কাবাডি ও ক্রিকেটে পদক জয়ের দিন আজ

কাবাডি ও ক্রিকেটে পদক জয়ের দিন আজ

দুই ম্যাচে দুই জয়। একটিতে দক্ষিণ কোরিয়া, অন্যটিতে চাইনিজ তাইপে। দ্বিতীয় ম্যাচে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা। মাত্র এক পয়েন্টের জয়। সেই রোমাঞ্চের রেশ কাটতে না কাটতেই আজ সামনে আরো বড় পরীক্ষা। জাপানকে হারালেই নিশ্চিত হবে অন্তত ব্রোঞ্জ। আর একই দিনে নারী ক্রিকেট দলও নামছে ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে। প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। অর্থাৎ নাগোয়া এশিয়ান গেমসে আজ বাংলাদেশের সামনে একসঙ্গে দুই পদকের দরজা।

গতকাল সোমবারের হতাশার ভিড়ে তাই কাবাডিই হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশের একমাত্র স্বস্তির জায়গা। আজ সেই কাবাডির সঙ্গে যোগ হয়েছে নারী ক্রিকেট। এই দুটি জয়ের হাতছানি। দুটি পদকের সম্ভাবনা। এশিয়ান গেমসের ব্যস্ত দিনে লাল-সবুজের জন্য তাই আজকের দিনটি হতে পারে আনন্দের।

বিজ্ঞাপন

গতকাল সকালে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে দিনের শুরুটা ভালোই করেছিল পুরুষ কাবাডি দল। জয় এসেছে ৩৯-৩৫ পয়েন্টে। প্রথমার্ধে ১৭-১৬ পয়েন্টে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ দ্বিতীয়ার্ধে যোগ করেছে আরো ২২ পয়েন্ট।

এরপরের ম্যাচেই ছিল আসল রোমাঞ্চ। গত আসরে চাইনিজ তাইপের কাছে হারের স্মৃতি ছিল বাংলাদেশের সামনে। এবার সেই হারের জবাব দেওয়ার সুযোগ। প্রথমার্ধে ২৪-২০ পয়েন্টে এগিয়েও স্বস্তিতে থাকতে পারেনি বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচে ফিরে আসে চাইনিজ তাইপে। একসময় স্কোর দাঁড়ায় ৩৭-৩৭। শেষ মুহূর্তে স্নায়ুর চাপ আর উত্তেজনার মধ্যেই এক পয়েন্টের ব্যবধানে ম্যাচ বের করে নেয় বাংলাদেশ। শেষ স্কোর ৪৮-৪৭। জয়ের ব্যবধানই বলে দিচ্ছে, কতটা জমাট ছিল লড়াই। শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে আনন্দে ফেটে পড়েন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা।

দুই ম্যাচে দুই জয়ে বাংলাদেশের পয়েন্ট এখন চার। এ গ্রুপের শীর্ষেও লাল-সবুজের দল। দুই ম্যাচে বাংলাদেশ করেছে ৮৭ পয়েন্ট, বিপরীতে প্রতিপক্ষের সংগ্রহ ৮২। আজ বিকাল ৪টায় জাপানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। জিতলেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত, সঙ্গে নিশ্চিত হবে অন্তত ব্রোঞ্জ। ২৩ সেপ্টেম্বর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ ভারত। শক্তিশালী ভারতই হবে গ্রুপের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।

কাবাডিতে বাংলাদেশের অতীতও কম সমৃদ্ধ নয়। ১৯৯৮ সালের ব্যাংকক এশিয়ান গেমসে এসেছিল ব্রোঞ্জ। ২০০৬ সালের দোহা আসরেও মিলেছিল একই সাফল্য। এরপর টানা চার আসরে খালি হাতে ফিরেছে বাংলাদেশ। দুই দশকের সেই আক্ষেপ কি এবার ঘুচবে? নাগোয়ার মাটিতে আজকের ম্যাচেই মিলতে পারে সেই প্রশ্নের উত্তর।

নারী ক্রিকেট দলও আজ নামছে পদকের লড়াইয়ে। পাকিস্তানকে হারাতে পারলেই গলায় উঠবে ব্রোঞ্জ। ফলে একই দিনে দুই ইভেন্টে বাংলাদেশের সামনে পদকের সুযোগ। প্রত্যাশা তাই বাড়তি। নজরও বাড়তি। উত্তেজনাও বাড়তি।

তবে কাবাডি ছাড়া গতকাল গেমসের বাকি ইভেন্টগুলোতে বাংলাদেশের দিন কেটেছে হতাশা আর হারে। সম্ভাবনাময় ১০ মিটার এয়ার রাইফেলেও বড় ধাক্কা এসেছে। তিন শুটারের কেউই বাছাই পর্ব পেরোতে পারেননি। অর্ণব শারার সঙ্গে থেমেছেন রবিউল ইসলাম ও রাব্বি হাসান মুন্নাও।

ব্যাডমিন্টনে হেরেছেন আয়মান ইবনে জামান, গৌরব সিংহ ও আল আমিন জুমার। তিনজনই এককে হেরেছেন ৩-০ ব্যবধানে। ফলে দ্বৈতে নামার সুযোগই হয়নি দুই জুটির। ব্যাডমিন্টনে প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির ফারাক বিশাল!

কারাতের ৬৭ কেজি ওজন শ্রেণিতে মনিরুল ইসলাম হেরেছেন কাতারের ইয়ামান আলনাতশেহরের কাছে ৮-৩ পয়েন্টে। নারী ৬১ কেজিতে হুমায়রা আক্তার অন্তরাও হার মেনেছেন কাজাখস্তানের কানায় আসেলের কাছে, ৯-১ ব্যবধানে। লড়াইটি ছিল প্রায় পুরোপুরি একতরফা। জুরিদের কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েও ছিল বিস্ময়।

টেবিল টেনিসে তিন নারী প্রতিযোগীই উত্তর কোরিয়ার প্রতিপক্ষের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হেরেছেন। সাঁতারে ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইলে নিজের হিটে ষষ্ঠ হয়েছেন মোহাম্মদ ইসলাম। উশুতে ১৫ জনের মধ্যে ১৫তম হয়েছেন রুদ্র বিপ্লব।

নারী হকিতেও হার। মালয়েশিয়ার কাছে ৩-১ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে চীনের কাছে হারতে হয়েছিল ১৩-০ গোলে। একমাত্র জিমন্যাস্ট রাজীব চাকমাও প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি।

হতাশার সেই দিন পেরিয়ে আজ সামনে নতুন সকাল। একদিকে কাবাডির সেমিফাইনাল ও ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করার হাতছানি, অন্যদিকে নারী ক্রিকেটে পদকের লড়াই। দিনের শেষে বাংলাদেশের হিসাবটা তাই খুব সহজ—দুটি ম্যাচ, দুটি জয়, আর গলায় দুটি পদক। নাগোয়ার মাটিতে আজ বাংলাদেশের জন্য সেই আনন্দের দিনই হোক।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন