫০ দিনের বেশি সময় সমুদ্রে রয়েছে। খাবারের সংকট, পানির সমস্যা, নষ্ট পাইপলাইন ও নাবিকদের ক্লান্তি বেড়েছে। যদিও মার্কিন নৌবাহিনী এসব অভিযোগের কিছু অংশ অস্বীকার করেছে।

অন্যদিকে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডে গত মার্চে আগুন লাগার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় আনে। জাহাজটির লন্ড্রি এলাকায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। এতে দুই নাবিক আহত হন এবং ধোঁয়ায় অসুস্থ হন আরও অনেকে।

ইউএসএস হ্যারি এস ট্রুম্যানও গত বছর কয়েকটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। মিসরের পোর্ট সাঈদের কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষের পাশাপাশি লোহিত সাগরে দুটি এফ/এ-১৮ যুদ্ধবিমান হারানোর ঘটনা ঘটে। তদন্তে দুর্বল যোগাযোগ, সীমিত প্রশিক্ষণ ও অতিরিক্ত চাপের বিষয়টি উঠে আসে। এসব দুর্ঘটনায় ১০ কোটি ডলারের বেশি ক্ষতি হয়েছে।

সমস্যা শুধু সমুদ্রে থাকা জাহাজেই সীমাবদ্ধ নয়। মার্কিন সরকারি হিসাব পর্যবেক্ষণ সংস্থা জিএওর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই দশকে জাহাজ নির্মাণে বাজেট প্রায় দ্বিগুণ হলেও মার্কিন নৌবহরের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধজাহাজ প্রকল্পে দীর্ঘ বিলম্ব ও ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে চীনের নৌবাহিনীর দ্রুত সম্প্রসারণ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করছে। মার্কিন নৌ গোয়েন্দা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চীনের নৌবহরে ৩৭০টির বেশি জাহাজ রয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহরে কয়েক বছর ধরে ৩০০টিরও কম জাহাজ রয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন, রক্ষণাবেক্ষণ সমস্যা, জাহাজ নির্মাণে বিলম্ব এবং নাবিকদের ওপর বাড়তি চাপ—সব মিলিয়ে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী এই নৌবাহিনী এখন একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন